পূর্বতন সরকার মনোনীত সচিব এবং সভাপতিকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও রয়েছে গিয়েছে মনোনীত অস্থায়ী কমিটি। এ বার সেই কমিটি ভেঙে দেওয়ারও দাবি উঠল মধ্য শিক্ষা পর্ষদে।
জানা গিয়েছে, প্রায় ১৪ বছর নির্বাচন হয়নি মধ্যশিক্ষা পর্ষদে। সরকারের মনোনীত কমিটি কাজ চালাচ্ছিল। সেই কমিটি ভেঙে দিয়ে নির্বাচনের দাবি তুললেন শিক্ষকদের একাংশ। সম্প্রতি এই মর্মে সম্প্রতি স্কুলশিক্ষা দফতরে আবেদনও করেছেন এক শিক্ষক সংগঠন।
রাজ্যে পালা বদলের পরই সরকারি সব পদ থেকে পূর্বতন সরকার মনোনীত কর্তা-ব্যক্তিদের সরিয়ে দিয়েছে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি এবং সচিব পদ থেকে সরতে হয়েছে রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় এবং সুব্রত ঘোষকেও। পর্ষদ সূত্রের খবর, ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরই বন্ধ হয়ে যায় পর্ষদের নির্বাচন। ২০১২ নাগাদ সরকারের মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়, প্রশাসক নিযুক্ত হন কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়। ২০১৬ পর্যন্ত তিনি ওই পদেই ছিলেন। এর পর কল্যাণকেই সভাপতি মনোনীত করা হয়। ২০২২-এ এসএসসি দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হন তিনি। তার পর ২০২৪-এর জুনে সভাপতি পদে নিয়োগ করা হয় রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়কে।
কিন্তু কোনও রকম নির্বাচনের আয়োজন করা হয়নি বলে অভিযোগ। অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন–এর সম্পাদক চন্দন গড়াই বলেন, “স্কুল পরিচালন সমিতিগুলি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অথচ, স্কুলের উপরে থাকা পর্ষদের অস্থায়ী কমিটি বহাল রয়েছে, এটা কী করে হয়?” তাই তাঁরা দাবি তুলছেন যাতে দ্রুত ওই কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়, এবং নির্বাচিত প্রতিনিধি নিয়ে নতুন পর্ষদ গঠিত হয়।
নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতিও প্রায় একই দাবি তুলছে। সাধারণ সম্পাদক সুজিত দাস জানান, বাম জমানায় গোটা রাজ্য থেকে ৩১ জন শিক্ষক প্রতিনিধি এবং ৩ জন শিক্ষাকর্মী প্রতিনিধি থাকতেন পর্ষদের নির্বাচিত কমিটিতে। গোটা রাজ্যকে তিনটি বিভাগে ভাগ করা হত— উত্তরবঙ্গের জন্য জলপাইগুলি ডিভিশন, দক্ষিণবঙ্গের জন্য বর্ধমান এবং কলকাতার ও পার্শ্ববর্তী জেলার জন্য প্রেসিডেন্সি ডিভিশন। প্রতিটি বিভাগ থেকে মোট ৩৫ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকতেন। এ ছাড়া উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি এবং মাদ্রাসা বোর্ডের সভাপতিরা আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে থাকতেন। এর পাশাপাশি পর্ষদ রাজ্য থেকে একজন প্রধানশিক্ষককেও ওই কমিটিতে নিয়ে আসত। এই কমিটিই পাঠ্যক্রম তৈরি করত। তৃণমূল পাঠ্যক্রমের জন্য পৃথক কমিটি তৈরি করে।
সুজিত দাস বলেন, “তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরে আর কোনও নির্বাচন হয়নি। আমরা বহুবার দফতরে জানিয়েছি। লাভ হয়নি। আমরা চাই নতুন সরকার ফের নির্বাচন চালু করুক। কিন্তু সেটা যেন প্রহসন না হয়।”
সভাপতি পদে অবশ্য বরাবরই সরকার মনোনীত ব্যক্তিকেই বসানো হয়। কিন্তু কমিটি থাকে নির্বাচন করা হয়। তাতে একটা সাম্য বজায় থাকে বলে শিক্ষকদের মত। কিন্তু পুরোটাই সরকারের মনোনীতদের দ্বারা পরিচালিত হলে পর্ষদের স্বাতন্ত্র্য হারিয়ে যায় বলে অভিযোগ।
নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পরই স্কুলশিক্ষার খোলনলচে বদলে ফেলতে চাইছে বলে মনে করছে শিক্ষামহল। ফলে পুরনো পদ্ধতিতে ফিরে সুষ্ঠু প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালানোর বিষয়ে আশাবাদী শিক্ষকদের অনেকেই।