E-Paper

‘জিআই’ তকমা পাওয়া শীতলপাটির প্রচারে উদ্যোগ

প্রশাসন সূত্রেই জানা গিয়েছে, কোচবিহার ১ ব্লকের ঘুঘুমারি, ধলূয়াবাড়ির মতো কয়েক’টি গ্রাম শীতলপাটি তৈরির জন্য পরিচিত।

অরিন্দম সাহা

শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ ০১:২৬
শীতলপাটি বুনছেন এক শিল্পী।

শীতলপাটি বুনছেন এক শিল্পী। নিজস্ব চিত্র ।

দৃষ্টিনন্দন শৈল্পিক কারুকাজ তো রয়েইছে। তার উপরে গরমের মরসুমে মেলে ঠান্ডা পরশ! কোচবিহারে উৎপাদিত এমন শীতলপাটির খ্যাতি বহু দিনের। কোচবিহারের শিল্পীদের তৈরি সেই শীতলপাটির জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন বা ‘জিআই’ মর্যাদা মিলতেই ওই হস্তশিল্প সামগ্রীর প্রচার, প্রসারে বাড়তি জোর দিল কোচবিহার জেলা প্রশাসন। পর্যটক, আগ্রহী ক্রেতাদের হাতের নাগালে শীতলপাটি দেখার সুযোগ দিতে শুরু হয়েছে প্রদর্শনী কেন্দ্র তৈরির তৎপরতা। প্রশাসন সূত্রেই জানা গিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগী হয়েছেন কোচবিহারের জেলাশাসক জিতিন যাদব।আধিকারিকদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার জেলাশাসকের দফতরে ওই ব্যাপারে বৈঠক হয়েছে। কোচবিহারে তৈরি শীতলপাটি ‘ওয়ান ডিসট্রিক্ট ওয়ান প্রডাক্ট’ তালিকাভুক্ত করার পাশাপাশি নামি অনলাইন সংস্থার পণ্য তালিকায় শীতলপাটি যুক্ত করার প্রক্রিয়াও এগোচ্ছে। যাতে বিক্রির সুযোগ বাড়বে।

প্রশাসন সূত্রেই জানা গিয়েছে, কোচবিহার ১ ব্লকের ঘুঘুমারি, ধলূয়াবাড়ির মতো কয়েক’টি গ্রাম শীতলপাটি তৈরির জন্য পরিচিত। সম্প্রতি কোচবিহারের শীতলপাটির ভারত সরকারের জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন রেজিস্ট্রেশনের শংসাপত্র মেলে। প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, “কোচবিহারের শীতলপাটির জিআই স্বীকৃতি বড় প্রাপ্তি। জেলার ওই হস্তশিল্পের সম্ভারকে ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট, ওয়ান প্রডাক্ট হিসেবে তুলে ধরার কথা ভাবা হচ্ছে। অনলাইন সংস্থার মাধ্যমেও পৃথিবীর যে কোওন প্রান্ত থেকে আগ্রহীরা যাতে শীতলপাটি কেনার সুযোগ পান সেই ব্যাপারেও আলোচনা এগোচ্ছে।”

কোচবিহারের ধলূয়াবাড়ি অনেকের কাছে পাটি শিল্পীদের গ্রাম বলে পরিচিত। ওই গ্রামের বাসিন্দা পাটি শিল্পী টগররানি দে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁর ছেলে সঞ্জীব দে বলেন, “জিআই স্বীকৃতি পাওয়ায় শীতলপাটির সঙ্গে কোচবিহারের পরিচিতিও বাড়বে। প্রশাসনের উদ্যোগে এ বার আমরা শীতলপাটি নিয়ে আরও বেশি আশার আলোও দেখছি।” কোচবিহার দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্র বসুর প্রতিনিধি বিরাজ বসু বলেন, “শীতলপাটি নিয়ে প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।”কোচবিহারের ব্যবসায়ী সমিতির কর্তা সুরজ ঘোষ বলেন, “আধুনিক মাধ্যমে বিশ্ববাজারে কোচবিহারের শীতলপাটির স্বতন্ত্রতা প্রচার হলে জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভবনা জোরাল হবে।” প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচবিহার শহর ছাড়াও জেলার আর কোন কোন এলাকায় শীতলপাটির প্রচার, প্রসারে প্রদর্শনীর পরিকাঠামো করা যায়, তা দেখা হচ্ছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Cooch Behar GI Tag

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy