কিছু দিন আগে অভিনেত্রী দেবযানী চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন তিনি আর ছোটপর্দায় অভিনয় করতে চান না। তার পরে প্রবীণ অভিনেত্রী রত্না ঘোষালও জানিয়েছিলেন অভিনয় থেকে দূরে সরে থাকার কথা। এ বার অভিনেত্রী গুলশনারা খাতুন জানিয়ে দিলেন, তিনি আর অভিনয় পেশার সঙ্গেই যুক্ত থাকতে চান না। ২০১৮ থেকে ক্যামেরার সামনে অভিনয় করছেন তিনি। হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত?
অনেক দিন ধরেই এই সিদ্ধান্তে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন গুলশনারা। মঞ্চে অভিনয় দিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু। তার পরে আট বছর ধরে বিভিন্ন ধারাবাহিক, সিনেমায় করছেন। অভিনেত্রী বললেন, “পেশাদার হিসাবে বলছি, আমার কর্মক্ষেত্রে প্রতিটি মুহূর্তে অবনমন দেখছি। তা কাজের পরিবেশ হোক কিংবা আদর্শ। মনে হয়েছে, এই পেশায় থাকতে হলে যা যা যোগ্যতা লাগে, সেটা আমার নেই। আমি শুধু অভিনয়টুকু করার চেষ্টা করি।”
পোষ্যদের নিয়েই অর্ধেক সময় কেটে যায় অভিনেত্রী গুলশানারার। ছবি: ফেসবুক।
ডিসেম্বরে শেষ শুটিং করেছেন তিনি। ‘কনে দেখা আলো’ ধারাবাহিকে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। বড়পর্দা, ছোটপর্দা সর্বত্রই কাজের অনিশ্চয়তা। এই প্রসঙ্গে আগেও আলোচনা হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে গুলশনারা বললেন, “ধারাবাহিকের কাজও ধারাবাহিক ভাবে কী করে বন্ধ হয়ে যায়, আমি জানি না।” অভিনেত্রী জানালেন, কী কী ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁকে।
ছোটপর্দা এবং বড়পর্দায় এমন অনেক শিল্পীই আছেন, যাঁরা একসঙ্গে একের বেশি ধারাবাহিকে অভিনয় করেন। অনেক সময় একটি কাজ করতে গিয়ে অন্য কাজ হাতছাড়াও হয়ে যায় তাঁদের। গুলশনারা যোগ করেন, “আমরা তো দিনমজুর। আমি তো জানি না আমার ১০০ দিনের কাজটাও আছে কিনা। হয়তো জানি একটি সংশ্লিষ্ট ধারাবাহিকে ১০ দিনের কাজ রয়েছে। যেহেতু আমি ঠিকে শ্রমিক, তাই আরও তিন-চারটে জায়গা কাজ করাটাই স্বাভাবিক। সংসার চালাতে হবে তো। মাচার অনুষ্ঠান করার পারদর্শিতা নেই আমার। না আছে জিম, বিউটি পার্লার বা অন্য কিছু। তাই তিন চার জায়গায় আমাকে কাজ করতে হবে।” এখানেই অনেক সমস্যায় পড়তে হয়েছে অভিনেত্রীকে।
একটি ধারাবাহিকে অভিনয় করার সময়ে যদি অন্য নতুন কোনও কাজের সুযোগ আসে, তখন তা হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। অভিনেত্রী যোগ করেন, “কোনও একটি কাজ করার সময়ে অন্য কোনও সুযোগ এলে, তখন আর সংশ্লিষ্ট কাজ থেকে ‘লুকসেটে’র জন্যও ছাড়তে পারছে না। জানানো হচ্ছে, এতটাই গুরুত্বপূর্ণ আমার ট্র্যাক যে তখন আমাকে ছাড়াই যাবে না। ফলে হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে সেই নতুন কাজ। এ দিকে পুরনো কাজেও হয়তো আমার চরিত্রের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যাচ্ছে।” অনেক বারই এই ধরনের সমস্যায় ভুগতে হয়েছে।
অভিনেত্রীর হাতের তৈরি কাজ আর প্রিয় পোষ্য। ছবি: ফেসবুক।
করোনা পরিস্থিতির পরে পারিশ্রমিক পাওয়ার ক্ষেত্রেও অনেক ধরনের টালমাটাল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁকে। তিনি বলেন, “আমি কোনও একটি চরিত্রের জন্য এক রকমের পারিশ্রমিক চাইছি। অন্য এক জন হয়তো অনেকটা কম পারিশ্রমিকে রাজি হয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের পারদর্শিতা নিয়ে কথা বলার অধিকার আমার নেই।” জনসংযোগে তিনি দুর্বল বলে দাবি অভিনেত্রীর। কাজ ছাড়া পার্টি, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাওয়ার মতো ইচ্ছা থাকে না তাঁর। তিনি বলেন, “অবসাদ নিয়েও আমি লড়াই করেছি। যখন দেখছি যে, কয়েক মাস টানা কাজ থাকছে না, আবার অবসাদ গ্রাস করছে। দাদা-দিদিদের তুষ্ট করতে পারছি না।” তবে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, তিনি যে খুব একটা কাউকে তুষ্ট করতে চান তেমনও নয়। কাজের মাধ্যমে যেটুকু করা সম্ভব, সেটাই করবেন তিনি। তাই গুলশনারা জানিয়েছেন, তিনি আর লড়াই করতে পারবেন না। বললেন, “বয়সও হচ্ছে, আর ইচ্ছা নেই। এটা একটা অসম লড়াই।” মঞ্চে অভিনয় ছাড়া আর কোনও মাধ্যমেই কাজ করতে চান না তিনি।
আগামী দিনে কী করবেন গুলশনারা? অভিনেত্রী জানিয়েছেন, অনেক দিন ধরেই তিনি ‘স্লো লাইফ’ কাটানোর ভাবনাচিন্তা করছিলেন। সেই দিকেই এগোবেন। তাঁর ১৯টা পোষ্য বেড়াল আছে। তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে চান। এ ছাড়া পরিবারের সবাই, গাছপালা— সবকিছু নিয়ে শান্তিতে কাটাতে চান। আর তা ছাড়া নিজে বিভিন্ন ধরনের হাতের কাজ জানেন, আশা করছেন ভবিষ্যতে কোনও সমস্যা হবে না।