নির্বাচনের কাজে ব্যস্ত শিক্ষকেরা। সামেটিভ পরীক্ষা বা ক্লাস করানো আদৌ সম্ভব কি না, সেটা নিয়েই সংশয়ে রয়েছেন তাঁরা। এর উপরে আবার গ্রীষ্মের ছুটিতে পড়ুয়াদের ‘সামার প্রোজেক্ট’ করার নির্দেশ দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশন। আতান্তরে শিক্ষকমহল।
জানা গিয়েছে, এপ্রিল মাসের মধ্যে ‘ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম’ করানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি এই প্রকল্পে যুক্ত করা করেছে বিডিও, এসডিও, ডিআই-সহ নানা পদাধিকারীকে। প্রশ্ন উঠেছে, নির্বাচনের কাজে যাঁরা ব্যস্ত রয়েছেন, তাঁদের নতুন করে এ ভাবে অন্য কাজে যুক্ত করা হল কেন? এর ফলে আদৌ স্কুলের প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে কি না, সেটা নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন শিক্ষকেরাই।
স্কুলশিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, সোমবার এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের ‘সামার প্রজেক্ট’ করাতে হবে। গত কয়েক বছরে একই ভাবে এই প্রকল্পে কাজ করানো হয়েছে। তা নিয়ে শিক্ষকদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু ওই বিজ্ঞপ্তির শেষে একটি সময় সারণি দেওয়া হয়েছে। তা নিয়েই আপত্তি তুলছেন শিক্ষকেরা।
সেখানে দেখানো হয়েছে, বেশ কয়েকটি ধাপে ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম করাতে হবে। সব ডিআই-কে নিয়ে ১০ এপ্রিলের মধ্যে এই প্রোগ্রাম শেষ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ১৭ এপ্রিলের মধ্যে স্কুলের প্রধানশিক্ষক এবং অবর স্কুল পরিদর্শকদের (এসআই) জন্য ওই ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম করার নির্দেশ রয়েছে ওই বিজ্ঞপ্তিতে। সেখানে ‘স্টেক হোল্ডার’ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মহকুমাশাসক, পুলিশ সুপার বা পুলিশ কমিশনারের প্রতিনিধি, অতিরিক্ত জেলা স্কুল পরিদর্শকদের। নোডাল অফিসার হিসেবে দেওয়া হয়েছে জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসককে।
এর পরের ধাপে স্কুলের নির্বাচিত শিক্ষকদের জন্য ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম শেষ করার সময় দেওয়া হয়েছে ২১ এপ্রিল ২০২৬। সেখানে নোডাল অফিসার হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে জেলা স্কুল পরিদর্শকদের। এখানেই প্রশ্ন শিক্ষকদের।
স্কুলে এই প্রকল্পের বাস্তবায়নের জন্য ব্লক, মহকুমা এবং জেলা স্তরে যে কমিটি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে, তার সব ক’টিতেই আবার রয়েছেন প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তিরা। এঁরা সকলেই ভোটের কাজে ব্যস্ত থাকবেন। তা হলে কী ভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে?
অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সম্পাদক চন্দন গড়াই বলেন, ‘‘ভোটের কাজে যেখানে সকলে ব্যস্ত, সেখানে এই ধরনের প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। প্রকল্প নিঃসন্দেহে ভাল। কিন্তু এই সময়সূচি নিয়ে যথেষ্ট আপত্তি রয়েছে।’’
শিক্ষকনেতা স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘পড়ুয়াদের ক্লাস কী ভাবে হবে সেটাই বোঝা যাচ্ছে না। ভোটের ডিউটি করতে গিয়ে শিক্ষকতাই করা যাচ্ছে না। তার উপরে এ ভাবে ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম আদৌ কতটা সফল হবে, তা নিয়েই তাঁরা চিন্তিত।’’