Advertisement
E-Paper

কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতে প্রয়োজন ‘এথিকাল হ্যাকার’! উচ্চশিক্ষার পর চাকরির সুযোগ কতখানি?

সাইবার অপরাধীদের শায়েস্তা করতে হ্যাকিং জানতে হয়। অর্থাৎ, কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা। বিশেষজ্ঞ হতে চান? কী ভাবে হবেন?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:০৮

ছবি: এআই।

হ্যাকিং এবং সাইবার অপরাধ— একে অপরের দোসর। সাইবার অপরাধীদের শায়েস্তা করতেও তাই হ্যাকিং জানতে হয়। অর্থাৎ, কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা। সেই কৌশলের নাম ‘এথিক্যাল হ্যাকিং’। দেশ এবং নাগরিকের স্বার্থে আইন রক্ষকেরা হ্যাকিংয়ের সাহায্য নিয়ে থাকেন। বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থা ও তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে তথ্য চুরি ও সাইবার হানা রুখতেই এমন বিশেষজ্ঞদের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে।

এই বিষয় নিয়ে কারা পড়তে পারেন?

  • গণিত এবং কম্পিউটার বিষয়ে আগ্রহীরা এই বিষয়টি নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ পেয়ে থাকেন। তাই দ্বাদশের বিজ্ঞান বিভাগের পড়ুয়ারা এই বিষয় নিয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেতে পারেন।
  • তবে, এ দেশের কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনও ডিগ্রি কোর্স হিসাবে পড়ানো হয় না বিষয়টি। স্পেশ্যাল পেপার হিসাবে ‘এথিক্যাল হ্যাকিং’ নিয়ে পড়াশোনা করতে পারেন আগ্রহীরা। সে ক্ষেত্রে কম্পিউটার সায়েন্স, ইনফরমেশন টেকনোলজি, সাইবার সিকিউরিটি-র সঙ্গে স্নাতক স্তরে ‘এথিক্যাল হ্যাকিং’-এ স্পেশ্যালাইজ়েশন করা সম্ভব।
  • স্নাতকোত্তর স্তরেও একই ভাবে সাইবার সিকিউরিটি, সাইবার রিস্ক, ইনফরমেশন সিকিউরিটি-র সঙ্গে ওই বিষয় নিয়ে আরও বিশদে পড়াশোনার সুযোগ পেতে পারেন। দেশের আইআইটি, এনআইটি, আইআইআইটি প্রতিষ্ঠানগুলিতে এই বিষয়গুলি পড়ানো হয়। তবে, ইনফরমেশন সিকিউরিটি বিষয়টি পড়ার জন্য বিদেশের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে হবে।

কী কী বিষয় শেখার সুযোগ?

কম্পিউটার নেটওয়ার্কের রকম ফের, ডেটাবেসের বিস্তারিত কৌশল, বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেমের কর্মকৌশল-এর সঙ্গে নেটওয়ার্ক পেনিট্রেশন টেস্টিং, ম্যালঅয়্যার অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি অ্যানালিসিস, ক্রিপ্টোগ্রাফি-র খুঁটিনাটি শেখার সুযোগ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে কাজের জন্য ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যাক্ট, হ্যাকিং-এর আইন সংক্রান্ত বিষয় জানাও আবশ্যক।

শংসাপত্র থাকতেই হবে!

ডিগ্রি অর্জনের পর কাজ শুরু করতে চাইলে সরকারি অনুমোদন থাকা প্রয়োজন। এ জন্য সার্টিফায়েড এথিক্যাল হ্যাকার, কম্পটিআইএ সিকিউরিটি প্লাস, ইজেপিটি-র মতো শংসাপত্র অর্জন করতে হবে। দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারলে অ্যাডভান্সড লেভেল শংসাপত্রও পাওয়া যায়।

কোথায় কেমন কাজ?

  • সরকারি গোয়েন্দা বিভাগে এথিক্যাল হ্যাকার নিয়োগ করা হয়ে থাকে। এ ছাড়াও সাইবার অপরাধ দমন বিভাগ, ইন্ডিয়ান কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম, ডিআরডিও, ইসরো-র মতো সংস্থাও বিষয় বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ করে। বেসরকারি সংস্থায় এথিক্যাল হ্যাকার পদে তো বটেই, পাশাপাশি, সাইবার সিকিউরিটি কনসালট্যান্ট, ইনসিডেন্ট রেসপন্স অ্যানালিস্ট, পেনেট্রেশন টেস্টার, এসওসি অ্যানালিস্ট হিসাবেও চাহিদা রয়েছে যথেষ্ট।
  • দেশের বাইরে কাজের সুযোগ পেয়ে থাকেন এথিক্যাল হ্যাকাররা। আমেরিকা, জার্মানি, ব্রিটেন, সিঙ্গাপুরের মতো দেশে চুক্তিভিত্তিক কিংবা প্রকল্পের জন্য ওই বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা হয়ে থাকে।

বেতন কাঠামো:

শুরুতে প্রতি বছর ৪ থেকে ৮ লক্ষ টাকা বেতনক্রমে চাকরি মেলে। দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বছরে ২৫ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বেতন কাঠামো হতে পারে।

ইন্টারনেটের যুগে সাইবার অপরাধ রুখতে এথিক্যাল হ্যাকিং-কে আইনত স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে সমস্ত দেশেই। ঘরে বসেও যথাযথ প্রযুক্তির মাধ্যমে এই কাজ করা যায় বলে, বিশেষজ্ঞদের চাহিদাও বাড়ছে। তবে, এ ক্ষেত্রে কাজ আইন মেনে না করলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসাবে গণ্য হয়।

Ethical Hacker career prospects Career after 12th
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy