বৃষ্টি কবে নামবে, কবে তাপমাত্রা নেমে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হবে, দেশের উত্তর থেকে পূর্ব এবং মধ্যাঞ্চলের বাসিন্দাদের কাছে এখন এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তাপপ্রবাহের দাপটে নাজেহাল দেশের ওই বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এ বার কি আবহাওয়ার কোনও বদল ঘটবে? অন্তত তেমনই পূর্বাভাস দিচ্ছে মৌসম ভবন। একটি সুবিশাল পশ্চিমি ঝঞ্ঝা অবস্থান করছে উত্তর ভারতে। তা ছাড়া জম্মু-কাশ্মীর থেকে উত্তরাখণ্ড পর্যন্ত বিশাল একটি মেঘবলয় তৈরি হয়েছে। যা উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই উত্তর ভারত জুড়ে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়বে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ইনস্যাট থ্রিডিএস উপগ্রহের তোলা ছবিতে দেখা গিয়েছে যে, বিশাল আকারের একটি পশ্চিমি ঝঞ্ঝা হিমালয় অঞ্চল এবং উত্তর ভারত জুড়ে অবস্থান করছে। তার সঙ্গে ঘনীভূত হচ্ছে মেঘ। সেই মেঘবলয় জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডে বিস্তৃত। পশ্চিম হিমালয়ের উপরেও মেঘের সঞ্চার ঘটছে। অন্য দিকে, আরব সাগর এবং বঙ্গোপসাগরের উপরেও মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হচ্ছে। মৌসম ভবন জানিয়েছিল, ২৬ মে কেরলে বর্ষা ঢুকবে। কিন্তু মৌসুমি বায়ুর গতি শ্লথ হওয়ায় বর্ষা আরও দু’দিন দেরিতে ঢুকতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছে মৌসম ভবন। তবে ১ জুনের আগেই দেশে বর্ষা প্রবেশের সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে।
মৌসম ভবন জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু আরও সক্রিয় হলেই ২৮ মে থেকে ৩ জুনের মধ্যে কেরলের বিভিন্ন অংশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে। পশ্চিমি ঝঞ্ঝার কারণে উত্তর ভারতেও ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাপপ্রবাহের কবল থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। গত দু’সপ্তাহেরও বেশ সময় ধরে উত্তর, উত্তর-পশ্চিম, মধ্য ভারতে তাপপ্রবাহ চলছে। কোনও কোনও জায়গায় তীব্র তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দিল্লি, পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়, ঝাড়খণ্ড, রাজস্থান, বিহারে তাপপ্রবাহ চলছে। তার মধ্যে কিছুটা স্বস্তির খবর দিল মৌসম ভবন।