Advertisement
E-Paper

ইঞ্জিনিয়ারিং-এ জুড়েছে কৃত্রিম মেধা, ভাল থাকার পাঠ! মূল বিষয়বস্তুতে পড়াশোনার আগ্রহ কি কমছে?

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর অধীনে ভারতের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় কাঠামোগত পরিবর্তন হয়েছে। তাতে ইঞ্জিনিয়ারিং শাখায় মাল্টিডিসিপ্লিনারি বিষয়গুলির সংযোজন কেমন প্রভাব ফেলছে?

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:৪৭

ছবি: এআই।

সময়ের সঙ্গে ইঞ্জিনিয়ারিং-এর পাঠ্যক্রমে বদল এসেছে। কারিগরিবিদ্যার সঙ্গে যোগ হয়েছে কৃত্রিম মেধা, ডিজ়াইন থিঙ্কিং, ম্যানেজমেন্ট, ওয়েল বিয়িং স্টাডিজ় এবং কলা শাখার বিভিন্ন বিষয়। চাকরি এবং শিল্পক্ষেত্রে চাহিদার ভিত্তিতেই এই পরিবর্তনের ফলেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।

কিন্তু, এতে কি মূল বিষয়বস্তুর প্রতি মনোযোগ কমে যাচ্ছে পড়ুয়াদের? চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রেই বা কতটা উপকৃত হচ্ছেন তাঁরা? প্রশ্ন নানা মহলে।

আইআইটি খড়্গপুরের অধিকর্তা সুমন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, প্রথমত, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং টেকনোলজির মূল বিষয়বস্তুতে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। দ্বিতীয়ত, সমসাময়িক নতুন বিষয়ের সঙ্গে ক্লাসিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর সংযোজন বরং আরও বেশি সমৃদ্ধ করছে পড়ুয়াদের। তিনি বলেন, “এখন ব্যাখ্যামূলক পড়াশোনার চাহিদা আগের মতো নেই। তাই কিছু বিষয় পড়ুয়ারা নিজেদের মতো করে শিখে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে, ক্লাসিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর সঙ্গে নতুন ধারার বিষয়ের সংযোজন হওয়ায় পড়ুয়ারা শুরু থেকেই দক্ষতা অর্জন করতে পারছেন।”

ইঞ্জিনিয়ারিং এবং টেকনোলজি-র ছাত্রদের পড়াশোনার পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাকরির সুযোগ মেলে। কৃত্রিম মেধা, মেশিন লার্নিং-এর সংযোজন, জলবায়ু পরিবর্তন, সুস্থায়ী উন্নয়ন, বায়োমেডিক্যাল পরিষেবার পরিসরে সেই পথ আরও প্রশস্ত হয়েছে। তাই নতুন বিষয় শেখার জন্য পড়ুয়াদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়াটাই স্বাভাবিক বলে মনে করেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক দীপঙ্কর সান্যাল।

তিনি বলেন, “কম্পিউটার চালু হওয়ার পর যে গেল গেল রব উঠেছিল, এই ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা তেমনই। নতুন বিষয় শেখার জন্য পড়ুয়াদের আগ্রহ এবং কাজের বাজারে চাহিদা যখন বাড়ছে, সে ক্ষেত্রে ক্লাসে পড়ানোর ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। প্রজেক্ট বেসড লার্নিং-এর সুযোগ পেলে ছেলেমেয়েদের আগ্রহ আরও বাড়বে।”

— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

সময় এবং বাজারের চাহিদা অনুযায়ী, পঠনপাঠনে নানা বিষয় সংযোজন হলেও মূল তত্ত্বগত পাঠের কোনও পরিবর্তন হয়নি। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (আইআইইএসটি), শিবপুরের ইনফরমেশন টেকনোলজির অধ্যাপক অরিন্দম বিশ্বাস জানিয়েছেন, মূল থিয়োরির সঙ্গে আনুষঙ্গিক এবং সমসাময়িক বিষয়ের জ্ঞান থাকা আবশ্যক। এতে চাকরি ক্ষেত্রে যেমন ভাল সুযোগ মেলে, তেমনই পড়ুয়াদের জ্ঞানেরও প্রসার ঘটে।

আইআইইএসটি, শিবপুরের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক কণিকা দাস (ভট্টাচার্য) বলেন, “যন্ত্র কোন নিয়মে কাজ করছে, সে তত্ত্ব জানলেই তো নতুন পদ্ধতিতে কাজ চালনার চেষ্টা করা সম্ভব। একই ভাবে মূল বিষয় শেখানোর মাধ্যমেই আমরা নতুন কিছু পড়াতে পারব। তা না হলে ছেলেমেয়েরা অর্ধেক বিষয় জেনে কাজের দুনিয়ার প্রবেশ করবে।”

চাকরির বাজারেও বর্তমানে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির সঙ্গে অন্য বিষয়ে জ্ঞান এবং দক্ষতার মানদণ্ডের শর্তাবলি থাকে। সে ক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মের ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য আরও ভাল সুযোগ থাকবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।

Core Sector Engineering Students Different Opinion NEP 2020
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy