শেষ কবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ছাত্রদের হাতে অধ্যাপক নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে, মনে করতে পারছেন না প্রায় কেউই। ২০ ফেব্রুয়ারি অধ্যাপক রাজ্যেশ্বর সিংহ এবং ললিত মাধবকে মারধরের ঘটনায় কার্যত স্তম্ভিত কর্তৃপক্ষ। যদিও এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ করেননি আক্রান্ত অধ্যাপক বা কর্তৃপক্ষের কেউই। যাদবপুরের ঐতিহ্য মেনে ঘটনার খবর পৌঁছয়নি থানা পর্যন্ত।
তবে চাপা অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের মর্যাদাহানির বিষয়টিও ভাবাচ্ছে শিক্ষকমহলকে। এমনকি পড়ুয়াদের একাংশের তরফেও দাবি উঠেছে, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
আরও পড়ুন:
শুক্রবার অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি (আইসিসি) নির্বাচনের প্রচার ঘিরেই বিবাদে জড়ান এসএফআই এবং ডব্লিউটিআই-এর সদস্যেরা। তাঁদের নিরস্ত করতে এগিয়ে গিয়ে আক্রান্ত হন দুই শিক্ষক। যদিও তাঁরা কোনও ছাত্রের বিরুদ্ধেই অভিযোগ করেননি।
এ দিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, প্রায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে রাজ্যেশ্বরের চোখ লক্ষ্য করে ঘুষি চালিয়েছিলেন এক ছাত্র। এসএফআইয়ের অভিযোগ, মারধরে অভিযুক্ত মূল তিন ছাত্র ডব্লিউটিআই-এর সদস্য। যদিও শনিবার পর্যন্ত ওই দলের তরফে কোনও বক্তব্য জানানো হয়নি।
এ দিকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে বছর খানেক ধরেই চলছে চাপানউতর। ক্যাম্পাসে নজরদারি ক্যামেরা বসানো হবে কি না, তা নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে। গত অগস্টে, নবান্ন প্রায় ৬৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে এই খাতে। যাদবপুর ও বিধাননগর ক্যাম্পাসের জন্য মোট ৭০টি ক্যামেরা লাগানোর সিদ্ধান্ত হয়। সেই কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এখনও সর্বত্র ক্যামেরা কাজ করতে শুরু করেনি। এরই মধ্যে এমন ঘটনায় দাবি উঠেছে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পদক্ষেপের।
তবে এসএফআইয়ের তরফে দাবি করা হয়েছে, শুক্রবার যেখানে গোলমাল হয়েছে, সেখানে ক্যামেরা ছিল। তাই ফুটেজ খতিয়ে দেখে চিহ্নিত অভিযুক্তদের কড়া শাস্তির দাবি তুলেছে তারা। শনিবার সকালেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এসএফআইয়ের আঞ্চলিক কমিটির সহ-সম্পাদক কৌশিকী ভট্টাচার্য বলেন, “ওই ঘটনায় কলা বিভাগের তিন ছাত্রকে আমরা চিহ্নিত করতে পেরেছি। দর্শনের উজান মাহাতো, সমাজবিদ্যার রূপম সিকদার ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের জাহিদ খান ওই সময় শিক্ষকদের উপর চড়াও হন। এঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছি কর্তৃপক্ষের কাছে।”
শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় অনলাইন বৈঠক হয় শিক্ষক-অধ্যাপকদের। আগেই উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, অনভিপ্রেত ঘটনা। তবে তাঁরা ছাত্রদের সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে আলোচনা করতে চান। এ দিন তিনি বলেন, “এটি সংগঠিত ঘটনা। দু’দল পড়ুয়া বিবাদে জড়িয়েছিল। সোমবার দু’দলের সঙ্গেই কথা বলব। মুখোমুখি বৈঠক হবে শিক্ষক-অধ্যাপকদের সঙ্গেও। তার পর সিদ্ধান্ত।”
যদিও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, বহু শিক্ষকই কর্মবিরতি পালন করতে চাইছেন। শিক্ষক সংগঠনগুলি অবশ্য এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সংগঠন (জুটার) সাধারণ সম্পাদক পার্থ প্রতিম রায় বলেন, “বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মীসঙ্কট, আর্থিক অবস্থা শোচনীয়। এরই মধ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়কে কালিমালিপ্ত করে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। পড়ুয়াদের একাংশও এর সঙ্গে জড়িত। এটা যেমন দুঃখজনক, তেমনই এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপও জরুরি।” তাঁর দাবি, শিক্ষকদের অনেকেই মনে করছেন কোনও শাস্তি না হলে, পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাবে।