স্থায়ীকরণ-সহ বেতন বৃদ্ধির দাবিতে ফের রাজপথে শিক্ষকেরা। হাইকোর্টের নির্দেশে ভোটের আগে বিকাশ ভবনের সামনে টানা অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করলেন রাজ্যের পার্শ্ব শিক্ষকেরা।
শুক্রবার বিধাননগরের পিএনবি মোড়ে জমায়েত হয়ে মিছিল করেন বিকাশ ভবন পর্যন্ত। বিকাশ ভবনের উল্টো দিকেই অবস্থানে বসেন পার্শ্ব শিক্ষকরা। আদালতের নির্দেশ মতো ৫০০ জন এই অবস্থান করতে পারবেন। পার্শ্ব শিক্ষকদের দাবি, বাম আমল বা বর্তমান তৃণমূল সরকার— কোনও দিনই তাঁদের দাবি পূরণ হয়নি। সকলেই বঞ্চনা করেছে তাঁদের। তাই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা এই অবস্থান ও ধর্না চালিয়ে যাবেন।
আরও পড়ুন:
পার্শ্বশিক্ষক ঐক্য মঞ্চের আহ্বায়ক ভগীরথ ঘোষ বলেন, “ভোট আসে-ভোট যায়, প্রতিশ্রুতি হিসাবে ভাতা ঘোষণা করা হয় রাজ্যের পার্শ্ব শিক্ষকদের জন্য। কিন্তু তাদের বেতনক্রম ও স্থায়ীকরণের বিষয়ে সরকার নীরব।” তাঁর দাবি, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষকের ঘাটতি তা পূরণ করেন পার্শ্ব শিক্ষকেরাই। কাজ করেও রাজ্যের অন্য শিক্ষকদের সমমর্যাদা দেওয়া হচ্ছে না তাঁদের। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ করতে হবে বলে দাবি তোলেন তাঁরা।
সম্প্রতি রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেটে পার্শ্বশিক্ষকদের জন্য ১০০০ টাকা বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে সরকার। কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট নন রাজ্যের ৪০ হাজারেরও বেশি পার্শ্বশিক্ষক। এ প্রসঙ্গে পার্শ্ব শিক্ষকদের দবি, এ ভাবে হাজার টাকা করে দিয়ে শিক্ষকদের অপমান করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ভাতা তাঁরা নেবেন না বলেও জানান। এমনকি অ্যাকাউন্টে বর্ধিত টাকা এলেও তাঁরা ফেরত দিয়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন।
২০২৪-এর ১ মার্চ শিক্ষা দফতরের তরফে পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব গিয়েছিল নবান্নে। সেখানে প্রাথমিকে ২৮ হাজার টাকা, উচ্চ প্রাথমিকে ৩২ হাজার টাকা বেতন ধার্য করা হয়েছিল। কিন্তু তা এখনও ঠান্ডাঘরে।
পার্শ্বশিক্ষকেরা প্রভিডেন্ট ফান্ড, চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যু হলে আর্থিক সাহায্য ও পরিবারের সদস্যদের চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা-সহ আরও বেশ কিছু দাবি তোলেন। তাঁদের অভিযোগ, ২০১৮ সালের পরে ধাপে ধাপে তাঁদের ভাতা মাত্র ১০০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাথমিক দেওয়া হত ১০ হাজার টাকা করে, তা বেড়ে হয়েছে ১০,৪২৮ টাকা। উচ্চ প্রাথমিকের ক্ষেত্রে ১৩ হাজার টাকা বেড়ে হয়েছে ১৩,৬৪১ টাকা।