রাজ্যের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান স্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট-এ (আইএসআই) অধিকর্তা নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কাউন্সিল সদস্যেরা। নতুন অধিকর্তাকে নিয়ে কোনও অভিযোগ না থাকলেও অধিকর্তা বাছাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন কাউন্সিল সদস্যদের একাংশ।
সূত্রের খবর, কাউন্সিলের চেয়ারম্যান কোপ্পিলিল রাধাকৃষ্ণনকে ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে ই-মেল করা হয়েছে। যদিও কাউন্সিলের কোনও সদস্যই এই বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ। আইএসআই সূত্রের খবর, গত বছর জানুয়ারি থেকে অধিকর্তা বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সে সময় যিনি অধিকর্তা ছিলেন তাঁর মেয়াদ গত সেপ্টেম্বর মাসেই শেষ হওয়ার কথা। ঠিক তাঁর মেয়াদ শেষের পরেই যেন আইএসআই একজন স্থায়ী অধিকর্তা পেয়ে যায়, তার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।
কিন্তু অধিকর্তা বাছাইয়ে প্রক্রিয়া এতটাই মন্থর হয়ে যায় যে তৎকালীন ওই অধিকর্তার কার্যকালের মেয়াদ তিন মাস বৃদ্ধি করতে হয় বলে অভিযোগ। শুধু তা-ই নয়, বছর গড়িয়ে গেলেও স্থায়ী অধিকর্তা নিয়োগ করা যায়নি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে অন্য এক শিক্ষককে অস্থায়ী অধিকর্তা করা হয়।
অবশেষে আগামী এপ্রিল থেকে নতুন এবং আগামী ৫ বছরের জন্য স্থায়ী অধিকর্তা পেতে চলেছে প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশের এই প্রাচীন প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সেখানেও উঠল আপত্তির সুর।
ঠিক কোথায় আপত্তি?
কাউন্সিল সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানের নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে কাউন্সিলই সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী। এই কাউন্সিলে মোট ৩৩ জন সদস্য থাকেন। তার মধ্যে ১৩ জন এই প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তি। বাকি ২০ জনের মধ্যে থাকেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার প্রতিনিধি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁরা কেউই সরাসরি এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত নন।
নিয়ম অনুযায়ী, অধিকর্তা বাছাইয়ের জন্য যে তিন জনের কমিটি গঠন করা হয় সেটি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান কাউন্সিলের মধ্যে থেকেই গঠন করেন। শেষে কাউন্সিলের অনুমোদন নেন। এ ক্ষেত্রে সেটাই করা হয়নি বলে অভিযোগ।
দ্বিতীয় আপত্তির কারণটি হল, চলতি মাসে ওই কমিটি আইএসআই কলকাতার গণিতের অধ্যাপক অমর্ত্যকুমার দত্তকে ওই পদে বেছে নিয়ে সকলকে ই-মেল করে জানিয়ে দেয়। ওই ই-মেলেই সদস্যদের মতামত জানাতে বলা হয়। কাউন্সিলের এক সদস্য জানান, নিয়ম অনুযায়ী কাউন্সিলের বৈঠকে সকলের সঙ্গে আলোচনা করে স্থায়ী অধিকর্তা নিয়েগের কথা। কিন্তু তার বদলে কার্যত কাউন্সিলকে অন্ধকারে রেখে অধিকর্তা মনোনীত করা হয়েছে। এটা গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে বিপদজনক বলেই তাঁদের মত। অধ্যাপক অমর্ত্যকুমার দত্তের প্রতি সকলেরই আস্থা থাকায় তাঁর নাম নিয়ে বিরোধিতা করেননি কেউই। কিন্তু অধিকর্তা নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে অধিকাংশেরই আপত্তি রয়েছে।
গত কয়েক মাসে বার বার আইএসআই সদস্যেরা অভিযোগ তুলেছেন, কেন্দ্র যে নতুন বিল আনতে চলেছে সেখানে গণতন্ত্র ধ্বংস হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের একাংশের প্রশ্ন, সেই গণতন্ত্র অস্বীকার করার প্রক্রিয়া কি অধিকর্তা বাছাইয়ের মধ্যে দিয়ে শুরু হল?
আরও পড়ুন:
এই বিষয়ে কথা বলার জন্য কাউন্সিলের নন মেম্বার সেক্রেটারি অফ আইএসআই কাউন্সিল রবীন্দ্রকুমারকে ফোন করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। কাউন্সিলের চেয়ারম্যান কোপ্পিলিল রাধাকৃষ্ণনকে ই-মেল করা হলেও তাঁর জবাব মেলেনি।
আগামী ১ এপ্রিল নতুন অধিকর্তার কাজে যোগ দেওয়ার কথা। আইএসআই-এর এক শিক্ষক বলেন, ‘‘নতুন যিনি অধিকর্তা হচ্ছেন তাঁকে নিয়ে কারও কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু যে পদ্ধতিতে তাঁকে পদে বসানো হচ্ছে, তা নিয়ে অনেকের অপত্তি রয়েছে। এই বিতর্কটি নতুন অধিকর্তার জন্যও খুব একটা সম্মানের হল না।’’