Advertisement
E-Paper

নিট ইউজি-র প্রশ্নফাঁস: দু’বছর পরও কেন কাজ করছে না বিশেষ কমিটি? কর্তৃপক্ষের অবহেলাই কি দায়ী?

এক বিশেষ কমিটির পরামর্শে ১৬ সদস্যের একটি রিফর্ম কমিটি তৈরি করতে সম্মত হয় এনটিএ। ঠিক হয়, ওই কমিটিই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৮ মে ২০২৬ ১১:২৮
শিক্ষা মন্ত্রকের অধীনেই স্বয়ংক্রিয় ভাবে দায়িত্ব প্রাপ্ত এনটিএ।

শিক্ষা মন্ত্রকের অধীনেই স্বয়ংক্রিয় ভাবে দায়িত্ব প্রাপ্ত এনটিএ। ছবি: সংগৃহীত।

ভুল করলে শুধরে নেওয়াই দস্তুর। কিন্তু তেমন কোনও উদ্যোগ চোখে পড়েনি নিট ইউজি-র দায়িত্বে থাকা সংস্থার তরফে। প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের নেপথ্য কারণ খুঁজতে উঠে এসেছে এমন তথ্য যা থেকে বোঝা যায়, কর্তৃপক্ষ ভুল থেকে শিক্ষা নেননি।

সূত্রের খবর, পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের প্রবণতা ঠেকাতে এব‌ং পরীক্ষার পদ্ধতিকে স্বচ্ছ করতে দু’বছর আগে ১৬ সদস্যের ‘রিফর্ম কমিটি’ তৈরির কথা হয়েছিল। ২০২৬ পর্যন্ত ওই কমিটির অর্ধেক সদস্যকেই নিয়োগ করা যায়নি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, কর্তৃপক্ষের অবহেলাই কি সাহস জুগিয়েছে ২০২৬ নিট ইউজি প্রশ্নফাঁসে?

গত ৩ মে স্নাতকে চিকিৎসাবিদ্যা পড়ার প্রবেশিকা নিট ইউজি-র পরীক্ষা গ্রহণ করে নিয়ামক সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের অধীনে স্বয়ংক্রিয় ভাবে কাজ করে ওই সংস্থা। তার পর থেকেই উঠছিল প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ। ৯দিনের মাথায়, গত ১২ মে সে পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করেন কর্তৃপক্ষ। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে বেশ কয়েকজনকে।

তবে এই প্রথম নয়। ২০২৪-এও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল নিট-এর। ভবিষ্যতে যাতে তার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে জন্য একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এনটিএ। এক বিশেষ কমিটির পরামর্শে ১৬ সদস্যের একটি রিফর্ম কমিটি তৈরি করতে সম্মত হন কর্তৃপক্ষ। স্থির হয়, ওই কমিটিই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, দু’বছর পরেও সেই কমিটিতে রয়েছেন মাত্র ৮ সদস্য। বাকিদের পদ শূন্য। ফলে পরীক্ষা পদ্ধতিকে স্বচ্ছ করার প্রক্রিয়া কাজ করছে না। এরই মধ্যে ফের প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটল বলে অভিযোগ।

রিফর্ম কমিটিতে কী কী পদে নিয়োগ হওয়ার কথা ছিল?

২০২৪ সালের অক্টোবরে সরকার এনটিএ-র ১৬ সদস্যের রিফর্ম কমিটি গড়ার অনুমোদন দেয়। অধিকর্তা পদে ৮ জন এবং সহ-অধিকর্তা স্তরের পদে আরও ৮ জনের যোগ দেওয়ার কথা ছিল। এনটিএ-র প্রশাসনিক নাজরদারিকে আরও জোরদার করতে এই কমিটি গড়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন ইসরোর প্রাক্তন প্রধান কে রাধাকৃষ্ণণের নেতৃত্বাধীন কমিটি।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো দুর্ঘটনা এড়াতে কিছু পরামর্শও দেওয়া হয়

১. প্রত্যেক অধিকর্তার অধীনে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের দায়িত্বে এক একটি বিভাগ তৈরির কথা ছিল।

২. অস্থায়ী কর্মীদের পরিবর্তে স্থায়ী কর্মী নিয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে কোনও সমস্যা হলে তাঁরা দায়বদ্ধ হন।

৩. জরুরি এবং স্পর্শকাতর কাজের ক্ষেত্রে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের উপর নির্ভরশীলতা কমানোর পরামর্শও দেওয়া হয়।

৪. এনটিএ-র আভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক নজরদারিকে আরও জোরদার করা।

৫. এনটিএ ঠিক ভাবে কাজ করছে কি না, তা দেখার জন্য আলাদা একটি কমিটি তৈরি করা।

বর্তমান পরিস্থিতি কী বলছে?

রাজ্যসভায় জমা পড়া সরকারি খতিয়ান অনুযায়ী, রিফর্ম কমিটির সহ-অধিকর্তা পর্যায়ের ৮টি পদে নিযুক্ত হয়েছেন মাত্র ৫ জন, অধিকর্তা পদে মাত্র ৩ জন। ২০২৪-এর ‘ভুল’-এর পরও দু’বছরে রিফর্ম কমিটি গড়ার এই অবহেলা নিয়েই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধীরা। এ ব্যাপারে এনটিএ এবং সরকারের অবহেলাকেই দায়ী করে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, আরও এক বার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার পরে কি এনটিএ বাকি পদ পূর্ণ করবে?

NEET UG NEET Paper Leak Case
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy