Advertisement
E-Paper

বিশ্বের কোনায় লুকিয়ে সৃষ্টির উৎস! রহস্যের সন্ধান দিতে পারে ভূগোল, কোন ডিগ্রি অর্জনে মিলবে জ্ঞান?

পৃথিবীর আকার আসলে কেমন? আকাশের রঙ কি সত্যিই নীল? এমন হাজার প্রশ্নের জবাব নিয়ে উত্তরমালা সাজানো ভূগোলের পাঠে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬ ০৮:৫৩

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

পৃথিবীর গঠনশৈলী, তার উৎপত্তি থেকে আগামী— হাজার প্রশ্ন আর তার উত্তর নিয়ে নিরন্তন চর্চা চলছে। ভূগোল বিশারদেরা সৃষ্টির উৎস সন্ধানে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন।

ভূগোল বিষয়ে আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট, রাজনৈতিক পালাবদল এমনকি সংস্কৃতি চর্চার অভ্যাস সম্পর্কে জানতে কলাবিদ্যার চর্চা করা প্রয়োজন। সেই তথ্যের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের মিল রয়েছে কি না, তার জন্য পদার্থবিদ্যা, রসায়ন কিংবা জীববিদ্যার জ্ঞান অর্জন করা চাই। আবার সেই তত্ত্বে থাকা কোনও জটিল সমাধানের উত্তর পেতে শিখে নিতে হবে অঙ্কও। হাজার বছর ধরে মাটির নীচে থাকা শিলা খনন করে প্রাচীন যুগের পৃথিবীর বিষয়ে জানতে প্রয়োজন হয় ইঞ্জিনিয়ারিং বিদ্যারও। আবার কী হতে চলেছে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ? সেই প্রশ্নের জবাব খুঁজে নিতে প্রযুক্তির হাতও ধরেছে ভূগোল।

সব মিলিয়ে সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া ভূগোলের পঠনপাঠনে যোগ হয়েছে নানা তত্ত্ব। সমাজবিজ্ঞানের সঙ্গে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের মেলবন্ধনে শিক্ষাক্ষেত্রে ভূগোল সার্বিক ভাবে অনন্য হয়ে উঠেছে। তাই যাঁরা দ্বাদশের পর এই বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করতে চান, তাঁদের কাছে শুধুমাত্র কলা শাখাই নয়, উচ্চশিক্ষার পথ সুগম হতে পারে অন্যান্য শাখার বিষয় নির্বাচনেও। জেনে নেওয়া যাক, কোন ডিগ্রি কোর্স নিয়ে পড়লে ভূগোলের কোন বিশেষ বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব।

বিশ্বে ভূগোলের চর্চা কী ভাবে হয়?

ভূগোলকে প্রাথমিক ভাবে দু’ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। ফিজ়িক্যাল জিয়োগ্রাফি অর্থাৎ প্রাকৃতিক ভূগোলের খুঁটিনাটি নিয়ে চর্চায় থাকে পরিবেশ, ভূমির গঠনশৈলী, জলবায়ু, মাটি, জলের প্রকৃতির পরিবর্তন। অন্য দিকে হিউম্যান জিয়োগ্রাফি প্রকৃতির পরিবর্তনের অনুঘটক হিসাবে মানবজীবনের অনুদান নিয়ে চর্চার মূল বিষয়। বিশ্বের জনসংখ্যা, বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক পরিবেশ, অর্থনীতির উপর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রভাবে সামাজিক জীবনে পরিবর্তন নিয়ে পঠনপাঠন এবং গবেষণা চলে।

এই সব বিষয়ই ডিগ্রি কোর্সের চাহিদার ভিত্তিতে ভাগ করা হয়েছে। আলাদা পাঠ্যক্রমে প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে বিশদে চর্চা করার সুযোগ পেয়ে থাকেন পড়ুয়ারা। এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞান হোক বা কলা শাখা— উচ্চশিক্ষায় সব ডিগ্রির সমান গুরুত্ব রয়েছে। চিনা জিয়োগ্রাফার এবং ইউনিভার্সিটি অফ উইসকনসিন ম্যাডিসনের অধ্যাপক ই ফু টুয়ানের কথায়, “পরিবেশের সঙ্গে মানবসভ্যতার সম্পর্কের গভীরতা বুঝতে চাইলে হিউম্যান জিয়োগ্রাফি নিয়ে চর্চা বিশেষ ভাবে প্রয়োজন। এতে শুধু সমাজবিজ্ঞানই নয়, রয়েছে জটিল তত্ত্বের রহস্যও। সংস্কৃতি নিয়ে সঠিক চর্চা করতে পারলে সেই রহস্যের উদঘাটন সম্ভব।”

ব্যাচেলর অফ আর্টস (বিএ)

স্নাতকে কলা শাখার অধীনে যাঁরা ভূগোল নিয়ে পড়াশোনা করতে চান, তাঁরা মূলত হিউম্যান জিয়োগ্রাফি শেখার সুযোগ পাবেন। এ ক্ষেত্রে কলকাতায় কেন বন্দর তৈরি করা হল, কিংবা ঝাড়খন্ডের আদিবাসী জনবসতি কেন গড়ে উঠেছে— এই বিষয়গুলি নিয়ে চর্চা করা হয়ে থাকে। এ ছাড়াও নগর সভ্যতার উত্থান, স্মার্ট সিটির প্রয়োজনীয়, গ্রামীণ উন্নয়নের প্রাসঙ্গিকতা থেকে শুরু করে কোন এলাকায় শিল্পক্ষেত্রের আর্থিক উন্নয়ন সম্ভব হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা চলে পাঠ্যবিষয়ে। এ ক্ষেত্রে রাশিবিজ্ঞানের সূত্র গণনার ক্ষেত্রে কাজে লাগে।

ব্যাচেলর অফ সায়েন্স (বিএসসি)

বিজ্ঞান শাখার অধীনে মূলত ফিজ়িক্যাল জিয়োগ্রাফি নিয়ে মূল চর্চা চলে। এ ক্ষেত্রে জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে হিমালয়ের উৎপত্তি এবং বর্তমান অবস্থান, গাঙ্গেয় সমতলভূমি এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিভিন্ন ধরনের মাটিতে চাষাবাদ এবং মৌসুমী বায়ুর প্রবাহপথে কী কী সমস্যা হচ্ছে— তার বিশদ শেখার সুযোগ রয়েছে। এরই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রিমোট সেন্সিং, জিয়োগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম, স্যাটেলাইট ইমেজ ইন্টারপ্রিটেশন, ইকোলজি-র মতো বিষয়ও। তাই কৃত্রিম উপগ্রহ কিংবা বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে জলবায়ুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা এবং সম্ভাব্য সমস্যার আগাম পূর্বাভাস দেওয়ার বিষয়গুলিও শিখে নিতে পারবেন।

ব্যাচেলর অফ টেকনোলজি (বিটেক)

প্রযুক্তিবিদ্যার সঙ্গে ভূগোলের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে বিশেষ কিছু বিষয়। জিয়োইনফরমেটিক্স, জিয়োস্প্যাশিয়াল টেকনোলজি, জিয়োম্যাটিক্স এর মধ্যে অন্যতম। মূলত গণিত, পদার্থবিদ্যা, প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ-এর সাহায্যে ড্রোন ম্যাপিং, ফোটোগ্রামেট্রি তকা কিংবা কৃত্রিম মেধা এবং মেশিন লার্নিং-এর সাহায্যে ইমেজ ক্লাসিফিকেশন করার কৌশল শেখার সুযোগ মেলে উল্লিখিত বিষয়ে।

ব্যাচেলর অফ ইঞ্জিনিয়ারিং (বিই)

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর সঙ্গে জিয়োগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম স্পেশ্যালাইজ়েশনের সুযোগও রয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার অধীনে এই বিষয়টিতে পরিবেশ অনুযায়ী বিভিন্ন সেতু, জাতীয় সড়ক, কিংবা বিশেষ ইমারত তৈরি করার নকশা বানাতে শেখানো হয়। এ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনে হাইড্রোলজি মডেল তৈরির কৌশলও এই বিষয় থেকে শেখার সুযোগ রয়েছে, যাতে বন্যা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কম ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

উল্লিখিত ডিগ্রি কোর্সে পড়াশোনার জন্য দ্বাদশের পরীক্ষায় কলা কিংবা বিজ্ঞান বিভাগের বিষয়ে অন্তত ৭০ শতাংশ নম্বর থাকতেই হবে। ইঞ্জিনিয়ারিং এবং টেকনোলজি শাখার বিষয়ের ক্ষেত্রে রাজ্য কিংবা সর্বভারতীয় স্তরের জয়েন্ট এন্ট্রান্স উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে কুয়েট ইউজি পাশ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে একাদশ-দ্বাদশে ভূগোল থাকা আবশ্যক।

Career Options After BSc Career After HS Geographic Information System
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy