প্রথম রাজ্য বাজেটে টিংকারিং ল্যাব-এর জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছে বিজেপি সরকার। অথচ, অটল টিংকারিং ল্যাব নামের এই প্রকল্প আসলে কেন্দ্রের। স্কুল স্তর থেকে পড়ুয়াদের মধ্যে উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ ঘটাতেই এই প্রকল্প। গত সোমবার রাজ্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ঘোষণা করেছেন, অন্তত ১ হাজার স্কুলে ২০০ কোটি টাকা ব্যায়ে অটল টিঙ্কারিং ল্যাব গঠন করা হবে।
কিন্তু কী হয় এই গবেষণাগারে?
টিংকারিং শব্দের অর্থ ছোটখাট মেরামতির কাজ। অটল টিঙ্কারিং ল্যাব পড়ুয়াদের মধ্যে উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ ঘটাতে কাজে লাগানো হয় বলে দাবি। ২০১৮ থেকে কলকাতার যাদবপুর বিদ্যাপীঠে এই গবেষণাগার ব্যবহার করছে পড়ুয়ারা। মূলত ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা যোগ দেয় গবেষণা কাজে।
জানা গিয়েছে, ইলেকট্রনিক্স, রোবোটিক্স, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিজ়াইন সংক্রান্ত বিষয় হাতে-কলমে শেখানো হয়। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের মতো নানা মডেল তৈরি করার সুযোগও পায় এই গবেষণাগারে। সে জন্য একটি বিশেষ মডেল রাখা থাকে, আবার নানা ধরনের সরঞ্জামও রাখা থাকে ওই গবেষণাগারে।
এই প্রকল্পে কেন্দ্রের তরফে ৫ বছরে এক একটি স্কুলকে ২০ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার কথা। যাদবপুর বিদ্যাপীঠ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ২০১৮ সালে ১২ লক্ষ টাকা দিয়ে এই গবেষণাগার প্রস্তুত করা হয়েছিল। তার পর প্রতি বছর ২ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার কথা। কিন্তু সে টাকা পাওয়া যায়নি। তবে ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে ২ লক্ষ টাকা করে মোট ৪ লক্ষ টাকা পাওয়া গিয়েছে।
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে বদলেছে শাসক। এ রাজ্যের ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। তার পরই বাজেটে এই প্রকল্পে ২০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে বলে জানানো হয়েছে। যদিও রাজ্য কেন এই টাকা দেবে, তা নিয়ে একটা ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে। এক শিক্ষক জানান, পূর্ণাঙ্গ নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এটা বোঝা যাবে না, কেন্দ্রীয় প্রকল্পে রাজ্য বরাদ্দ করেছে, না কি পৃথক ভাবে অটল ল্যাব করার উদ্যোগ! প্রধানশিক্ষক পার্থপ্রতিম বৈদ্য বলেন, “যা-ই হোক না কেন, পড়ুয়াদের মধ্যে নিজের হাতে কিছু তৈরি করার জন্য উৎসাহ দেবে সরকার, এটা সদর্থক বিষয়। এ ভাবে পড়ুয়াদের মধ্যে উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ হবে বলেই আমি মনে করি। এখনও পর্যন্ত বহু পড়ুয়া হাতে-কলমে অনেক কিছু শিখেছে এখানে।”
শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা সম্পাদক অনিমেষ হালদার বলেন, “স্কুল স্তরে ছাত্রছাত্রীদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ হলে ভবিষ্যতের উন্নয়ন সুদৃঢ় হবে। খুদে বিজ্ঞানী তৈরিতে এই গবেষণাগার কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করবে। তবে শুধু এই ধরনের গবেষণাগারে বরাদ্দ হলে শিক্ষার সার্বিক উন্নতি হবে, তা বলা যায় না।” তাঁর দাবি, স্কুলগুলিতে জীববিজ্ঞান, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, ভূগোলের গবেষণাগার উন্নয়নে জোর দেওয়া দরকার। সরকার এ দিকে নজর না দিলে পঠনপাঠনের মানোন্নয়ন অসম্ভব বলে মনে করেন অনিমেষ।