Advertisement
E-Paper

প্রথম স্ত্রীর পরে মুখ খুললেন বিধায়ক হিরণের দ্বিতীয় স্ত্রী, অনিন্দিতার দাবিতে কার্যত সিলমোহরই দিলেন ঋতিকা!

বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। মঙ্গলবার প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তাঁদের আইনি বিচ্ছেদ হয়নি। এ বার মুখ খুললেন দ্বিতীয় স্ত্রী ঋতিকা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:১৫
হিরণের সঙ্গে বিয়ের বৈধতা নিয়ে মুখ খুললেন দ্বিতীয় স্ত্রী ঋতিকা গিরি।

হিরণের সঙ্গে বিয়ের বৈধতা নিয়ে মুখ খুললেন দ্বিতীয় স্ত্রী ঋতিকা গিরি। ছবি: সংগৃহীত।

প্রথমার পরে মুখ খুললেন দ্বিতীয়া। তবে বিবাহের বৈধতা নিয়ে বিতর্ক তাতে জোরালোই হল।

বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় মঙ্গলবার আনন্দবাজার ডট কম-এর কাছে দাবি করেন, হিরণের সঙ্গে তাঁর আইনি বিচ্ছেদই হয়নি। ফলে হিরণের দ্বিতীয় বিয়ে আইনসম্মত নয়। বুধবার বিধায়কের প্রথম স্ত্রীর সেই দাবিতেই কার্যত সিলমোহর দিল দ্বিতীয় স্ত্রী ঋতিকা গিরির বক্তব্য। হিরণের সঙ্গে নিজের বিবাহের কথা স্বীকার করে সমাজমাধ্যমে ঋতিকা লিখেছেন, “অনিন্দিতাকে বিবাহবিচ্ছেদের আইনি নোটিস আগেই পাঠানো হয়েছে।” তবে হিরণ আর অনিন্দিতার বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া যে সম্পন্ন হয়েছে, সে কথা কোথাও উল্লেখ করেননি দ্বিতীয় স্ত্রী ঋতিকা।

ফেসবুকে হিরণের দ্বিতীয় স্ত্রী ঋতিকার বয়ান।

ফেসবুকে হিরণের দ্বিতীয় স্ত্রী ঋতিকার বয়ান। ছবি: ফেসবুক।

মঙ্গলবার দুপুরে বারাণসী ঘাটে ঋতিকার সঙ্গে বিয়ের কিছু মুহূর্তের ছবি ভাগ করে নেন হিরণ। তার পর থেকেই তরজার শুরু। বিকেলের দিকে প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা দাবি করেন, “এই বিয়ে বেআইনি। আমার সঙ্গে ওর বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি। এই বাড়িতে ওর (হিরণ) রীতিমতো যাতায়াত ছিল।”

তার পর থেকে ওঠে প্রশ্নের ঝড়। সে সব প্রশ্নেরই উত্তর দিতে এবং তাঁর বিয়ে নিয়ে সমাজের অতিরিক্ত ‘আগ্রহ’ দেখে অস্বস্তির কথা জানাতে সমাজমাধ্যমে হিরণ ও তাঁর সম্পর্ক প্রসঙ্গে সবিস্তার লেখেন ঋতিকা। সেখানে তিনি দাবি করেন, এ বিয়ে নিয়ে প্রশ্নের কোনও অবকাশ নেই, কারণ অনিন্দিতাকে আগেই বিচ্ছেদের নোটিস পাঠানো আছে। ফলে তাঁর এবং হিরণের বিবাহ বৈধ। আর সেখানেই গোলমাল।

ঋতিকার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে একাধিক প্রশ্ন উঠে আসছে। বিবাহবিচ্ছেদের আইনি চিঠি পাঠানো মানেই কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যাওয়া? এর জবাবে কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী অতনু রায়চৌধুরী বলেন, “নিজের স্ত্রী বা স্বামীকে কেউ বিচ্ছেদের নোটিস পাঠালেই যে বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যাচ্ছে, এমনটা নয়। বিবাহবিচ্ছেদের শুট ফাইল করতে হয়। হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট বা স্পেশ্যাল ম্যারেজ অ্যাক্টের নিয়ম অনুযায়ী বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করতে হয়। সেখানে জেলা আদালতের বিচারপতি যতক্ষণ না সিলমোহর দিচ্ছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত বিচ্ছেদ কার্যকর হচ্ছে না। ফলে বিচ্ছেদের নোটিস পাঠানো মানেই কেউ দ্বিতীয় বিয়ের জন্য অনুমতি পাচ্ছেন, তা নয়, অন্তত আইনত নয়।”

মঙ্গলবারের ঘটনার পর থেকে হিরণের সঙ্গে বার বার আনন্দবাজার ডট কমের তরফে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তাঁর তরফে কোনও উত্তর মেলেনি। ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টা কাটার পরে বিজেপি বিধায়কের দ্বিতীয় স্ত্রী সমাজমাধ্যমে আরও লেখেন, “এই মুহূর্তে আমি মানসিক ভাবে অস্থির হয়ে আছি এবং শারীরিক ভাবেও অসুস্থ। সম্প্রতি আমার একটি অস্ত্রোপচার হয়েছে। তাই চিকিৎসক এই মুহূর্তে বিশ্রাম নিতে বলেছেন।” এ কথা লেখার সঙ্গে ঋতিকা আরও যোগ করেন, “আমার বয়স সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। ওঁকে বিবাহবিচ্ছেদের আইনি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এই বিয়ে আমরা আগেই করেছি। গত ৫ বছর বছর ধরে একসঙ্গে আছি এবং এই সব বিষয়ে অনিন্দিতা জানতেন।”

যদিও মঙ্গলবার অনিন্দিতা আনন্দবাজার ডট কম-কে জানিয়েছিলেন, তিনি হিরণ এবং ঋতিকার সম্পর্কের বিষয়ে কানাঘুষো শুনেছিলেন। নিশ্চিত কিছু জানতেন না। এমনকি, অনিন্দিতা বলেছিলেন, “এই সম্পর্কের বিষয়ে হিরণকে প্রশ্ন করলে ও আমাকে বলেছিল যে মেয়েটি ওকে ব্ল্যাকমেল করছে। আমি অভিমান করে ওর সঙ্গে কম কথা বলতাম। মেয়ের সঙ্গে মাঝেমাঝেই দেখা করতে আসত হিরণ। ২০২৫ সালের নতুন বছরের উদ্‌যাপনও আমরা একসঙ্গে করেছিলাম।”

কিন্তু, বুধবার ঋতিকার লেখায় গোটা চিত্রনাট্যই যেন বদলে গেল। হিরণের দ্বিতীয় স্ত্রী লেখেন, “আমার অ্যাকাউন্ট পাবলিক ছিল। কোনও কিছুই লুকোনো ছিল না। তা হলে এত বছর উনি কোথায় ছিলেন এবং কেন তখন তিনি কোনও প্রশ্ন তোলেননি?”

Hiran Chatterjee Bengali Actor ritika giri hiran wife Tollywood Actor
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy