ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর আবহেই শুরু হতে চলেছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। হাতে মাত্র তিন দিন। এখনও পর্ষদের কাছে কোনও হিসাব নেই কত জন শিক্ষক নির্বাচনী কাজ বিএলও বা এইআরও হিসাবে কাজ করছেন। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে এমনই জানিয়েছেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়।
এসআইআর আবহে কী ভাবে হবে মাধ্যমিক পরীক্ষা তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে চাপানউতর। তার মধ্যে পর্ষদ সভাপতি জানিয়েছেন, সাধারণত স্কুল ইনস্পেক্টর এবং ডিস্ট্রিক্ট ইনস্পেক্টরদেরই (ডিআই) পরীক্ষা সংক্রান্ত দায়িত্ব সামলাতে হয়, পরীক্ষার সময়ই প্রয়োজন হয় ৫০ হাজার জন পরিদর্শক বা ইনভিজিলেটরের। কিন্তু এই মুহূর্তে কত জন স্কুল জেলা পরিদর্শক নির্বাচনীর কাজে যুক্ত রয়েছেন তার কোনও হিসাবই নেই পর্ষদের কাছে। তবে যে সকল শিক্ষক বিএলও-র কাজ করছেন তাঁদের পরীক্ষার দিনগুলি বিকেল ৪টে পর্যন্ত এসআইআর-এর কাজ না করার পরামর্শ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমরা জেলাশাসক ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছি। আমরা আশাবাদী যে পরীক্ষা চলাকালীন শিক্ষকদের এসআইআরএর কাজ থেকে বিরত রাখা হবে।’’
বৈঠকে পর্ষদের তরফে পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে জানানো হয়েছে, এ বছর পরীক্ষা শুরু হতে চলেছে সকাল ১১টা থেকে, চলবে দুপুর ২টো পর্যন্ত। ১০টা ৪৫ থেকে প্রশ্নপত্র বিলি করা হবে। মোট ২৬৮২টি পরীক্ষাকেন্দ্র বাছাই করা হয়েছে। তার মধ্যে মূল পরীক্ষাকেন্দ্র রয়েছে ৯৪৫টি এবং উপ-কেন্দ্র ১৭৩৭টি। ইতিমধ্যে ৪৮৫ জন তত্ত্বাবধায়কের কাছে প্রশ্নপত্র পৌঁছে গিয়েছে। ২০২৬-এর মাধ্যমিক দিতে চলেছে ৯,৭১,৩৪০ জন পড়ুয়া। এর মধ্যে ৪,২৬,৭৩৩ জন ছাত্র এবং ৫,৪৪,৬০৬ জন ছাত্রী এবং এক জন রূপান্তরকামী পড়ুয়া রয়েছে।
আরও পড়ুন:
রামানুজ জানিয়েছেন, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের অধীনে প্রায় ৯ হাজারের বেশি স্কুল রয়েছে। তার মধ্যে কিছু স্কুল ডিসেম্বর মাস পর্যন্তও নাম এনরোলমেন্ট করায়নি। তাই তাঁদের জন্য ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি পুনরায় পোর্টাল খোলা হয়েছিল। সেখানে দেখা যায় ৯৫৪টি স্কুল মোট ১৯৬৬জন পরীক্ষার্থীর নাম এনরোলমেন্ট করে। অন্য দিকে, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ১৩৪ জন পরীক্ষার্থীর থেকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা নিয়ে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া ও এনরোলমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে পর্ষদ।