বেতন বৃদ্ধি এবং স্থায়ীকরণের দাবিতে এ বার নবান্নের সামনে অবস্থান বিক্ষোভের ডাক পশ্চিমবঙ্গ এনএসকিউএফ (ন্যাশনাল স্কিলস কোয়ালিফিকেশন ফ্রেম ওয়ার্ক) শিক্ষকদের।
অভিযোগ, গত বছর অক্টোবর থেকে বেতন পাচ্ছেন না বৃত্তিমূলক বিষয়ের শিক্ষকেরা। কারও কারও ক্ষেত্রে বেতন বন্ধ হয়েছে গত জুলাই থেকেই। প্রতিবাদে নবান্ন চত্বরে ১২ ঘণ্টা অবস্থানের কর্মসূচি ঘোষণা করল ইউনাইটেড ডব্লিউবিএনএসকিউএফ টিচার অ্যাসোসিয়েশন। জানা গিয়েছে চলতি মাসের ২১ জানুয়ারি সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই অবস্থানে বসবেন শিক্ষিকারা।
এনএসকিউএফ শিক্ষকদের অভিযোগ, তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট কোনও বেতন কাঠামো তৈরিই করা হয়নি। এমনকি দীর্ঘ দিন চাকরি করার পরও তাঁদের স্থায়ীকরণ বিষয়ে কোনও পদক্ষেপই করেনি রাজ্য সরকার। কোনও পদক্ষেপ করছে না। স্কুল শিক্ষা দফতরের অধীনে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত একাধিক বৃত্তিমূলক যে বিষয় পড়ানো হয়।
আরও পড়ুন:
বৃত্তিমূলক শিক্ষকদের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে তাঁদের নিয়ম বহির্ভূত ভাবে কারিগরি বিভাগের অধীনের নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের নিয়ন্ত্রণ করে তৃতীয় পক্ষ এজেন্সি। এর ফলে বেতন বৃদ্ধি অনিয়মিত হয়ে পড়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষকেরা। তাঁদের দাবি, গত ১২ বছর ধরে বোনাসও দেওয়া হয় না। এমনকি গত অক্টোবরের পর থেকে আটকে রয়েছে বেতন।
শিক্ষক সংগঠনের সভাপতি নিরুপম কোলে বলেন, “২০১৩ থেকে চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক হিসেবে কাজ করছি। ১,৬১১টি স্কুলে ৩,২২২ জন শিক্ষক যুক্ত রয়েছেন। তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকার ছেলেখেলা করছে।”
এ দিকে আটকে থাকা বেতন প্রসঙ্গে শিক্ষা দফতরের এক আধিকারিক দাবি করেছেন, কেন্দ্রের টাকা না আসাতেই এই জটিলতা। জানা গিয়েছে, চুক্তিভিত্তিক এই শিক্ষকদের টাকা দেওয়া হয় সমগ্র শিক্ষা মিশনের অধীনে কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ প্রকল্পের মাধ্যমে। নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক ওই আধিকারিক বলেন, “কেন্দ্র কয়েক হাজার কোটি টাকা আটকে রেখেছে। চুক্তি ভিত্তিক শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে রাজ্য সরকার অনেক বার ভাবনাচিন্তা করেছে। কিন্তু টাকা না এলে কিছুই করা সম্ভব নয়।”