কর্তৃপক্ষের অবহেলাই কি নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের আসল কারণ? উত্তর জানতে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-র প্রধান এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের উচ্চশিক্ষা দফতরের এক সচিবকে ডেকে পাঠাল সংসদের স্ট্যান্ডিং কমিটি।
চিকিৎসাবিদ্যা পড়ার সর্বভারতীয় পরীক্ষা নিট-এর প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় সোমবারই প্রশ্ন উঠেছিল এনটিএ-র ভূমিকা নিয়ে। একটি রিপোর্টে বলা হয়েছিল, দু’বছর আগে ২০২৪ সালে নিট-এর প্রশ্নফাঁস হওয়ার পরে একটি রিফর্ম কমিটি গড়ার প্রস্তাব দেওয়া সত্ত্বেও এনটিএ সেই কাজ সম্পন্ন করেনি। যে রিফর্ম কমিটি তৈরি করতে বলাই হয়েছিল নিট-এ অসদুপায় অবলম্বন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা প্রতিরোধ করার জন্য। স্ট্যান্ডিং কমিটি জানতে চায়, ওই অবহেলার কারণ কী? কেন ওই কমিটি গড়ার প্রস্তাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি? ২০২৪ সালে আর পরীক্ষা পদ্ধতি সংশোধনে আর যা যা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তা-ও মান্য করা হয়েছিল কি?
সংসদে শিক্ষা, মহিলা, শিশু, যুবক এবং ক্রীড়া বিষয়ক যে স্ট্যান্ডিং কমিটি রয়েছে, তারাই ওই সমস্ত প্রশ্নের জবাবদিহি করতে আগামী বৃহস্পতিবার, ২১ মে ডেকে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের উচ্চশিক্ষা দফতরের সচিব বিনীত জোশীকে। কারণ এনটিএ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকেরই অধীন স্বয়ংক্রিয় সংস্থা। এ ছাড়া এনটিএ-র প্রধান প্রদীপকুমার জোশীকেও স্ট্যান্ডিং কমিটির সামনে হাজির হতে বলা হয়েছে বৃহস্পতিবার।
২০২৪ সালে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার পরে এনটিএ-কে ১৬ সদস্যের একটি রিফর্ম কমিটি গড়ার প্রস্তাব দিয়েছিল ইসরো-পর প্রাক্তন প্রধান কে রাধাকৃষ্ণণ নেতৃত্বাধীন কমিটি। দেশের ভবিষ্যতের চিকিৎসক বেছে নেওয়ার পরীক্ষা পদ্ধতিকে স্বচ্ছ করতেই ওই পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল এনটিএ-কে। ১৬ জন অধিকর্তা এবং যৌথ অধিকর্তা নিয়োগের নির্দেশের পাশাপাশি, প্রতি অধিকর্তার অধীনে পরীক্ষা গ্রহণ পদ্ধতিতে কিছু বদল আনতে বলা হয়েছিল। তার অধিকাংশই পালন করা হয়নি। শুধু তা-ই নয় দু’বছরে কমিটিতে নিয়োগ হয়েছে মাত্র ৮ জনের। বাকি ৮টি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য পড়ে রয়েছে। ফলে শুরু করা হয়নি পরীক্ষা পদ্ধতি বদল করার কাজও। তার মধ্যেই ঘটে গিয়েছে আরও একটি প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা। এই মর্মেই স্ট্যান্ডিং কমিটি প্রশ্ন করবে ভারপ্রাপ্তদের।
উল্লেখ্য সংসদের ওই স্ট্যান্ডিং কমিটিতে কেন্দ্রীয় শাসক দল বিজেপির সদস্য ছাড়াও রয়েছেন অন্যান্য দলের সদস্যেরা। কমিটির মাথায় রয়েছেন কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিংহ।