২০২১ সালে ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়ে বিধায়ক হয়েছিলেন রাজ চক্রবর্তী। ২০২৫ সালে তাঁকে তাঁর পূর্বতন কেন্দ্রেই প্রার্থী করা হয়েছে। সেখানে বিজেপির কৌস্তুভ বাগচীর সঙ্গে তাঁর লড়াই। হলফনামা জমা দিয়ে পরিচালক-প্রযোজক তথা বিধায়ক রাজ জানিয়েছেন তাঁর সম্পত্তি, শিক্ষাগত যোগ্যতা। হলফনামা অনুসারে, গত পাঁচ বছরে অনেকটাই বেড়েছে রাজের আয়। তবে আয় এবং সম্পত্তির নিরিখে তাঁকে পিছনে ফেলেছেন তাঁর স্ত্রী তথা অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়।
রাজ নামে পরিচিত হলেও ব্যারাকপুরের বিধায়কের নাম রাজু। হলফনামাতেও সেই নামই লেখা রয়েছে।
অর্থ ও সম্পত্তি
রাজ হলফনামায় জানিয়েছেন, বিধায়কের পাশাপাশি তাঁর পেশা ছবি পরিচালনা। তাঁর স্ত্রী পেশায় এক জন অভিনেত্রী। গত পাঁচ বছরে তাঁর আয় বেড়েছে পাঁচ গুণেরও বেশি। ২০২০-২১ সালে রাজের আয় ছিল ৭ লক্ষ ২৪ হাজার ৩১০ টাকা। ২০২৪-২৫ সালে তাঁর আয় বেড়ে হয়েছে ৪১ লক্ষ ৮৯ হাজার ৩৩০ টাকা। ২০২০-২১ সালে শুভশ্রীর আয় ছিল ৩৭ লক্ষ ৭৭ হাজার ৬৯০ টাকা। ২০২৪-২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১ কোটি ৬৮ লক্ষ ৭৪ হাজার ৫৪০ টাকা।
রাজের হাতে নগদ ৩১ হাজার ৩২৬ টাকা রয়েছে। তাঁর স্ত্রী শুভশ্রীর হাতে রয়েছে নগদ ২০ হাজার ১৭৬ টাকা। রাজের কোনও গয়নাগাটি নেই। শুভশ্রীর প্রায় ১৯০ ভরি গয়না রয়েছে। তার মূল্য ২ কোটি ৬০ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা।
হলফনামা অনুসারে, রাজের দু’টি গাড়ি রয়েছে। একটি হল টাটা নেক্সন, যার মূল্য প্রায় ৭ লক্ষ ৮৮ হাজার ২১২ টাকা। দ্বিতীয়টি ভলভো, যার দাম ৮০ লক্ষ ৬২ হাজার ৪২৩ টাকা। শুভশ্রীর একটি স্করপিয়ো রয়েছে, যার মূল্য ১৬ লক্ষ ১২ হাজার ৫৭৫ টাকা। রাজের মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২ কোটি ১০ লক্ষ ৫১ হাজার ১৬৭ টাকা। শুভশ্রীর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১৩ কোটি ১৫ লক্ষ ৩৬ হাজার ৮৭৭ টাকা।
আরও পড়ুন:
-
১০০ ভরি সোনার মালিক লাভলি, পাঁচ বছরে পাঁচ গুণ হয়েছে সম্পত্তি! নিজের নামে বাড়ি নেই তৃণমূল বিধায়কের
-
ব্যাঙ্কে ২ কোটি, বাড়িও রয়েছে কোটি টাকার, দু'টি ট্রাক আছে রাসবিহারীর তৃণমূল প্রার্থীর, কী বলছে দেবাশিসের হলফনামা
-
ব্যাঙ্কে ৩ কোটি, রয়েছে ১৫ লক্ষ টাকার গয়না, কোনও গাড়ি নেই ব্রাত্যের! চতুর্থ বার ভোটে লড়ার আগে জানালেন সম্পত্তি
রাজ হলফনামায় জানিয়েছেন, তাঁর বা শুভশ্রীর কোনও কৃষিজমি নেই। হালিশহরে প্রায় ১৩ হাজার ৫০৩ বর্গফুটের বাস্তু জমি রয়েছে তাঁর। শুভশ্রীর সোনারপুরে ১,৭৯৭ বর্গফুটের বাস্তু জমি রয়েছে। কসবায় রাজের ২০৩০ বর্গফুটের একটি দফতর রয়েছে। ওই দফতরের এখন বাজারমূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা। আনন্দপুরের আর্বানায় রাজের ২,৩৭১ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। তার বর্তমান বাজারমূল্য ৪ কোটি টাকা। তিলজলায় শুভশ্রীর একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার এখন বাজারমূল্য ৮৫ লক্ষ টাকা। রাজের মোট স্থাবর সম্পত্তির মূল্য ৭ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা। শুভশ্রীর মোট স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা।
রাজের ১ কোটি ৫৭ লক্ষ ১৪ হাজার ২৮৬ টাকার ঋণ রয়েছে। শুভশ্রীর ঋণের পরিমাণ ২ কোটি ২৬ লক্ষ ২৪ হাজার ৫৫৪ টাকা।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
হলফনামা অনুসারে, ২০০০ সালে তিনি উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছিলেন। ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র কলেজ থেকে পাশ করেছিলেন। হলফনামা অনুসারে, তিনি উচ্চমাধ্যমিক পাশ।
অপরাধের রেকর্ড
রাজ হলফনামায় জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর এখনও পর্যন্ত রুজু হয়নি। কোনও মামলাও নেই।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত