Advertisement
E-Paper

ভোটের আগে স্কুলে রাখতে হবে সিসি ক্যামেরার নজরদারি! সরকারি নির্দেশ ঘিরে ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি

বিকাশ ভবন সূত্রের খবর, বুধবার সন্ধ্যায় স্কুলশিক্ষা কমিশনারের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সিসি ক্যামেরার নজরদারির জন্য সব ব্যবস্থা করতে। নির্বাচনের আগেই তা শুরু করে দিতে হবে। শিক্ষকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সিসি ক্যামেরা বসানো এবং নজরদারির জন্য সিসিটিভির ব্যবস্থা করা বেশ ব্যয় সাধ্য।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৬ ১৯:২১

— প্রতীকী চিত্র।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের সব স্কুলে ব্যবস্থা করতে হবে সিসি ক্যামেরা নজরদারির। এমনই নির্দেশ দিল স্কুলশিক্ষা দফতর। আর তার পরই কপালে চিন্তার ভাঁজ প্রধানশিক্ষকদের। তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশাও।

বুধবার সব জেলা পরিদর্শকদের কাছে একটি নির্দেশ গিয়েছে দফতরের তরফে। শিক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, নির্দেশিকায় যে হেতু সব স্কুলের কথা বলা হয়েছে, ফলে যে সব স্কুলে ক্যামেরা নেই, তাদেরও তা বসিয়ে নিতে হবে।

হিসাব বলছে, গত দু’টি শিক্ষাবর্ষে কিছু স্কুলে দফতরের তরফে ক্যামেরা বসানোর বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। অনেকে বলছেন, সেগুলি যেন সক্রিয় থাকে তার নির্দেশিকা জারি হয়েছে।

কিন্তু নির্দেশিকায় স্পষ্টতার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ। শিক্ষকদের একাংশের দাবি, অর্থসঙ্কটে অনেক সময় স্কুলের নিয়মিত কাজগুলিই করা যাচ্ছে না। তার উপর এই সিসি ক্যামেরার বাড়তি অর্থনৈতিক বোঝা চাপিয়ে দেওয়া অনৈতিক। রাজ্য স্কুলশিক্ষা দফতরকে অথবা, নির্বাচন কমিশন এই অর্থের বন্দোবস্ত করুক, এমনই দাবি তাঁদের।

বিকাশ ভবন সূত্রের খবর, বুধবার সন্ধ্যায় স্কুলশিক্ষা কমিশনারের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সিসি ক্যামেরার নজরদারির জন্য সব ব্যবস্থা করতে। নির্বাচনের আগেই তা শুরু করে দিতে হবে। কলকাতা সংলগ্ন এক জেলার স্কুল পরিদর্শক জানিয়েছেন, নির্দেশিকা নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বৈঠকের পর তা স্পষ্ট করে দেওয়া হবে।

শিক্ষকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সিসি ক্যামেরা বসানো এবং নজরদারির জন্য সিসিটিভির ব্যবস্থা করা বেশ ব্যয় সাধ্য। এমনিতেই ‘কম্পোজিট গ্রান্ট’-এর টাকা না পেয়ে স্কুলগুলির ভাঁড়ার শূন্য। তার উপরে এই বাড়তি বোঝা চাপালে স্কুলগুলি তা বহন করতে পারবে না।

বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন , “স্কুলের উপরে এই দায়িত্ব না দিয়ে নির্বাচন কমিশনই অর্থের ব্যবস্থা করুক। না হলে সব জেনে বুঝেও স্কুল কমিশনারেট দফতর থেকে যখন এই নির্দেশ এসেছে তা হলে তাঁরাই এই অর্থের ব্যবস্থা করে দিক।”

প্রধান শিক্ষকদের সংগঠন ‘অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেস’ -এর সাধারণ সম্পাদক চন্দন মাইতি বলেন, “স্কুল শিক্ষা দফতরের উচিত ছিল আগে অর্থের ব্যবস্থা করুক। আমরা কোথা থেকে টাকা পাবো?” তাঁর দাবি, এমন অনেক স্কুল রয়েছে, যেখানে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। কিন্তু নিরাপত্তারক্ষী রাখা যায়নি। তাই অনেক ক্যামেরা চুরি হয়ে গিয়েছে।

অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন-এর রাজ্য সম্পাদক চন্দন গড়াই বলেন, “স্কুলের তহবিল নেই। স্কুল শিক্ষা দফতর অথবা নির্বাচন কমিশন সিসিটিভির জন্য অর্থ বরাদ্দ করুক। সরকার যেখানে কম্পোজিট গ্র্যান্ট কমিয়ে দিয়েছে সেখানে এই নির্দেশে স্কুলগুলির নিজস্ব তহবিল থেকে সিসিটিভি-র ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়।”

যদিও নতুন করে সিসি ক্যামেরা বসানোর নির্দেশের কথা অস্বীকার করেছেন স্কুলশিক্ষা দফতরের এক কর্তা। তিনি বলেন, “নতুন করে সিসি ক্যামেরা বসানো কথা বলা হয়নি। বরং যে সব স্কুলে ২০২৩, ২০২৪-এ যে সব স্কুলে ক্যামেরা বসানো হয়েছিল, তা যেন সক্রিয় থাকে, তার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

CCTV camera Schools WB Education
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy