শেয পর্যন্ত সব জল্পনার অবসান ঘটালেন সনিয়া গাঁধী। বাংলায় ভোটের প্রচারে এসে এবার সরাসরি লাল ঝান্ডার নাম করে বাম প্রার্থীদের জেতানোর আবেদন জালানেল কংগ্রেস সভানেত্রী।
বিধানসভার ভোটে বাংলায় এবার কংগ্রেস এবং বামেরা আসন সমঝোতা করে লড়ছে। দু’দলের রাজ্য স্তরের নেতারাই একের পর এক যৌথ সভা, মিছিল করেছে। দু’দলের নেতৃত্বই পরস্পরকে জেতানোর আবেদন করেছে। তাহলে আজ সনিয়ার আবেদনের তাৎপর্য কোথায়?
আসলে ঘটনা হল-গত দু’দফার প্রচারে এসে কংগ্রেস সভানেত্রী রাজ্যে ক্ষমতাসীন সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেও বামেদের সঙ্গে জোট নিয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি। যার ফলে জল্পনা বেড়েছিল। তৃণমূলের একাংশ আগে থেকেই বাজি ধরে আসছিলেন কংগ্রেসের সঙ্গে বামেদের সঙ্গে জোটের সমঝোতার ব্যাপারে সনিয়া কিছুই জানেন না। রাজ্যে প্রচারে এসে নেত্রী জোট নিয়ে নীরব থাকায়, তৃণমূলের বাজি একতরফা মান্যতা পাচ্ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং এবং হুগলির শ্রীরামপুরে প্রচারে এসে সরাসরি জোট এবং বামেদের সমর্থনের কথা বলে তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছেন সনিয়া।
সনিয়া এদিন বলেন,‘বাংলার মানুষকে নতুন দায়িত্ব নিতে হবে। ইতিহাসের মতুন অধ্যায় রচনা করতে হবে। আমাদের কংগ্রেস এবং লাল ঝান্ডার প্রার্থীদের জিতিয়ে তৃণমূলকে পরাস্ত করতে হবে।’ আর দুই পর্বের ভোট শেষে বাংলায় যে জোট সরকারকে আসছে রাহুল গাঁধীর মতো সে কথা বলেছেন তাঁর মাও। বুধবার পার্ক সার্কাসে সভা করবেন রাহুল। সেই সভায় হাজির থাকবেন এ রাজ্যের প্রাক্তন মূখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। সেই সঙ্গে শ্রীরামপুরের সভায় আরও সংযোগ করে সনিয়া বলেন,‘এখানকার মানুষ তেরঙ্গা পতাকা নিয়ে স্বাধীনতা আন্দোলন করেছেন। তার পরে যখনই বিভাজনকারী এবং সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথা তুলতে চেয়েছে। কংগ্রেস এবং লাল ঝান্ডা বারে বারে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে।’
আরও পড়ুন- কমিশনের মান রাখল বাহিনী, সঙ্গত পুলিশের
সনিয়ার এদিনের মন্তব্যে স্বভাবতই স্বস্তিতে জোট শিবির। সিপিএম-এর হুগলি জেলার সম্পাদক সুদর্শণ রায়চৌধুরী যেমন বলেছেন,‘তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন বামপন্থীদের সঙ্গে সনিয়া সমঝোতা নাকি সনিয়াজি চান না। সনিয়াজি কী চান, তা আজ সকলের সামনেই স্পষ্ট হয়ে গেল।’ চাপদানির কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুল মান্নান বলেন,‘এই জোট হয়েছে মানুষের চাহিদা মেনেই। মানুষই এই জোটকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। কংগ্রেস সভানেত্রী তাতে আরও নতুন গতি এনে দিলেন।’
শ্রীরামপুরের সভা শেষ করে এদিন সনিয়া গাঁধী সভায় উপস্থিত জনতার মধ্যে নেমে আসেন। তাঁর কাছে যাওয়ার জন্য মানুষের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। এর পর কিছু মানুষকে ডেকে এলাকার সম্পর্কে খোঁজখবরও নেন তিনি।