এমনিতেই পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যে জুড়ে চলছে হকার উচ্ছেদ, ভাঙা হচ্ছে অস্থায়ী দোকানপাট। সে জন্য একের পর এক স্টেশনে চলেছে বুলডোজ়ার। এ বার বাড়ির বাইরের অংশে অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ উঠল অভিনেতা চন্দ্রচূড় সিংহের বিরুদ্ধে। তাঁর বাড়িতে চলল বুলডোজ়ার।
আরও পড়ুন:
অভিনেতা চন্দ্রচূড় সিংহ থাকেন দিল্লির সন্নিকটে গুরগাঁও এলাকায়। অভিনেতা থাকেন সেখানকার ডিএলএফ চত্বরে। সেখানেই অভিনেতার বাড়ি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে অভিযোগ, তিনি নাকি বাড়িতে অবৈধ নির্মাণ করেছেন এবং জোর করে একটা অংশ দখল করে রেখেছেন। হরিয়ানা সরকারের পুর পরিকল্পনা দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা এসে অভিনেতার বাড়ির বাইরের এই অবৈধ নির্মাণ ভেঙে দেন।
অভিনেতার একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে সমাজমাধ্যমে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বাড়ির বাইরে অভিনেতা দাঁড়িয়ে। বাড়ির সামনে উপস্থিত হয়েছে পুলিশ। বাড়ির বাইরের বেআইনি নির্মাণ ভাঙার পর হাসিমুখেই দেখা গিয়েছে চন্দ্রচূড়কে। তিনি বলেন, ‘‘যাক, বাড়ির ভিতরের কোনও ক্ষতি হয়নি।’’
মুম্বইয়ে কেরিয়ার গড়তে এসে প্রথমেই ধাক্কা পান চন্দ্রচূড়। পর পর বেশ কিছু ছবি বাতিল হয়ে যায়। কথা হওয়ার পরেও ছবিগুলি না হওয়ায় ভেঙে পড়েন চন্দ্রচূড়। সে সময়ই ফিরে গিয়ে দূন স্কুলে সঙ্গীতের শিক্ষক হন। অবশেষে ১৯৯৬-তে স্বপ্নপূরণ। অমিতাভ বচ্চন কর্পোরেশন লিমিটেডের ‘তেরে মেরে সপনে’ ছবিতে সুযোগ পান চন্দ্রচূড়। সে বছরই মুক্তি পায় তাঁর দ্বিতীয় ছবি ‘মাচিস’। বহুল প্রশংসিত হয় তাঁর অভিনয়। তার পরে বেশ কিছু ছবিতে কাজ করেছিলেন তিনি। সেগুলি সে ভাবে দাগ কাটতে পারেনি। আবার তিনি ফর্মে ফিরে আসেন কয়েক বছর পরে। পর পর মুক্তি পায় ‘দাগ দ্য ফায়ার’, ‘কেয়া কহেনা’ এবং ‘জোশ’। বক্সঅফিসে লাগাতার সাফল্যের সুবাদে সমসাময়িক নায়কদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে ফেলে দেন ‘বহিরাগত’ চন্দ্রচূড়।
তবে ঠিক যে সময়ে কেরিয়ার গ্রাফ উপরের দিকে উঠতে শুরু করেছে, সে সময়েই ধাক্কা আসে অন্য দিক দিয়ে। ২০০০ সালে গোয়ার সমুদ্রে জেট স্কি করতে গিয়ে গুরুতর আহত হন চন্দ্রচূড়। উত্তাল ঢেউয়ের দাপটে অল্পের জন্য বেঁচে যায় তাঁর ডান হাত। কাঁধ এবং হাতের সংযোগস্থলে মারাত্মক আঘাতে শুশ্রূষার জন্য দীর্ঘ দিন শুটিংয়ের বাইরে ছিলেন চন্দ্রচূড়। বছর কয়েক আগে স্মিতা সেনের বিপরীতে অভিনয় করেছেন ওয়েব সিরিজ় ‘আরয়া’-তে। ২০০৫ সালে হুমা কুরেশির বিপরীতে ‘বয়ান’ ছবিতে দেখা যায়।