সরকার তো ডবল ইঞ্জিন হয়েছে, এ বার সুযোগ সুবিধা দিতে হবে অন্য বিজেপি শাসিত রাজ্যের মতোই। এমনই দাবি উঠছে সমগ্র শিক্ষা মিশনে।
সম্প্রতি স্কুল শিক্ষা মন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন রাজ্যের সমগ্র শিক্ষা মিশনের শিক্ষাকর্মীদের একাংশ। তাঁদের দাবি ছিল, বিজেপি শাসিত অসম বা বিহারের মতো এ রাজ্যেও তাঁদের নির্দিষ্ট বেতন পরিকাঠামো এবং স্থায়ীকরণ সুনিশ্চিত করা হোক।
গত প্রায় দু’দশক ধরে সমগ্র শিক্ষা মিশন (তৎকালীন সর্বশিক্ষা মিশন) প্রকল্পের অধীনে রাজ্যের জেলা স্কুল পরিদর্শকের অফিসে বা সার্কেল অফিসে কাজ করছেন প্রায় আড়াই হাজার কর্মচারী। কেউ সহ-ইঞ্জিনিয়ার, কেউ আধিকারিক পদে রয়েছেন। আবার গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি কর্মীরাও রয়েছেন। দাবি, এক সময় প্রতি বছর তাঁদের চুক্তির পুনর্নবীকরণ হত। কিন্তু ২০১৬ সালে সেই চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয় ৬০ বছর পর্যন্ত।
সংগঠনের তরফে সন্তু মুখোপাধ্যায় জানান, ২০১৮ সালে একবার ৪০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। তার পর থেকে আর কোনও বৃদ্ধি হয়নি। অভিযোগ, প্রতি বছর জেলা স্তরের স্কুলশিক্ষা দফতরের যাবতীয় কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁদের। কিন্তু বেতন নগণ্য। গ্রুপ-ডি পদ মর্যাদার কর্মীদের বেতন ১০-১১ হাজার টাকায় আটকে রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমান বাজার মূল্যে এই বেতনে সংসার চালানো সম্ভব নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মীর বক্তব্য, ‘‘সহ-ইঞ্জিনিয়ারের বেতন সরকারি ক্ষেত্রে যেখানে লক্ষাধিক টাকা সেখানে এই স্তরের সহ-ইঞ্জিনিয়ার পান মাত্র ৩৮ হাজার টাকা।” সন্তু বলেন, ‘‘সম কাজে সম বেতন-সহ একাধিক দাবি মন্ত্রীর কাছে জানানো হয়েছে। তিনি সেগুলি গ্রহণ করেছেন। আশা করি সরকার আমাদের অবস্থা বিবেচনা করবেন।’’
সমগ্র শিক্ষা মিশনের কলকাতা জেলার প্রোজেক্ট কোঅর্ডিনেটর সম্রাট পুরকাইত বলেন, ‘‘অসমের মতো বিজেপি সরকার গঠিত হয়েছে এ রাজ্যেও। ওখানে কর্মীদের স্থায়ীকরণের পাশাপাশি সম কাজে সম বেতনও চালু রয়েছে। আমাদের বিশ্বাস এ রাজ্যের নতুন সরকার অবশ্যই আমাদের দিকটি বিবেচনা করে দেখবে।’’