আগামী ২৬ মে দেশের ১৪তম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার সংসদের সেন্ট্রাল হলে বিজেপির সংসদীয় দলের বৈঠকের পর নরেন্দ্র মোদী-সহ এনডিএ-র ১৫ সদস্যের একটি দল রাইসিনা হিলে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে যান। দেশের ভাবী প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত ছিলেন রাষ্ট্রপতি। উভয়ের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় হয়। লোকসভা নির্বাচনে চূড়ান্ত সাফল্যের জন্য মোদীকে অভিনন্দন জানান প্রণববাবু। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত্ শেষে নরেন্দ্র মোদী বলেন, “আগামী সোমবার ২৬ মে সন্ধে ছ’টায় শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান।”
এর আগে এ দিন বেলা বারোটায় দলের নব নির্বাচিত সাংসদ, বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে সংসদের সেন্ট্রাল হলে বিজেপি-র সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হলেন নরেন্দ্র মোদী।
শুরুতেই নিজেকে নির্বাচন আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি রাজনাথ সিংহ বলেন, “এই নির্বাচন ভয়মুক্ত এবং স্বচ্ছ হওয়া উচিত।” এর পর তিনি বিজেপি-র সংসদীয় দলের নেতার নাম প্রস্তাবের জন্য লালকৃষ্ণ আডবাণীকে অনুরোধ করেন। সেন্ট্রাল হলের ইতিহাস সম্পর্কে দু’-এক কথা বলার পর আডবাণী প্রস্তাব করেন মোদীর নাম। তিনি বলেন, “দলের সংসদীয় নেতা হিসেবে আমি গুজরাতের জনপ্রিয় এবং যশস্বী মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্রভাই মোদীর নাম প্রস্তাব করছি।” তাঁর প্রস্তাব একে একে সমর্থন করেন মুরলীমনোহর জোশী, বেঙ্কাইয়া নাইডু, নিতিন গডকড়ী, সুষমা স্বরাজ, অরুণ জেটলির মতো নেতানেত্রীরা। এর পর গোটা সেন্ট্রাল হল উঠে দাঁড়িয়ে মোদীকে নেতা হিসেবে বরণ করে নেয়।
সংদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর মোদী উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “আজকের এই সভায় যদি অটলবিহারী বাজপেয়ী থাকতেন তবে সোনায় সোহাগা হত।” বাজপেয়ীর আশীর্বাদ সদা সর্বদা সঙ্গে রয়েছে জানিয়ে মোদী বলেন, “সংসদ গণতন্ত্রের মন্দির। সেই মন্দিরে আমরা সম্পূর্ণ পবিত্রতার সঙ্গে পদের জন্য নয়, সওয়া শো কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বসে আছি।” পদভার নয়, তাঁর কাছে কার্যভার এবং দায়িত্বই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথায়, “সেই কার্যভারই আমাদের পরিপূর্ণ করতে হবে।”
সভার প্রথমেই রাজনাথ সিংহ জানিয়ে দিয়েছিলেন, সংসদের সেন্ট্রাল হলে মোদী এই প্রথম এলেন। গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেও তিনি কখনও আগে এই হলে আসেননি। মোদী নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে নরেন্দ্র ভাই বলতেন, ‘উই ক্যান’। বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে এখন আমি বলছি, ইয়েস, হি উইল।”
নেতা নির্বাচিত হয়ে মোদী এ দিন সেন্ট্রাল হলে দীর্ঘ ভাষণ দেন। পুরনো স্মৃতি যতই খারাপ হোক, নিরাশ মন নিয়ে এগিয়ে চলার কোনও প্রয়োজন নেই জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি আশাবাদী। আশাবাদী ব্যক্তিই দেশে আশার সঞ্চার করতে পারেন।”
ঘড়িতে যখন
২.৫০ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করলেন নরেন্দ্র মোদী -সহ এনডিএ-এর ১৫ সদস্য।
২.৩৫ রাষ্ট্রপতি ভবনে পৌঁছলেন মোদী।
১২.০০ বিজেপি-র সংসদীয় দলের বৈঠক শুরু।
১১.৫৫ সংসদে পৌঁছলেন মোদী।
১১.৪৫ সংসদীয় বৈঠকে যোগ দিতে গুজরাত ভবন থেকে বেরোলেন নরেন্দ্র মোদী।
১১.৪০ সংসদে পৌঁছলেন অমিত শাহ।
১১.৩০ সংসদীয় দলের বৈঠকে যোগ দিতে সংসদে পৌঁছলেন ইলাহাবাদের সাংসদ মুরলীমনোহর জোশী।