রাজ্যে সরকার বদলের পর আয়োজিত হতে চলেছে প্রথম প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা। ২০২৬-এর রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা (ডব্লিউবিজেইই) হবে আগামী ২৪ মে। আর পরীক্ষার দু’দিন আগে রাজ্য জয়েন্ট বোর্ডের তরফে পরিবর্তন করা হল দু’টি পরীক্ষাকেন্দ্র।
বোর্ড প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৬০১১৮০৪০০১ থেকে ৬০১১৮০৪৩৮০ রোল নম্বরের পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্র ছিল শিলিগুড়ি জগদীশচন্দ্র বিদ্যাপীঠ (১৮০৪)। এর পরিবর্তিতে তাঁরা রবিবার পরীক্ষা দিতে যাবেন কালীপদ ঘোষ তরাই মহাবিদ্যালয়ে (১৮০১)। নতুন পরীক্ষাকেন্দ্রের ঠিকানা বুড়ি বালাসন, কলেজ মোড়, জেলা-দার্জিলিং ৭৩৪০১৪। বাগডোগরা কলেজের কাছে।
আবার যাঁদের রোল নম্বর ৬০১৫০০৩০০১ থেকে ৬০১৫০০৩৫০০ তাঁদের পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল হাই স্কুলে (৫০০৩)। কিন্তু তাঁরা পরীক্ষা দেবেন বর্ধমান রাজ কলেজে (৫০০৪)। নতুন পরীক্ষাকেন্দ্রের ঠিকানা আফতাব হাউস, ফ্রেজার অ্যাভিনিউ, পূর্ব বর্ধমান ৭১৩১০৪। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের কাছে।
বোর্ডের তরফে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনিবার্য কারণবশত দু’টি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিবর্তন করা হয়েছে। পরীক্ষার তারিখ এবং সময় একই রাখা হয়েছে। তবে সে ক্ষেত্রে আর নতুন করে কোনও অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড করতে হবে না বলেই জানানো হয়েছে। পুরনো অ্যাডমিট কার্ডই পরিবর্তিত পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে ডব্লিউবিজেইই বোর্ড।
আরও পড়ুন:
চলতি বছর মোট ১,২০,৮৫৬ জন পরীক্ষার্থী নাম নথিভুক্ত করেছেন। ২৬৭ পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রাজ্যের ২৬৪ কেন্দ্রে ত্রিপুরার দু’টি কেন্দ্রে এবং অসমের একটি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের অন্তত দেড় ঘণ্টা আগে পৌঁছতে হবে পরীক্ষাকেন্দ্রে।
হ্যান্ড হেল্ড মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের আগে পরীক্ষার্থীদের নিবিড় ভাবে তল্লাশি করে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হবে। জালিয়াতি রোধ করতে রেডিয়ো ফ্রিকোয়েন্সি ডিটেক্টর সম্বলিত রোভিং অবজ়ারভারদের মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতি দুই থেকে চারটি পরীক্ষাকেন্দ্রের ক্লাস্টার বা গুচ্ছের জন্য একজন করে রোভিং অবজ়ারভার নিয়োগ করা হয়েছে।
প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রের জন্য পর্যাপ্ত বোর্ড অবজ়ারভার নিয়োগ করা হয়েছে। যে কোনও ধরনের জালিয়াতি সনাক্ত করার জন্য অন্য গোপন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পরীক্ষার ওএমআর শিট সাধারণ কাগজের মতো হলেও আসলে তার নীচে আর একটি হুবহু নকল বা ডুপ্লিকেট কপি জোড়া থাকবে (আগেকার দিনের কার্বন পেপারের মতো, তবে এতে আলাদা কোনও কালো কার্বন পেপার থাকবে না)। দু’টি পাতাই আলাদা করা থাকবে। যাতে একটি পাতা পরীক্ষাকেন্দ্রে জমা দেওয়া যায় এবং অন্য পাতাটি পরীক্ষার্থী বাড়ি নিয়ে যেতে পারেন।
সারা রাজ্য জুড়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, সুষ্ঠু পরিবহণ পরিষেবা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রশাসনিক সহায়তা ও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বোর্ডের তরফে।