উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে আইন এক প্রাচীন পাঠক্রম। আইনকে পেশা হিসাবে নেওয়ার জন্য প্রয়োজন হয় প্রথাগত আইনশিক্ষার। দ্বাদশের পর স্নাতকে আইন নিয়ে পড়াশোনা করার জন্য উত্তীর্ণ হতে হয় নির্দিষ্ট প্রবেশিকায়। আবার পড়াশোনা শেষ করে আইনজীবী হিসাবে কাজ শুরু করতে গেলেও একটি বিশেষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া প্রয়োজন। রাজ্যে আইন নিয়ে পড়ার সুযোগ কেমন? পেশাগত সুযোগ সুবিধাই বা কতটা?
আইনজীবী হওয়ার প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি:
প্রথমত, ৫ বছরের বিএএলএলবি কোর্স করা যেতে পারে। দ্বাদশ শ্রেণির পর সরকারি বা বেসরকারি কোনও আইন কলেজে ৫ বছর পড়াশোনা করা যায়।
আবার, ৩ বছরের এলএলবি (ব্যাচেলর অফ ল) কোর্স করা যেতে পারে। সাধারণত অন্য কোনও বিষয়ে স্নাতকোত্তীর্ণ হওয়ার পর আইন নিয়ে পড়তে চাইলে তিন বছরের পাঠ্যক্রমে যোগ দিতে হয়। দেশের যে কোনও আইন কলেজে তা পড়া যায়।
যোগ্যতা:
আইনজীবী হওয়ার জন্য অবশ্যই দ্বাদশ উত্তীর্ণ হতে হবে। সে ক্ষেত্রে যে কোনও বিভাগে ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর থাকা বাঞ্ছনীয়।
প্রবেশিকা পরীক্ষা:
দ্বাদশ শ্রেণির পর ভারতের যে কোনও আইন কলেজে ল পড়ার জন্য প্রার্থীকে ক্ল্যাট (কমন ল অ্যাডমিশন টেস্ট) নামের প্রবেশিকা পরীক্ষা দিতে হয়। এই পরীক্ষা পাশ করার পরই দেশের যে কোনও আইন কলেজে পড়াশোনার জন্য আবেদন করতে পারেন।
সর্বভারতীয় স্তরে ক্ল্যাট পরীক্ষা ছাড়াও রাজ্য স্তরে আইনের বিভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষা রয়েছে। সেই প্রবেশিকা পরীক্ষাগুলি দিয়েও এক জন প্রার্থী রাজ্যের বিভিন্ন আইন কলেজে ভর্তি হতে পারেন।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রধান যতীন্দ্রকুমার দাস জানিয়েছেন, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজিত প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে মেধার ভিত্তিতে ভর্তি হওয়া যায়।
বিএএলএলবি, এলএলবি-র পর ইন্টার্নশিপ:
আইন বিষয় পড়াশোনার পর ইন্টার্নশিপ করা বাধ্যতামূলক। আদালতে কী ভাবে শুনানি হয়, বাদী ও বিবাদী পক্ষের আইনজীবীরা কী ভাবে যুক্তি তর্কের অবতারণা করেন— যাবতীয় বিষয় ইন্টার্নশিপে শেখানো হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আইন কলেজগুলি শিক্ষার্থীদের পঞ্চম সেমিস্টারের পর নম্বরের ভিত্তিতে ইন্টার্নশিপের সুযোগ করে দেয়।
বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া-র পরীক্ষা:
আইনজীবী হওয়ার জন্য ইন্টার্নশিপের পর বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া আয়োজিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরই একজন শিক্ষার্থী আদালতে কাজ শুরু করার জন্য একটি শংসাপত্র পেয়ে থাকেন। এর সাহায্যে ভবিষ্যতে আইনজীবী হিসাবে পেশাদার হয়ে উঠতে পারেন।
পেশাগত সুযোগ
আইনের সব ক’টি বিভাগই কোথাও না কোথাও একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। কেউ যদি দেওয়ানি (সিভিল) আইনি বিভাগ নিয়ে পড়েন, তাঁকে ফৌজদারি (ক্রিমিন্যাল) বিভাগের পড়াশোনাও জানতে হয়। তাই আইনের সব বিভাগেই পেশাগত উন্নতির সুযোগ রয়েছে।
যতীন্দ্রকুমার বলেন, ‘‘কোনও নির্দিষ্ট বিভাগের কাজ হয় না আইনে। এখানে এক বিভাগের সঙ্গে আর এক বিভাগ মিলে মিশে থাকে। যদি কেউ সার্বিক ভাবে পড়াশোনার অভ্যাস না রাখেন, তা হলে পরবর্তীতে ওকালতি করতে সমস্যা হবে।’’
হাইকোর্টে সাত বছর অন্তত আইনজীবী হিসাবে কাজ করতে হয় পরবর্তী উন্নতির জন্য। সুপ্রিম কোর্টের ক্ষেত্রেও প্রথমে জুনিয়র আইনজীবী হিসাবে কাজ করতে হয় তার পর নিয়ম অনুযায়ী পদোন্নতির সুযোগ থাকে। আইন নিয়ে অধ্যাপনার ইচ্ছে থাকলে, আইনে স্নাতকোত্তর পড়ে নেট উত্তীর্ণ হয়ে পিএইচডি করা এবং অধ্যাপকের কাজের নিযুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।