ফের নিরাপত্তাবাহিনীর উপরে আক্রমণ চালালো জঙ্গিরা। অরুণাচল, নাগাল্যান্ডের পরে এ বার ঘটনাস্থল মণিপুর। মণিপুরের চান্ডেল জেলায় সেনাবাহিনীর উপরে বৃহস্পতিবার সকালে ভয়ানক হামলা চালায় জঙ্গিরা। এতে মারা গেলেন অন্তত ২০ জন জওয়ান। ফলে, মণিপুরে আফস্পা বলবত রাখার জমি আরও মজবুত হল। হামলার পিছনে কোন জঙ্গি সংগঠন রয়েছে তা নিয়ে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও সেনাসূত্রে খবর, সংঘর্ষবিরতি ভঙ্গ করা খাপলাং বাহিনীর মদতে মণিপুরের পিএলএ জঙ্গিরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

সেনাসূত্রে খবর, ৬ ডোগরা রেজিমেন্টের জওয়ানরা ৪টি গাড়ির কনভয় নিয়ে ইম্ফল থেকে চান্ডেল যাচ্ছিল। সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ পারালং ও চারং গ্রামের মধ্যবর্তী মোলটুক গ্রামের কাছে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিরা কনভয় লক্ষ্য করে রকেট চালিত গ্রেনেড ছোড়ে। বিস্ফোরণে গাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। গাড়ির ভিতরেও বিস্ফোরণ হয়। এরপর জওয়ানদের লক্ষ্য করে শুরু হয় নাগাড়ে গুলিবর্ষণ। ঘটনাস্থলেই ১১ জন জওয়ান মারা যান। জখম হন ১৭ জন। জওয়ানরা পাল্টা গুলি চালালেও জঙ্গিদের কেউ হতাহত হয়নি বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে জঙ্গিরা একাধিক আগ্নেয়াস্ত্রও লুঠ করে. জখম জওয়ানদের পরে চপারে নাগাল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে আরও ৯ জন জওয়ান মারা গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সেনাবাহিনী ও আধা সেনার বিরাট বাহিনী এলাকা জুড়ে অভিযানে নেমেছে। তবে, ঘটনায় জড়িত জঙ্গিরা মায়ানমারে পালিয়ে গিয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

এর আগে, গত এপ্রিলে অরুণাচলের টিরাপ জেলায় রাজপুত রেজিমেন্টের কনভয়ে হানা দিয়ে তিন জওয়ানকে হত্যা করেছিল সংঘর্ষবিরতি ভঙ্গ করা এনএসসিএন খাপলাং জঙ্গিরা। পরের মাসে নাগাল্যান্ডের মন জেলায় আসাম রাইফেল্স-এর কনভয়ে হামলা চালিয়ে ৮ জওয়ানকে হত্যা করে খাপলাং-আলফা জোটের জঙ্গিরা।

হামলার তীব্র নিন্দা করে প্রধানমন্ত্রী টুইটারে বলেন, “জঙ্গিদের এই বর্বরোচিত হামলার নিন্দার ভাষা নেই। শহিদ সেনা-জওয়ানদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।”

টুইটারে রাহুল গাঁধীও শহিদ সেনা-জওয়ানদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।