আট মাস পর স্থায়ী অধিকর্তা পেতে চলেছে রাজ্যের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান স্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট (আইএসআই)। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান কোপ্পিলিল রাধাকৃষ্ণন কাউন্সিলের সদস্যদের ই-মেল করে জানিয়ে দেন, ওই প্রতিষ্ঠানেরই রাশিবিজ্ঞান ও গণিত বিভাগের শিক্ষক অমর্ত্যকুমার দত্তকে অধিকর্তা নিয়োগ করা হল। আগামী ১ এপ্রিল থেকে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।
যদিও অধিকর্তা বাছাই নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন কাউন্সিল সদস্যদের একাংশ। এ দিনের ই-মেলে অবশ্য চেয়ারম্যান উল্লেখ করেছেন, ‘ভবিষ্যতে এটি নজির হিসেবে উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই।’ কাউন্সিলের সদস্যের একাংশের দাবি, চেয়ারম্যান এই প্রক্রিয়াকে ভবিষ্যতে নজির হিসেবে গ্রহণ না করার কথাই জানিয়েছেন।
আইএসআই সূত্রের খবর, গত বছর জানুয়ারি থেকে অধিকর্তা বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সে সময় যিনি অধিকর্তা ছিলেন তাঁর মেয়াদ গত সেপ্টেম্বরেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। সে কারণে অনেক আগে থেকেই স্থায়ী অধিকর্তা বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়। অভিযোগ, অধিকর্তা বাছাইয়ে প্রক্রিয়া এতটাই মন্থর হয়ে যায় যে তৎকালীন ওই অধিকর্তার কার্যকালের মেয়াদ তিন মাস বৃদ্ধি করতে হয়। তাতেও সুরাহা হয়নি। চলতি বছর জানুয়ারিতে অন্য এক শিক্ষককে ফের অস্থায়ী অধিকর্তা পদে বসাতে হয়। অবশেষে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে অধিকর্তা বাছাইয়ের কাজ চলে। অভিযোগ, কাউন্সিলের কোনও বৈঠক না ডেকেই গত ২৬ মার্চ কাউন্সিলের সদস্যের কাছে ই-মেল করে অমর্ত্যের নাম জানানো হয়।
অধিকর্তাকে নিয়ে কোনও আপত্তি না থাকলেও পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি তোলেন কাউন্সিলের সদস্যের একাংশ। তাঁরা জানান, নিয়ম অনুযায়ী, অধিকর্তা বাছাইয়ের জন্য যে তিন জনের কমিটি গঠন করা হয় সেটি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান কাউন্সিলের মধ্যে থেকেই গঠন করেন। শেষে কাউন্সিলের অনুমোদন নেন। এ ক্ষেত্রে সেটাই করা হয়নি বলে অভিযোগ।
পাশাপাশি কাউন্সিলের বৈঠকে সকলের সঙ্গে আলোচনা করে স্থায়ী অধিকর্তা নিয়েগের কথা। কিন্তু তার বদলে শুধু ই-মেল করে মতামত জানতে চাওয়া হয়। এটাও নিয়মবিরুদ্ধ বলে অভিযোগ উঠেছিল।
কিন্তু এ দিন চেয়ারম্যান ই-মেল করে জানিয়ে দেন সময়ের অভাবে ই-মেল মারফত এই কাজ করা হয়েছে। কাউন্সিলের অধিকাংশ সদস্যই এই সিদ্ধান্তের পক্ষে মত দিয়েছেন। তার পরেই তিনি লেখেন, এটি দৃষ্টান্ত নয়।
কিন্তু এই প্রক্রিয়া বেশ কিছু প্রশ্ন তুলে দিয়েছে বলেই মত ওই প্রতিষ্ঠানের অন্দরের শিক্ষকদের। প্রশ্ন উঠছে, কেন সময়ের অভাব হল? যে প্রক্রিয়া ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে, সেটা এমন পর্যায়ে কী ভাবে এল যে তড়িঘড়ি ই-মেল পাঠিয়ে অধিকর্তা নিয়োগ করতে হল? কী কারণে ভবিষ্যতে এই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার ইঙ্গিতও দেন চেয়ারম্যান?
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক প্রশ্ন তোলেন, ‘‘তা হলে কি দিল্লি থেকে কেন্দ্রীয় সরকারই সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করল?’’