Advertisement
E-Paper

‘পোস্টাল ব্যালট’ প্রক্রিয়া সুরক্ষিত করতে বিশেষ জোর নির্বাচন কমিশনের, সাময়িক স্বস্তিতে ভোটকর্মী ঐক্যমঞ্চ

জোর দেওয়া হয়েছে ব্যালট পেপারে ভোটদানের প্রক্রিয়াতে। পোস্টাল ব্যালটের বাক্স যেন ‘সিলড’ অবস্থায় থাকে সেটা সুনিশ্চিত করতে অবজার্ভার এবং মাইক্রো অবজার্ভারদের দায়িত্ব দিয়েছে কমিশন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:২৩

— প্রতীকী চিত্র।

পোস্টাল ব্যালটে নির্বাচন প্রক্রিয়া এ বার আরও আঁটোসাঁটো করতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি এক নির্দেশিকায় সেই ইঙ্গিত মিলছে বলেই দাবি শিক্ষকদের। নির্বাচন কমিশনের ওই নির্দেশিকা সম্পর্কে জানানো হয়েছে, প্রতি নির্বাচনেই ওই সব দিকগুলিকে গুরুত্ব দিয়েই দেখা হয়। এ বারে আরও জোর দেওয়া হয়েছে।

ব্যালটের ভোট প্রক্রিয়া কি আদৌ সুরক্ষিত, তা নিয়ে সম্প্রতি প্রশ্ন তুলেছিলেন শিক্ষকেরাই। সে সময়ই কমিশনের তরফে জানানো হয়েছিল যে এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে শক্ত হাতেই মোকাবিলা করতে চাওয়া হচ্ছে। সে সময়ে কমিশনের এক কর্তা জানিয়েছিলেন, ‘‘কোনও কেন্দ্রে বিক্ষিপ্ত ভাবে মুখ খোলা বাক্স থাকতে পারে। কিন্তু আইন তা নয়। এ বার নজরদারি আরও শক্ত করা হবে। যদি এমন অভিযোগ ওঠে, তা হলে ওই কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা আধিকারিককে শাস্তির মুখে পড়তে হবে।’’ কমিশনের নির্দেশিকাতেও এ বার সেই কথারই প্রতিফলন ঘটতে দেখা গেল।

অভিযোগ কী ছিল?

Advertisement

মূলত এই প্রসঙ্গে কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছিল বিএলও এবং ভোটকর্মী ঐক্যমঞ্চ। ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক শিক্ষক নেতা স্বপন মণ্ডল জানিয়েছিলেন, নির্বাচনের সময়ে তাঁরা ভোটের কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে সাধারণত প্রশিক্ষণের শেষ দিনেই ব্যালটের মাধ্যমে তাঁরা ভোট দেন। কিন্তু সেটি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ও নিশ্ছিদ্র নয়। আইন থাকলেও সর্বত্র সেটা মানা হয় না। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ভোটকর্মীরা প্রথমে একটি ব্যালট কাগজে প্রার্থীর নামের পাশে টিক চিহ্ন দেন। তার পরে ব্যালট বাক্সের মধ্যে সেই কাগজটি ঢুকিয়ে দেন। এর আগে বিভিন্ন নির্বাচনের সময়ে বহু কেন্দ্রে দেখা গিয়েছে সেই ব্যালট বাক্সের কোনও ঢাকনা থাকে না। অরক্ষিত ওই বাক্স থেকে যে কেউ ব্যালট কাগজ সরিয়ে নিতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশও করেন তিনি। তাই প্রথমেই মুখবন্ধ এবং ‘গালা সিল়ড্’ ব্যালট বাক্স রাখার দাবি তুলেছিলেন। পুরো ভোট প্রক্রিয়াকেই সুরক্ষিত করার দাবি জানিয়েছিলেন তিনি। সে দিনই কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছিলেন, আইনে সব রকম ব্যবস্থাই রয়েছে। কিন্তু সেটা মানা হচ্ছে কিনা তার দিকে এ বারে বিশেষ নজর থাকবে।

সম্প্রতি কমিশনের তরফে এক নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানে বিভিন্ন নির্দেশিকার পাশাপাশি জোর দেওয়া হয়েছে ব্যালট পেপারে ভোটদানের প্রক্রিয়াতেও। পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানের প্রক্রিয়া যেন গোপন থাকে এবং বাক্স যেন ‘সিলড’ অবস্থায় থাকে তা সুনিশ্চিত করতে অবজার্ভার এবং মাইক্রো অবজার্ভারদের দায়িত্ব দিয়েছে কমিশন। পাশাপাশি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, পোস্টাল ভোটিং কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা যেন এমন অবস্থানে থাকে যেখান থেকে পুরো ভোট দানের প্রক্রিয়া রেকর্ড করা যায়। তবে কোনও ভাবেই যেন গোপনীয়তা ক্ষুন্ন না হয় সেদিকেও নজর রাখতে বলেছে কমিশন।

এ দিন স্বপন বলেন, ‘‘ভোটকর্মীদের পোস্টাল ব্যালটে যে ভোট হত তাতে নানা ভাবে কারচুপি করার সম্ভাবনা থাকত। ব্যালট বাক্সও অধিকাংশ জায়গায় খোলা থেকে যেত। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেছিলাম এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জন্য। অবশেষে নির্বাচন কমিশন নড়েচড়ে বসেছে। যে পদক্ষেপ তাঁরা নিচ্ছেন তাতে ভোট কারচুপি আটকানো যাবে বলেই আমরা মনে করি।’’ বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের ওই আধিকারিক বলেন, ‘‘আইন আগেও ছিল। কিন্তু খুব গুরুত্ব এবং জোর দিয়ে সেগুলি যেন পালন করা হয় সেটাই এ বারে সুনিশ্চিত করতে চাইছে কমিশন।’’

Ballot Box Ballot Vote
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy