শনিবার দাসপুরের সভা তেমন জমেনি। মঞ্চে ছিলেন দেব, তবু তাঁকে দেখতে ভিড় হয়নি মাঠে। রবিবার তেমনটা হল না। নিয়ম মেনে দুপুর থেকে ভিড় জমল পিংলা, সবংয়ের সভায়। বেশির ভাগই স্কুল কলেজের পড়ুয়া। বেলা বাড়তে তাদের আনাগোনাও বাড়ল। ‘সামনে থেকে দেবদা-কে দেখা’, ‘হাত মেলানো’— উচ্ছ্বসিত তরুণ প্রজন্ম।
কিন্তু রাজনীতি তেমন জমল না ঘাটালের সাংসদের গলায়। বরং সোজাসুজি দেব বলেন, “আমি এখানে ভোট চাইতে আসিনি। আপনারা রাজনীতি আমার চেয়ে অনেক বেশি ভাল করে বোঝেন। দিদি প্রত্যেক মানুষের কথা ভাবেন। উনি যে ভাবে রাজ্যের উন্নয়ন নিয়ে ভাবেন, আমি খুব কম লোককে দেখেছি এ ভাবে ভাবতে। তাই দিদিকে ভালবাসি।” আর ভোট নিয়ে তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমার এলাকায় যদি কেউ বলে ভোট দিতে হবে আমি চোখ বন্ধ করে
তৃণমূলকে দেবো।”
তবে সভার হাল ধরেছেন আরেক সাংসদ মুকুল রায়। প্রথমে পিংলায়, পরে সবংয়ে। তবে অনেকে মনে করেছিলেন, সবংয়ের সভা থেকে মানস ভুঁইয়ার কড়া সমালোচনা করবেন মুকুলবাবু। ঠিক যে ভাবে এ দিন মানসবাবুর সমালোচনা করেন জেলা তৃণমূল নেতা অমূল্য মাইতিরা। মুকুলবাবু সবংয়ে এসে মানসবাবুর সমালোচনা করেছেন বটে কিন্তু তা তেমন ধারলো নয়। তিনি বলেন, “আদর্শকে জলাঞ্জলি দিয়ে ওরা (কংগ্রেস) জোট করেছে। মঙ্গলকোটে হাফ প্যান্ট পরে দৌড়েছে। স্মৃতি ভুলে আজ গলায় গলায় ভাব হয়েছে। এখন আর আমাদের বলতে হচ্ছে না ওরা এ টিম, ওরা বি টিম। এ টিম আর বি টিম এক হয়ে গিয়েছে।”
বরং সূর্যকান্ত মিশ্রর সমালোচনা উঠে এসেছে কড়া গলায়। মুকুলবাবু বলেন, “সূর্য বলতে শুরু করেছেন ১৯ তারিখের (মে) পর না কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা দেবেন ওঁরা। কিন্তু মমতা তো প্রাক্তন হবেন না। বরং সূর্যকান্ত মিশ্র প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা, প্রাক্তন বিধায়ক হয়ে যাবেন।” বক্তব্যের শেষ দিকে মুকুলবাবুর আর্জি রাখেন, “নির্মল (নির্মল ঘোষ) সবংয়ের প্রত্যেকটা গ্রাম চেনে। তাই ওকে জেতাতে হবে।”
তবে রাজনৈতিক বক্তব্য যা-ই থাক, এ দিনের সভা সরগরম ছিল দেবের সৌজন্যে। কালো জংলাছাপা শার্ট আর রঙিন রোদ চশমায় দেবকে ছুঁয়ে দেখার হিড়িক পড়ে গিয়েছিল দুই জায়গাতেই। কলেজ ছাত্রী রিম্পা কর যেমন বললেন, “দেবদাকে দেখার জন্য, ওর কথা শোনার জন্যই এখানে এসেছি!” স্কুলপড়ুয়া সৌরভ পাল, সৌম্য দাসদের কথায়, “এই প্রথম দেবদাকে সামনে থেকে দেখলাম। দারুন আনন্দ হচ্ছে!” সৌম্য যোগ করে, “আমি দেবদার সঙ্গে হাতও মিলিয়েছি!” স্বপ্নের নায়ক যখন হেসেছেন, পুরো মাঠ ফেটে পড়েছে হাততালিতে। যখন উঠে দাঁড়িয়েছেন, ‘দেব দেব’ চিৎকারে উদ্বেল হয়ে উঠছেন ভক্তকুল। তা শুনে তিনি হাত নেড়েছেন, তখন মাঠে কান পাতা দায়। মঞ্চ থেকে নীচে নামতেই ভেঙে পড়েছে মাঠ, নায়ককে একবার ছুঁয়ে দেখতে চান সবাই। এক সময় এক তৃণমূল নেতাকে বলতেও শোনা যায়, “এই টানাটানিতে অঘটন না ঘটে!”
তবে কি ভিড় শুধু দেব-দর্শনের টানেই। মানতে নারাজ তৃণমূল নেতারা। সভা শেষে সবংয়ের তৃণমূলপ্রার্থী নির্মল ঘোষ নিজেই বলছেন, “সভার এই ভিড়ই প্রমাণ করছে, মানুষ তৃণমূলের সঙ্গে আছেন! ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা তো ওকে দেখতে আসবেই!”