Advertisement
E-Paper

অবশেষে আমেরিকা-ইরানের শান্তিচুক্তি হচ্ছে! বিশ্ব জুড়ে স্বস্তি, কী কী বিষয়ে একমত দু’পক্ষই, কী কী কাঁটা এখনও রয়ে গেল

সব কিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে আগামী শুক্রবার সুইৎজ়ারল্যান্ডে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে চলেছে। কোন কোন শর্তে যুযুধান দু’পক্ষ আপাতত সংঘাত থামাতে রাজি হয়েছে, তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬ ১০:২৯
(বাঁ দিকে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

প্রায় সাড়ে তিন মাসের যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শান্তিচুক্তির পথে হাঁটতে চলেছে আমেরিকা এবং ইরান। সব কিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইৎজ়ারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে চলেছে। কোন কোন শর্তে যুযুধান দু’পক্ষ আপাতত সংঘাত থামাতে রাজি হয়েছে, তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তবে ইরানের ‘মেহর’ সংবাদসংস্থা সে দেশের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, চুক্তির খসড়ায় ১৪টি শর্তের কথা বলা হয়েছে।

ওই সংবাদসংস্থার প্রতিবেদনে যে ১৪টি শর্তের কথা বলা হয়েছে, সেগুলি হল—

১) লেবানন-সহ পশ্চিম এশিয়ার সব প্রান্তে দ্রুত পাকাপাকি ভাবে যুদ্ধ বন্ধ করা হবে।

২) ইরানের সার্বভৌম ক্ষমতা এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাবে না আমেরিকা।

৩) ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ় প্রণালীর নৌ অবরোধ তুলে নেবে আমেরিকা

৪) ইরান এবং সে দেশের সংলগ্ন এলাকা থেকে আমেরিকা সেনা প্রত্যাহার করে নেবে।

৫) ইরানের ব্যবস্থাপনায় ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজ চলাচল অবাধ এবং স্বাভাবিক করা হবে।

৬) ইরানের তেল এবং জ্বালানি দ্রব্যের উপর যাবতীয় বিধিনিষেধ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।

৭) যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ কোটি ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ২৮ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি) দেবে আমেরিকা এবং সহযোগী দেশগুলি।

৮) ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে আলোচনার জন্য ৬০ দিন ধরে আলোচনা করবে দুই দেশ।

৯) পরমাণু অস্ত্র প্রসার রোধ চুক্তি অনুসারে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করার না-বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।

১০) পরমাণু সংক্রান্ত বিষয়ে দুই দেশের আলোচনা চলার সময় আমেরিকা পশ্চিম এশিয়ায় অতিরিক্ত কোনও সামরিক বাহিনী মোতায়েন করবে না। ইরানের উপর নতুন কোনও নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করবে না।

১১) আমেরিকা এবং ইরানের আলোচনা চলার সময় আমেরিকা ইরানের যে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেছে, তা ফিরিয়ে দেবে।

১২) সমঝোতাপত্রে উল্লিখিত শর্তগুলি মানা হচ্ছে কি না, তা দেখতে একটি নজরদারি ব্যবস্থা রাখা হবে।

১৩) রাষ্ট্রপুঞ্জে সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক গোষ্ঠী নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনা মেনেই চূড়ান্ত বোঝাপড়া করবে আমেরিকা এবং ইরান।

১৪) বাজেয়াপ্ত সম্পদ ইরানকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর এবং তেহরানের তেল বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরেই চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনা শুরু হবে। প্রাথমিক সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পর ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে।

তবে কিছু বিষয় নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্প যেমন ঘোষণা করে দিয়েছেন, শুক্রবার আনুষ্ঠানিক ভাবে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরেই হরমুজ় প্রণালী খুলে দেওয়া হবে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সোমবার থেকে শুক্রবার বেশ অনেকটা সময়। এর মধ্যে অনেক কিছু ঘটে যেতে পারে। ট্রাম্পও মত বদলে ফেলতে পারেন।

হরমুজ়ের অবরোধ প্রত্যাহার নিয়েও কিছু সংশয় রয়েছে। রবিবার ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান ওই প্রণালীর দরজা খুলে দিলে তাঁরাও অবরোধ তুলে নেবেন। আমেরিকা অবরোধ তুলে নিলে দেশের অর্থনীতির উপর চাপ কমাতে অন্য কোনও বিষয় নিয়ে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে দর কষাকষির পথে হাঁটতে পারে ইরান।

শান্তিচুক্তির পথে অন্যতম অন্তরায় ইজ়রায়েল। রবিবার সকালেও ট্রাম্পের আপত্তি উড়িয়ে লেবাননে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজ়বুল্লার ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তারা। ইরান বার বারই লেবাননের বিষয়টি শান্তিচুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানিয়েছে। এখন আমেরিকা-ইরান সমঝোতাকে নিষ্কন্টক করতে ইজ়রায়েল লেবাননে হামলা চালানো বন্ধ রাখে কি না, সে দিকেই নজর রয়েছে সকলের। হিজ়বুল্লার মতো ইরানের সমর্থনপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির ভূমিকার দিকেও নজর রয়েছে অনেকের।

সংক্ষেপে
  • ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
  • আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
  • শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
সর্বশেষ
১ ঘণ্টা আগে
Donald Trump US Iran Peace Deal ceasefire
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy