গরমের মধ্যেও টানা ১১ ঘণ্টা কাজ করার জন্য চাপ দিচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। এই অভিযোগে বেশ কয়েক দিন ধরেই প্রতিবাদ শুরু করেছিলেন শ্রমিকেরা। কিন্তু সমস্যার সমাধান না হওয়ায় এ বার থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালেন হনুমান জুটমিলের শ্রমিকেরা। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার মালিপাঁচঘড়ার কালীতলা এলাকায়।
কয়েক দিন আগেই হুগলির ভদ্রেশ্বরে শ্রমিক অসন্তোষের রোষে পড়ে খুন হন জুট মিলের সিইও। এর পরে এ দিন ফের জুটমিলে শ্রমিক বিক্ষোভে নড়েচড়ে বসে পুলিশ। সকালে কাজে যোগ দিতে আসার পরেই বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকেরা। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। তবে শ্রমিকেরা প্রথম দিকে কারখানার সামনে বিক্ষোভ দেখালেও পরে মালিপাঁচঘরা থানা ঘেরাও করেন। সেখানে ডেপুটেশন জমা দেন।
এ দিন সকালে কাজে যোগ দিতে এসে শ্রমিকেরা দেখেন, আট জনকে কাজ থেকে বসিয়ে দিয়েছেন জুটমিল কর্তৃপক্ষ। কেননা, কাজের সময় পুনরায় আট ঘণ্টায় ফিরিয়ে আনার জন্য যে সমস্ত শ্রমিক প্রতিবাদ করছিলেন তাঁদের মধ্যে ওই আট জন রয়েছেন। শ্রমিকেরা জানান, এই ঘটনার প্রতিবাদে তাঁরা কারখানার গেটে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে থানা ঘেরাও করেন। জুট মিলের তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের সম্পাদক নাসিম খান অবশ্য বলেন, “বিরোধীদের কয়েক জন শ্রমিকের সঙ্গে বাইরের লোকেরা মিলে এই বিক্ষোভ করেছেন। এটা কারখানাকে অচল করে বন্ধ করে দেওয়ার একটা চক্রান্ত। বেশি সময়ের কাজের জন্য তো কর্তৃপক্ষ মজুরি দিচ্ছেন।” হনুমান জুট মিল কর্তৃপক্ষর দাবি, কিছু শ্রমিক বেশি সময় কাজ না করেই অতিরিক্ত মজুরি পেতে চাইছেন। তাই তাঁরা অহেতুক এই সব ঝামেলা করছেন।