Advertisement
E-Paper

লক্ষ লক্ষ টাকার ঋণ মেটাননি সোহম চক্রবর্তী! থানায় লিখিত অভিযোগের পর হাই কোর্টে শাহিদ ইমাম

শাহিদ আনন্দবাজার ডট কম-কে বলেছেন, টাকা ফেরত চেয়ে একাধিক বার অনুরোধ জানিয়েছিলেন তিনি। সোহমের দাবি, নির্বাচনের আগে তাঁকে অকারণ কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে!

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:৩৭
অভিনেতা-বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ?

অভিনেতা-বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ? ছবি: সংগৃহীত।

সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তাঁর আগে অভিনেতা-বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে হাই কোর্টে মামলা দায়ের করলেন আর এক অভিনেতা-রাজনীতিবিদ শাহিদ ইমাম। আনন্দবাজার ডট কম-এর কাছে শাহিদের অভিযোগ, সোহম তাঁর থেকে ৬৮ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলেন। ঋণের সামান্য অংশ ফেরত দিয়ে নীরব অভিযুক্ত অভিনেতা-বিধায়ক। বদলে শাহিদকে নাকি হুমকি দিচ্ছেন সোহম। সোহম বলেছেন, “হুমকি দেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা। টাকা ফেরত দেব একাধিক বার জানিয়েছি। নির্বাচনের আগে আমায় কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

অভিনয়দুনিয়ায় শাহিদ ‘শুভম’ নামে পরিচিত। তিনি জানিয়েছেন, সোহমের সঙ্গে তাঁর পরিচয় দীর্ঘ দিনের। সেই সুবাদে তিনি ২০২১ সালে অভিনেতা-প্রযোজক সোহমকে ৬৮ লক্ষ টাকা ধার দেন। শাহিদের কথায়, “অভিনয়ের পাশাপাশি সেই সময় আমি তৃণমূল কংগ্রেসের যুবনেতা।” ২০২৩ সালে এসএসসিকাণ্ডে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২০২৩ সালে মুক্তি পান শাহিদ। তিনি বলেন, “সংশোধনাগারে থাকার ফলে আমি টাকা ফেরত চাইতে পারিনি। ২০২৩ সালে জামিন পাই। সংশোধনাগার থেকে বেরিয়ে যোগাযোগ করি সোহমের সঙ্গে। ওঁর থেকে টাকা ফেরত চাই।” শাহিদের কথা অনুযায়ী, সেই সময় দুই দফায় মোট ২৫ লক্ষ টাকা তাঁকে ফেরত দিয়েছিলেন অভিযুক্ত। তার পরেই তিনি নীরব।

অভিযোগ, শাহিদ একাধিক বার পুরো টাকা ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানালেও তাতে নাকি কর্ণপাত করেননি সোহম। উল্টে অভিনেতার তরফ থেকে নাকি অভিযোগকারী হুমকি পেতে থাকেন! শাহিদের দাবি, “দু’বছর অপেক্ষার পর বাধ্য হয়ে সোমবার সোহমের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির মামলা দায়ের করেছি। মঙ্গলবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করি চারু মার্কেট থানায়।” থানায় লিখিত অভিযোগের প্রতিলিপি এবং আইনি নথিপত্র আনন্দবাজার ডট কম-এর হাতে এসেছে।

সুসময়ে সোহম-শাহিদ।

সুসময়ে সোহম-শাহিদ। ছবি: ফেসবুক।

যাঁর বিরুদ্ধে হাই কোর্টে ঋণখেলাপির অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে, সেই অভিযুক্ত সোহম বিষয়টি নিয়ে আর কী বলছেন?

সোহম কিন্তু ঋণ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেননি। বরং সবিস্তার জানিয়েছেন সে সম্পর্কে। তিনি বলেছেন, “২০২১ সালে ‘পাকা দেখা’ ছবির কারণে ৬৮ লক্ষ ঋণ নিয়েছিলাম শাহিদের থেকে। ওঁর আরও বেশি টাকা দেওয়ার কথা ছিল। পরে সেটা দেননি। তখন অন্যদের থেকে বাকি টাকা জোগাড় করি।” এর পর ২৫ লক্ষ টাকা ফেরত দেন। “বাকি ৪৩ লক্ষ টাকাও মিটিয়ে দেব, বার বার বলেছি শাহিদকে। আমার কয়েকটি ছবি আটকে। বাংলা ছবির ব্যবসার অবস্থাও সকলের জানা। ফলে, ছবিমুক্তি না ঘটলে বা হাতে টাকা না এলে কী করে ঋণশোধ করব? শাহিদ আমার অবস্থাটাই বুঝলেন না!”

নির্বাচনের আগে হঠাৎ করে পুরনো ঘটনা প্রকাশ্যে। ঋণখেলাপির অভিযোগ শাসকদলের বিধায়ক-অভিনেতার মাথায়। তা-ও আমার প্রাক্তন দলীয় যুবনেতার থেকে...। ওই প্রসঙ্গ থামিয়ে দিয়ে সোহম বলেন, “আইনি নোটিস পেয়েছি। আমার আইনজীবী বিষয়টি দেখছেন। শাহিদ আইনি পথে হাঁটলে আমিও আইনি পদক্ষেপ করব। তবে উনি কোন কালে যুবনেতা ছিলেন, সেটা জানি না।” সোহমের আক্ষেপ, সামনে নির্বাচন আসছে বলেই হয়তো পূর্বপরিকল্পিত ভাবে তাঁকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

Soham Chakraborty TMCP
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy