কোভিড অতিমারির সময় থেকেই বদলেছে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের পরিকাঠামো। চিকিৎসকের পাশাপাশি চাহিদা বেড়েছে নার্স এবং প্যারামেডিক্যাল কর্মীর। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই একই চিত্র। ফলে ঝোঁক বেড়েছে নার্সিং বা প্যারামেডিক্যালের বিভিন্ন বিষয় পড়ারও।
দেশের প্রথম সারির মেডিক্যাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এমস) অন্যতম। তাই এই প্রতিষ্ঠানে মেডিক্যালের পাশাপাশি নার্সিং এবং প্যারামেডিক্যাল কোর্সে ভর্তির সুযোগ পাওয়াও বেশ সম্মানজনক। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে ২৬টি এমস-এর মধ্যে ২০টি এমস-এ যথাযথ ভাবে চিকিৎসা পরিষেবা এবং পঠনপাঠনের ব্যবস্থা রয়েছে। দ্বাদশের পরেই যাঁরা নার্সিং এবং প্যারামেডিক্যালের নানা বিষয়ে উচ্চশিক্ষা শুরু করতে চান, তাঁদের জন্য রইল সুলুকসন্ধান।
নার্সিং-এর ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার শুরুটা হতে পারে দু’টি কোর্স দিয়ে। একটি বিএসসি (অনার্স) নার্সিং কোর্স। অন্যটি বিএসসি নার্সিং (পোস্ট বেসিক) কোর্স।
১। বিএসসি (অনার্স) নার্সিং কোর্স— এটি চার বছরের কোর্স। পাঠ্যক্রম থেকে নার্সিং-এর মৌলিক বিষয়গুলি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা মেলে। তবে শুধু মহিলাদের জন্য এই কোর্স। তাঁদের ন্যূনতম বয়স ১৭ বছর হতে হবে। দ্বাদশ শ্রেণিতে ন্যূনতম ৫৫ শতাংশ নম্বর নিয়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ হতে হবে। পাঠ্যক্রমে থাকতে হবে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জীববিদ্যা এবং ইংরেজি। পাশাপাশি কোর্সে ভর্তির জন্য এমস-এর প্রবেশিকায় উত্তীর্ণ হওয়া জরুরি।
২। বিএসসি নার্সিং (পোস্ট বেসিক) কোর্স— এটি দু’বছরের স্নাতক পাঠক্রম। মূলত রোগী পরিষেবার ক্লিনিক্যাল দিক থেকে নার্সিং নিয়ে গবেষণার খুঁটিনাটি সম্পর্কে জানা যায় কোর্স থেকে। যাঁদের দ্বাদশের পর জেনারেল নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি (জিএনএম)-র ডিপ্লোমা যোগ্যতা রয়েছে, তাঁরা আবেদন করতে পারবেন এই কোর্সে। তবে তাঁদের একজন রেজিস্টার্ড নার্স এবং মিডওয়াইফও হতে হবে। প্রার্থীদের বয়স হতে হয় ন্যূনতম ১৭ বছর।
বিএসসি ইন প্যারামেডিক্যাল কোর্স—
প্যারামেডিক্যালের একাধিক বিষয়েও স্নাতক যোগ্যতা লাভ করা যায় এমস থেকে। এর মধ্যে রয়েছে মেডিক্যাল টেকনোলজি ইন রেডিয়োগ্রাফি, অপ্টোমেট্রি, অপারেশন থিয়েটার টেকনোলজি, মেডিক্যাল ল্যাবরেটরি সায়েন্সেস, মেডিক্যাল টেকনোলজি ইন রেডিয়োথেরাপি, অ্যানাস্থেশিয়া টেকনোলজি, ইউরোলজি টেকনোলজি, পারফিউশান টেকনোলজি, ডেন্টাল হাইজিন অ্যান্ড ডেন্টাল অপারেটিং রুম অ্যাসিস্ট্যান্স এবং নিউক্লিয়ার মেডিসিন টেকনোলজি।
বিএসসি ইন প্যারামেডিক্যালের কোর্সটি বিষয় ভেদে তিন থেকে চার বছরের। যাঁরা দ্বাদশে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জীববিদ্যা অথবা পদার্থবিদ্যা, রসায়ন এবং গণিত নিয়ে উত্তীর্ণ, তাঁরা আবেদন করতে পারবেন। বয়স হতে হবে ন্যূনতম ১৭ বছর। এ ক্ষেত্রেও এমস-এর তরফে আয়োজিত প্রবেশিকায় উত্তীর্ণেরাই কোর্স করতে পারবেন।
আরও পড়ুন:
২০২৬-এর প্রবেশিকার সূচি—
১। বিএসসি (অনার্স) নার্সিং কোর্স: ২৮ জুন।
২। বিএসসি নার্সিং (পোস্ট বেসিক) কোর্স: ১৪ জুন।
৩। বিএসসি ইন প্যারামেডিক্যাল কোর্স: ৩০ মে।
প্রবেশিকার ধরন—
সব কোর্সের জন্যই সিবিটি-র মাধ্যমে প্রবেশিকার আয়োজন করা হবে এমস-এর তরফে। ১০০ নম্বরের পরীক্ষার প্রশ্ন হবে এমসিকিউধর্মী। প্রশ্ন আসবে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জীববিদ্যা এবং সাধারণ জ্ঞান-এর উপর। উত্তর ভুল হলে কাটা যাবে নম্বর। প্রবেশিকার সময়সীমা দু’ঘণ্টা।