উন্নত জীবনযাপনের স্বার্থে ক্রমাগত বৃক্ষচ্ছেদন করে চলেছে মানুষ। পৃথিবীর বুকে চলছে নির্বিচার অরণ্যনিধন। কিন্তু তারই পাশাপাশি রয়েছে সেই অরণ্যরক্ষার দায়ও। তাই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অরণ্যরক্ষা এবং অরণ্যসম্পদের সুস্থায়ী ব্যবস্থাপনের কথা ভাবা হচ্ছে বহু বছর ধরেই।
বৃক্ষরোপণ, পরিচর্যা, জলের যথোপযুক্ত ব্যবহারের পাশাপাশি প্রাকৃতিক সম্পদের সুস্থায়ী ব্যবস্থাপনের কথাও ভাবা দরকার। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকছে কিনা, সে দিকেও খেয়াল রাখা দরকার। বনপালনবিদ্যা বা ফরেস্ট্রি নিয়ে পড়লে এ সব বিষয়ে শিক্ষা লাভ করা যায়।
কী কী বিষয় শেখার সুযোগ মিলতে পারে?
অরণ্যের বাস্তুতন্ত্র, জীববৈচিত্র্য এবং তা সংরক্ষণের শিক্ষা দেওয়া হয় বনপালনবিদ্যা বা ফরেস্ট্রিতে। প্রাকৃতিক ভাবে বেড়ে ওঠা গাছের যত্নের পাশাপাশি বিশেষ প্রজাতির গাছের প্রজননের ব্যবস্থা করা বা প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য কৃত্রিম ভাবে অরণ্যের পরিবেশ তৈরি করার খুঁটিনাটি শেখানো হয়। বৃক্ষরোপণ এবং সেচের বন্দোবস্ত, বন্যপ্রাণীদের সুরক্ষিত রাখার কৌশলও শেখানো হয়। পরিবেশের ক্ষতি না করে কাঠ, কাগজ বা মধুর মতো বনজ সম্পদ সংগ্রহের শিক্ষাও মেলে এই পাঠ্যক্রমে।
আরও পড়ুন:
কারা সুযোগ পাবেন?
বনপালনবিদ্যা বা ফরেস্ট্রি নিয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। এ জন্য দ্বাদশ উত্তীর্ণ হতে হবে বিজ্ঞান বিভাগে। পরবর্তীকালে গবেষণার সুযোগও রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ফরেস্ট ইকোলজি, সিলভিকালচার, ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট-এর মতো বিষয় নিয়ে স্পেশ্যালাইজ়েশনের সুযোগ পাওয়া যাবে।
কোথায় সুযোগ পাবেন?
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ ফরেস্ট্রি রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন, ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া, ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট থেকে ফরেস্ট্রি নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। পড়াশোনা সম্পূর্ণ হওয়ার পর এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা এবং গবেষণা করা যেতে পারে।
কর্মসংস্থান:
এ ছাড়া, ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিস-এর অধীনে আধিকারিক পদে চাকরির সুযোগ পাওয়া যায়। পাশাপাশি, সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থার অধীনে ওয়াইল্ডলাইফ অফিসার, ফরেস্ট ডেভেলপমেন্ট অফিসার, ক্লাইমেট অ্যান্ড সাস্টেনেবিলিটি কনসালট্যান্ট, কর্পোরেট এনভায়রনমেন্ট ম্যানেজার পদে চাকরির সুযোগ মেলে।
পাশাপাশি, জঙ্গলের বিভিন্ন উদ্ভিদ থেকে ভেষজ সামগ্রী এবং ঔষধি তৈরিও করা হয়ে থাকে। সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থায় এই কাজের জন্য ফরেস্ট্রি বিশেষজ্ঞদের প্রয়োজন। তাই ডিগ্রি অর্জনের পর আগ্রহীরা চাইলে এই সমস্ত সংস্থাতেও কাজের সন্ধান করতে পারেন।
বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে অরণ্য সংরক্ষণে গুরুত্ব বাড়ছে। তাই যাঁরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব পালনে আগ্রহী, তাঁরা ফরেস্ট্রি নিয়ে পড়াশোনা করতে পারেন।