কানে শোনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে কথা বলার কৌশলও। নানা কারণে বাগযন্ত্রের সমস্যা তৈরি হয়। কারও উচ্চারণ স্পষ্ট হয় না, কেউ সামান্য কথা বলতেও হোঁচট খান বার বার। এ সমস্যার সমাধান করেন অডিয়োলজিস্ট। আদতে তিনি শ্রবণযন্ত্র নিয়েই কাজ করেন। ছোট বা বড় হওয়ার পরেও কানে যদি শুনতে অসুবিধে হয় তা হলে বিশেষ থেরাপির মাধ্যমে ফিরে আসে শ্রবণশক্তি।
এই পেশায় নিযুক্ত হওয়ার জন্যও চাই বিশেষ পড়াশোনা। উচ্চ মাধ্যমিকের পর যদি অডিয়োলজি পড়াশোনা করা যেতে পারে। রইল সে সবের খুঁটিনাটি।
পড়াশোনা
অডিয়োলজিস্ট হওয়ার জন্য বাচেলর ইন অডিয়োলজি অ্যান্ড স্পিচ-ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাথলজি বিষয়ে স্নাতক পড়া যায়। এটি চার বছরের কোর্স। তিন বছর পড়ার পর এক বছর ইন্টার্নশিপ করতে হয়। শুধু কানের সমস্যাই নয়, কথা বলতে অসুবিধা হলেও কোন পদ্ধতিতে তা ঠিক হতে পারে সে পাঠও মিলবে এই কোর্সেই। স্নাতকের পর চাইলে এই বিষয়ে স্পেশ্যালাইজ়েশন করারও সুযোগ রয়েছে। স্নাতক স্তরে ভর্তির জন্যও দ্বাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিষয় থাকতে হয়।
কোথায় পড়া যায়
রাজ্যের ইনস্টিটিউট অফ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চে এই বিষয়ে পড়ানো হয়। এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য জয়েন্ট পরীক্ষা পাশ করতে হয়।
কলকাতা ও মুম্বইয়ের আলি ইয়াভার জং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্পীচ অ্যান্ড হিয়ারিং ডিস্যাবিলিটিজ়।
কেরলের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ স্পিচ অ্যান্ড হিয়ারিং।
এ ছাড়াও দেশের আরও সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এই বিষয়ে পড়ানো হয়। তবে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রবেশিকা উত্তীর্ণ হতে হয়।
খরচ কত?
সাধারণত সরকারি কলেজে ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা প্রয়োজন হয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেই খরচই ১ থেকে ৩ লক্ষ টাকা হয়।
চাকরির সুযোগ
অডিয়োলজিস্ট এবং স্পিচ থেরাপিস্ট হিসাবে চাকরির সুযোগ রয়েছে। দেশে যেমন কাজের চাহিদা রয়েছে পাশাপাশি বিদেশে, বিশেষ করে আমেরিকা, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়াতেও চাকরি সুযোগ অনেক। সরকারি বেসরকারি হাসপাতালের ইএনটি বিভাগে চাকরির সুযোগ রয়েছে। স্বাধীন ভাবে নিজস্ব ক্লিনিক খোলারও সুযোগ রয়েছে।