×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২৬ জানুয়ারি ২০২১ ই-পেপার

এ বার আত্মীয়রা লক্ষ্মীকে দূর থেকে প্রণাম জানাচ্ছেন

সোনালী চৌধুরী
কলকাতা৩০ অক্টোবর ২০২০ ১৯:৪০
সোনালী চৌধুরী।

সোনালী চৌধুরী।



টানা অনেকগুলো বছর মা একা হাতে সমস্ত দায়িত্ব পালন করেছেন
এক সময় ঠাকুমা ছুটি নিলেন বরাবরের মতো। তাঁর লক্ষ্মী পুজো উঠে এল কলকাতায়, আমাদের বাড়িতে। আমার মায়ের তত্ত্বাবধানে। টানা অনেকগুলো বছর মা একা হাতে সমস্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। মায়ের শরীর খারাপ হওয়ার পর গত সাত বছর ধরে সেই দায়িত্ব আমার কাঁধে। যদিও মা পুরোটাই দেখেশুনে দেন।
আমরা এদেশের। তাই আমাদের দুটো লক্ষ্মীপুজো। এখনও বাগনানের বাড়িতে কালীপুজোর দিন ‘সুখ লক্ষ্মীপুজো’ হয়। আরেকটি আমার ঠাকুমা শুরু করেছিলেন এই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। আজ লক্ষ্মীর সঙ্গে আমরা পুজো করি নারায়ণের। বুঝতেই পারছেন, সিন্নি, ভোগ, প্রসাদ, যজ্ঞ, সব মিলিয়ে বেশ বড় কাণ্ড। প্রতি বছর এই দিনে আমাদের বাড়িতে মানুষের ভিড়ে পা রাখা দায়। করোনাকালে সেই গমগমে ব্যাপার থাকছে না। মা কিডনির পেশেন্ট। তাই আত্মীয়, পরিজন, বন্ধুরা দূর থেকেই প্রণাম জানাচ্ছেন দেবীকে।



তিলের নাড়ু, মুড়ি, চিঁড়ে, মুড়কির মোয়া। বাদ যায়নি কিচ্ছু
তবে প্রতি বছরের মতো এ বছরেও রকমারি নাড়ু হয়েছে। গুড়, চিনির নারকেল নাড়ু তো আছেই। তিলের নাড়ু, মুড়ি, চিঁড়ে, মুড়কির মোয়া। বাদ যায়নি কিচ্ছু। আমিও নাড়ু বানাতে পারি। তবে পাক দিতে পারি না। এরই সঙ্গে নারায়ণের জন্য আলাদা নৈবেদ্য হয়। আমাদের বাড়ি স্পেশ্যাল আর একটা প্রসাদ হয়। চিঁড়ে, নারকেল, তালের ফোপর, সন্দেশ একসঙ্গে মেখে নৈবেদ্য হিসেবে দেওয়া হয় মা লক্ষ্মীকে। দারুণ স্বাদ এই ভোগের। অল্প খিচুড়ি আর আলুর দম রান্না করে ভোগ হিসেবে শুধু দেবীকেই নিবেদন করা হয়।
এত কিছুর সঙ্গে আমার আরেকটি পর্ব থাকবেই থাকবে। ছোট থেকে দেখে এসেছি, শাড়িতে, গয়নায় মা-কাকিমারা সবাই এই দিনে লক্ষ্মীমন্ত। সেই রেওয়াজ আমিই বা বাদ রাখি কেন? আমিও বেছে নিই লাল বা কোনও উজ্জ্বল রঙের শাড়ি। সঙ্গে সোনার গয়না। বছরের এই একটা দিন মনের সুখে গয়না, শাড়িতে সেজে যেন ‘জ্যান্ত লক্ষ্মী’ হয়ে উঠি।

Advertisement