আজ ইশার জন্মদিন। বেচারি সকাল থেকে শুটিংয়ে। ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সোনাদা’ ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির ছবির কাজ চলছে। আমরা শহরের বাইরে। ওর জন্য বিশেষ কিছু ব্যবস্থা হবে নিশ্চয়ই।
জানেন, এই নিয়ে আমি আর ইশা ছ’টি ছবিতে কাজ করে ফেললাম। সৌজন্যে অবশ্যই আমাদের পরিচালক ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায়। ধ্রুবদা পর্দায় ‘আবির’ আর ‘ঝিনুক’কে এত সুন্দর করে তুলে ধরেছেন যে, দর্শক আমাদের ভালবাসতে বাধ্য হয়েছেন। ইশা যদিও ‘সোনাদা’ আবীর চট্টোপাধ্যায়ের অনুরাগিণী। আবীরদা মানুষটাই এমন। সেটে আমরা সবাই ওঁকে মুগ্ধ চোখে দেখি। ইশা আর আমি শুধুই ভাল বন্ধু। আমার সঙ্গে ‘তু-তু, ম্যায়-ম্যায়’ সম্পর্ক।
কিন্তু যখন ওর পিছনে লাগি, তখন কিন্তু আমি আর আবীরদা একজোট! ইশা মিষ্টি মেয়ে। কখনও রেগে যায় না! হাসতে হাসতে পুরো ব্যাপারটা উপভোগ করে।
ধ্রুবদা ছাড়াও ওর সঙ্গে কাজ করেছি পরমা নেওটিয়ার ‘মিথ্যে প্রেমের গান’ ছবিতে। কাজ করব দুলাল দে-র নতুন ছবি ‘ফাঁদ’-এ। একাধিক কাজ করার ফলে, ওকে কাজ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। বেশ ঠান্ডা, বুদ্ধিদীপ্ত, শিক্ষিত মনের এক ব্যক্তিত্ব। অনেকেই বলেন, ইশার মতো সুন্দরী ভাগ্যিস হাই কোর্টের আইনজীবী হয়ে থেকে যাননি! আমি বলব, নিশ্চয়ই ওই পেশাতেও ইশা পারদর্শী ছিলেন। আর সব পেশাতেই কিন্তু সুন্দরীদের দেখা মেলে। তাই আমার উপলব্ধি, ভাগ্যিস ইশা এসেছিল, আমার সঙ্গে জুটি বেঁধেছিল। তাই না এ রকম জনপ্রিয় একটা জুটি তৈরি হল!
‘সোনাদা’ ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির তিন সদস্য আবীর চট্টোপাধ্যায়, অর্জুন চক্রবর্তী, ইশা সাহা। ছবি: সংগৃহীত।
ইশা কিন্তু ওর দুটো পেশাজীবনের মধ্যে দুর্দান্ত ভারসাম্য রেখেছে। কোনও দিন আইনজীবীর খোলস পরে সেটে আসেনি। বরং আইনজীবীর কালো কোট বাড়িতে যত্ন করে তুলে রেখে, আমাদের মতো হয়ে এসেছে। ফলে, ওকে আমাদের থেকে কখনও আলাদা বলেই মনে হয়নি। আবার অনেকে এ-ও মনে করেন, প্রয়োজন পড়লেই ও আমাদের আইনি পরামর্শ দেয়। মোটেই না। সেটে এসে এ সব কিছুই করে না আমার নায়িকা। উল্টে ‘শুটিং ব্রেক’ পেলে সবাইকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টায় মাতে।
ইশা তুমি এ রকমই থেকো। তোমার গায়ে যেন মাটির গন্ধ থাকে। সুযোগ পেলেই প্রাণ খুলে হেসো। তা হলেই আরও তাজা থাকবে।