Advertisement
E-Paper

স্থায়ী উপাচার্য কাজে যোগ দিতে পারছেন না, থমকে প্রশাসনিক কাজ! অচল বারাসাত রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়

২০২০-২১ থেকেই কোনও স্থায়ী উপাচার্য নেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। এমনকি সহ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রারের পদও এই মুহূর্তে শূন্য। ফলে থমকে রয়েছে যাবতীয় প্রশাসনিক কাজ। গবেষকেরা স্বীকৃতি পাচ্ছেন না, আটকে রয়েছে শিক্ষক-অধ্যাপকদের পদোন্নতি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:০২
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম

উপাচার্য নিয়োগ সংক্রান্ত জট কাটতেই চাইছে না। গত জানুয়ারিতে ছ’টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নাম সমাজমাধ্যমে ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। সেই তালিকায় ছিল বারাসাত রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও। কিন্তু তিন সপ্তাহ পরও সেখানে যোগ দিতে পারেননি মনোনীত উপাচার্য।

জানা গিয়েছে, ২০২০-২১ থেকেই কোনও স্থায়ী উপাচার্য নেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। এমনকি সহ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রারের পদও এই মুহূর্তে শূন্য। ফলে থমকে রয়েছে যাবতীয় প্রশাসনিক কাজ। গবেষকেরা স্বীকৃতি পাচ্ছেন না, আটকে রয়েছে শিক্ষক-অধ্যাপকদের পদোন্নতি।

হিসাব বলছে, প্রায় ৬৩ জন গবেষকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এই ডামাডোলে। ওই গবেষকেরা ইতিমধ্যেই তাঁদের প্রকল্পের কাজ জমা দিয়েছেন। কিন্তু ৩৩ জনের প্রকল্পে মূল্যায়নের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়নি। ১৫ জনের মৌখিক পরীক্ষার দিন চূড়ান্ত করা যায়নি। শংসাপত্র পাননি ২৭ জন। কারণ ২০২০-র পর থেকে আর সমাবর্তনই হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এমনকি এই সময়ের মধ্যে যাঁরা স্নাতক বা স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাঁদেরও শংসাপত্র দেওয়া হয়নি।

অভিযোগ, পিএইচডি সম্পূর্ণ করতে দেরি হচ্ছে বলে বিপাকে পড়ছেন গবেষকেরা। কলেজ সার্ভিস কমিশন বা পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় যোগ দিতে পারছেন না তাঁরা। চাকরির সুযোগ হাতছাড়া হতে চলেছে তাঁদের। অনেকে আবার উচ্চতর শিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে বিদেশ পাড়ি দিয়েছেন। হাতে শংসাপত্র না থাকায় তাঁদেরও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। জানা গিয়েছে, এই সমস্যা সমাধান সম্প্রতি তিন জনের হাতে শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়েছিল আচার্যের হস্তক্ষেপে। কিন্তু এ ভাবে সব সমস্যার সমাধান নয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক নারায়ণ ঘড়ুই বলেন, “উপাচার্য-সহ অন্য পদাধিকারীরা না থাকায় এই মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ অচলাবস্থা চলছে বলাই যায়। স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৫৩ টি কলেজের পরিচালনার ক্ষেত্রেও তৈরি হচ্ছে সমস্যা।”

রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘর্ষে গত কয়েক বছর ধরেই সমস্যায় এ রাজ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি। গত অক্টোবরে কলকাতা, যাদবপুর-সহ বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। গত ২৭, ২৮, ২৯ জানুয়ারি আরও ছ’টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নাম এক্স হ্যান্ডলে ঘোষণা করেন রাজ্যপাল। কিন্তু তাঁরা নিয়োগপত্র পাননি বলে সম্প্রতি জানা গিয়েছে। বিকাশ ভবন জানিয়েছে, লোকভবনের তরফে থেকে কোনও সুপারিশপত্র আসেনি, ফলে তারাও পদক্ষেপ করতে পারেনি।

এই পরিস্থিতিতে নানা সমস্যার সম্মুখীন বারাসাত বিশ্ববিদ্যালয়। জানা গিয়েছে, সেখানে সহ-উপাচার্য, পরীক্ষা নিয়ামকের পদও শূন্য। কয়েক মাস আগে অবসর নিয়েছেন রেজিস্ট্রারও। গঠিত হয়নি ফ্যাকাল্টি কাউন্সিল। ফলে প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি থমকে রয়েছে পঠনপাঠন সংক্রান্ত কাজও।

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-কে মান্যতা দিয়ে এখানে চালু হয়েছে চার বছরের ডিগ্রি কোর্স। কিন্তু এগ্‌জ়িকিউটিভ কাউন্সিলের বৈঠক না হওয়ায় সেই কোর্স স্বীকৃতি পায়নি বলে দাবি শিক্ষক-অধ্যাপকদের। এমনকি নাক পরিদর্শনও করানো হয়নি গত কয়েক বছরে। ফলে আগামী দিনে বিশ্ববিদ্যালয় বড় বিপদে পড়তে চলেছে বলে আশঙ্কা তাঁদের। প্রতিবাদে একবার আন্দোলনেও নেমেছিলেন বারাসাত রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষকরা।

উল্লেখ্য, বারাসাত রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী উপাচার্য হিসাবে কয়েকদিনের জন্য যোগ দিয়েছিলেন সোনালী চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু দু’দিন করার পরই তিনি বদলি হয়ে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য হয়ে যান। ২০২০-২১ সাল থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয় নেই স্থায়ী উপাচার্য।

VC appointment PHD
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy