Advertisement
E-Paper

কর্মরত শিক্ষকদের টেট! কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর বয়ানে আশঙ্কার কালো মেঘ শিক্ষকমহলে

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:২১
প্রতীকী চিত্র।

প্রতীকী চিত্র।

টেট উত্তীর্ণ না হলে ছাড়তে হবে শিক্ষকতার চাকরি। গত বছর এই রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। যদিও রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছে উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ-সহ বেশ কিছু রাজ্য। এ রাজ্যের তরফে চিঠি দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকে। এরই মধ্যে লোকসভায় কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, শীর্ষ আদালতের রায় মেনে টেট উত্তীর্ণ হতেই হবে শিক্ষকদের। তার পরই নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা।

২০১১-র আগে কাজে যোগ দেওয়া শিক্ষকদের টেট বাধ্যতামূলক ছিল না। সারা দেশে কয়েক লক্ষ শিক্ষক রয়েছেন যাঁরা টেট উত্তীর্ণ নন। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর কেন্দ্র তাঁদের জন্য কী ভাবছে, তা-ই জানতে চান উত্তরপ্রদেশের সমাজবাদী পার্টির সাংসদ লালাজি ভর্মা। গত ৯ ফেব্রুয়ারি, জবাবি ভাষণে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জয়ন্ত চৌধরী বলেন, “শীর্ষ আদালতের নির্দেশে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, শিক্ষকতার চাকরি ধরে রাখতে টেট পাশ করা এখন আবশ্যিক যোগ্যতা।”

ঘটনাচক্রে, জয়ন্ত এখন উত্তরপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভার মনোনীত সাংসদ। এই বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশই প্রথম সুপ্রিম কোর্টের রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়েছিল। গত বছর ডিসেম্বরে সে পথে হেঁটেছিল পশ্চিমবঙ্গও। তার পর কেন্দ্রের তরফে রাজ্যকে চিঠি দিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল, এই রায় কার্যকর হলে এ রাজ্যে কত শিক্ষক সমস্যায় পড়বেন। অনেকেই তখন আশায় বুক বেঁধেছিলেন, হয়তো কোনও পদক্ষেপ করতে চলেছে কেন্দ্রে। কিন্তু সংসদে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর জবাবি ভাষণ নতুন করে আশঙ্কা তৈরি করেছে।

২০১১ সাল থেকে উচ্চ প্রাথমিকে চাকরি করছেন হুগলি জেলার তুষারকান্তি বন্দ্যোপাধ্যয়। তিনি বর্তমানে চিত্রশালী জুনিয়র হাই স্কুলে শিক্ষাকতা করেন। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন চাকরি করার পর এখন যদি হঠাৎ নতুন করে যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয়, সেটা খুবই সমস্যার। অহেতুক রাজনীতির না করে কেন্দ্রের উচিত অবিলম্বে অর্ডিন্যান্স জারি করা। তা না হলে আমাদের মতো অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকাকে চাকরিহারা হতে হবে।”

শিক্ষার অধিকার আইন, আরটিই ২০০৯ এবং এনসিটিই-র ২০১০ নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষকতার জন্য টেট পাস করা ন্যূনতম এবং বাধ্যতামূলক যোগ্যতা। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, টেট আবশ্যিক যোগ্যতা। কিন্তু সমস্যা হয়েছে ২০১১ পর্যন্ত শিক্ষকতায় নিযুক্তদের নিয়ে। সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য রায়ে জানিয়েছে, পাঁচ বছর পর্যন্ত যাঁদের চাকরি রয়েছে, প্রবীণ সেই শিক্ষকদের আর টেট পরীক্ষায় বসতে হবে না।

যদিও এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে নারাজ রাজ্য। শিক্ষা দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, তাঁরা ইতিমধ্যে রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়েছেসন সুপ্রিম কোর্টে। কেন্দ্রের তরফে যে সব তথ্য চাওয়া হয়েছিল, তা-ও পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী বলেন, “অবিলম্বে কেন্দ্র তাদের অবস্থান পরিষ্কার করুক। আমাদের দাবি, টেট দেননি এমন শিক্ষকদের চাকরি হারানোর আশঙ্কা থেকে মুক্ত করুক।”

বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতিরসাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, “কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের এই ধরণের দৃষ্টিভঙ্গি বিস্ময়কর। এত দিন পর সকলকে টেট-এ বসার কথা বলা হচ্ছে। অথচ, এনসিটিই রুল বলছে অন্য কথা। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার আসলে শিক্ষার মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে চাইছে।”

তবে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর জবাবি ভাষণ ঘিরে অহেতুক জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করছে বিজেপিপন্থী শিক্ষক সংগঠনগুলি। শীঘ্রই অর্ডিন্যান্স জারি করা হবে বলে তারা মনে করছে। বিজেপি শিক্ষক সংগঠনে নেতা পিন্টু পারুই বলেন, “আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান কলকাতায় আসছেন। তিনি তাঁর বক্তব্য এখানে স্পষ্ট জানাবেন। তাই গুজবে কান দেওয়ার দরকার নেই। আমরা আশাবাদী, কেন্দ্র দ্রুত অর্ডিন্যান্স জারি করে সকল শিক্ষকদের চাকরি সুরক্ষিত করবে।”

TET Controversy supream coart
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy