এ বার গবেষণা করাতে পারবেন কলেজ শিক্ষকেরাও। ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকারা যাতে গবেষক পড়ুয়াদের প্রশিক্ষক হিসাবে নিযুক্ত হতে পারেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
গত কয়েক বছরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় অধীনস্থ বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষেরা দাবি করছিলেন, কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও পিএইচডি-র দায়িত্ব দেওয়া হোক। এ বার সে দাবিতে সিলমোহর দিতে চলেছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়।
এর আগে ২০২২–এ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কিছু নির্দেশিকা জারি করেছিল, যাতে কলেজের শিক্ষক–শিক্ষিকারা পিএইচডি করাতে পারেন। কিন্তু সে সময় তা কার্যকর করেনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। এ দিকে পিএইচডি করতে চেয়ে বিফল হচ্ছেন অনেক পড়ুয়াই। অভিযোগ, তাঁরা প্রশিক্ষক বা গাইড পাচ্ছেন না। সেই সঙ্কট কাটাতেই উদ্যোগী হল বিশ্ববিদ্যালয়।
আরও পড়ুন:
নিউ আলিপুর কলেজের অধ্যক্ষ জয়দীপ ষড়ঙ্গী বলেন, “নয়া শিক্ষানীতি অনুযায়ী চার বছরের অনার্স কোর্সের শেষ বছরে গবেষণা করাতে হবে। তাই আমাদের দাবি ছিল কলেজের অধ্যক্ষ এবং পিএইচডি প্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এ অধিকার দেওয়া হোক। সেই আবেদনে সাড়া দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।”
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, শীঘ্রই ২০২২–এর ইউজিসির বিধিও প্রকাশ করতে চলেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেখানে উল্লেখ করা হবে পিএইচডি-র প্রশিক্ষক হওয়ার জন্য কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কোন যোগ্যতা থাকতে হবে।
ইউজিসি-র নির্দেশিকা অনুযায়ী, পিএইচডি করাতে পারেন কলেজের স্থায়ী শিক্ষক–শিক্ষিকারা। প্রফেসর এবং অ্যাসোসিয়েট প্রফেসরদের পিএইচডি ডিগ্রি থাকতে হবে এবং অন্তত ৫টি গবেষণাপত্র পিআর-রিভিউড বা ইউজিসি-তালিকাভুক্ত জার্নালে প্রকাশিত হতে হবে। অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসরের ক্ষেত্রে অন্তত ৩টি গবেষণাপত্র থাকতে হবে। যে কলেজের শিক্ষক–শিক্ষিকারা পিএইচডি করাতে চাইছেন সেই কলেজে স্নাতকোত্তর শিক্ষাদানের ব্যবস্থা থাকতে হবে। কলেজে থাকতে হবে রিসার্চ সেন্টার। অবসরের মাত্র ২ বছর বাকি থাকলে কোনও শিক্ষক নতুন করে কোনও পিএইচডি গবেষকের সুপারভাইজার হতে পারবেন না।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ বলেন, “যে সব কলেজ শিক্ষকের অভিজ্ঞতা ও প্রথাগত ডিগ্রি রয়েছে তাঁদের এই অনুমতি দেওয়া হবে। তবে কলেজগুলির পরিকাঠামো থাকাও জরুরি। আসন্ন শিক্ষাবর্ষ থেকে এই নিয়ম চালু করা হবে।”