Advertisement
E-Paper

কলেজ শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে অস্বচ্ছতা! এসএসসি-র প্যানেল বাতিল আতঙ্ক তাড়া করছে প্রার্থীদের

সরকারপোষিত কলেজগুলির জন্য গত ২৬ ফেব্রুয়ারি যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ( ইউজিসি) নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ। আবেদনকারী প্রার্থীদের একাংশের দাবি, অনিয়মের অভিযোগ উঠতে পারে ভবিষ্যতে। তাই তাঁরা ই-মেল করে কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ মার্চ ২০২৬ ০৮:৫৯

— প্রতীকী চিত্র।

ত্রাসের নাম ‘২০১৬ এসএসসি’! মামলা ও প্যানেল বাতিলের আতঙ্ক তাড়া করছে কলেজ সার্ভিস কমিশনের নিয়োগেও। গত ফেব্রুয়ারিতে কলেজ শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কমিশন। আর সেখানে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করছেন আবেদনকারীদের একাংশ। তাঁরা আগেই সে বিষয়ে কমিশনের চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছেন। কারণ হিসাবে বলছেন, “প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির দায়ে স্কুল শিক্ষকদের মতো চাকরিহারা হতে চাই না।”

সরকারপোষিত কলেজগুলির জন্য গত ২৬ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে। আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত আবেদন জমা দেওয়া যাবে। কিন্তু বেশ কিছু ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ( ইউজিসি) নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ। আবেদনকারী প্রার্থীদের একাংশের অভিযোগ অন্তত তিনটি ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠতে পারে ভবিষ্যতে। তাই এ বিষয়ে তাঁরা ই-মেল করে কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।

প্রথমত, কত শূন্যপদে নিয়োগ হবে তার কোনও তালিকা দেওয়া হয়নি। এক একটি শূন্য পদের জন্য কতজন আবেদনকারীকে ডাকা হবে সে সবের কোনও উল্লেখ নেই।

অভিযোগকারীদের দাবি, কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা অধীনস্থ কলেজে নিয়োগের ক্ষেত্রে শূন্যপদের তালিকাপ্রকাশ করা হয়। এ ক্ষেত্রে প্রথমেই অস্বচ্ছতা তৈরি হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, ইউজিসি-র কোন বিধি অনুযায়ী এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করল রাজ্য কলেজ সার্ভিস কমিশন, তা স্পষ্ট করা হয়নি। নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত এই বিধির উল্লেখ থাকে। অর্থাৎ কোন নিয়মে এই নিয়োগ হচ্ছে সেটা আবেদনকারীরা জানতে পারেন।

তা ছাড়া, ইউজিসি-র নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সের কোনও ঊর্ধ্বসীমা থাকে না। কিন্তু কলেজ সার্ভিস কমিশন বয়ঃসীমা ৪০ হিসেবে উল্লেখ করেছে। অথচ, যোগ্যতা যাচাইয়ের পরীক্ষা নেট বা সেট দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বয়ঃসীমা নেই।

সর্বোপরি যে বিষয়টি আবেদনকারীদের মধ্যে দ্বিধা তৈরি করেছে তা হল ‘অ্যাকাডেমিক স্কোর ডিভিশন’-এর উল্লেখ না থাকা। অর্থাৎ, স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা গবেষণার ক্ষেত্রে ‘অ্যাকাডেমিক পারফর্ম্যন্স’-এর ভিত্তিতে যে নম্বর দেওয়া হয় তার কোনও উল্লেখ নেই বিজ্ঞপ্তিতে। ইউজিসি-র নিয়ম অনুযায়ী, এই ভাগের উল্লেখ থাকা একান্ত প্রয়োজন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রার্থী জানান, কলেজ সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানকে ই-মেল করে তাঁরা বিষয়গুলি জানিয়েছেন। কিন্তু কোনও জবাব আসেনি। ওই প্রার্থীর কথায়, “গোটা বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়ে আমরা আবেদন করেছি। কিন্তু এই অস্বচ্ছতা থেকে আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।” আর এক প্রার্থী সরাসরি বলেন, “স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে গোটা রাজ্যের মানুষের যা অভিজ্ঞতা হয়েছে তাতে ভয় তো করেই। কলেজ সার্ভিস কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে নানা অস্বচ্ছতা কোন দিকে গড়াবে তা কে বলতে পারে। পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পেয়ে আবার তা হারাতে হবে না তো?”

তবে কমিশনের তরফে এ সব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। কমিশনের এক কর্তা বলেন, “যা হয়েছে তা ইউজিসি-র বিধি অনুযায়ী হয়েছে। এর আগেও শূন্যপদ প্রকাশ না করেই বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সকল আবেদনকারীকে ইন্টারভিউয়ে ডাকা হয়। প্যানেল প্রকাশের দিন যত পদ শূন্য থাকে, তার ভিত্তিতে নিয়োগ হয়।” ওই কর্তার দাবি, শূন্যপদের ভিত্তিতে আবেদনকারীদের ডাকলে কেউ বৈষম্যের অভিযোগ তুলতে পারেন। সে কারণেই প্যানেল প্রকাশ করে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে ইউজিসি বিধির উল্লেখ না থাকার বিষয়ে তিনি জানিয়েছেন, কোনও উল্লেখ না থাকার অর্থ সর্বশেষ অর্থাৎ ২০১৮ বিধি মেনেই বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে।

‘অ্যাকাডেমিক স্কোর ডিভিশন’-এর ক্ষেত্রেও পুরনো নিয়ম মানা হবে বলে তিনি জানান। তবে বয়সের ঊর্ধ্বসীমার বিষয়টি রাজ্য সরকারি নিয়ম মেনেই করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে কমিশনের চেয়ারম্যান সৌরেন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রাজ্য সরকার এবং ইউজিসি-র নিয়ম মেনেই সব কিছু করা হচ্ছে। এমন কিছুই করা হচ্ছে না যা এই দুই নিয়ম বা বিধির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।”

Recruitment CSC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy