‘সোনার কেল্লা’ নয়। এ বার ‘সোনার পাহাড়’। মুকুল নয়। এ বার শ্রীজাত। সত্যজিত্ নন। এ বার পরমব্রত

মুক্তি পেতে চলেছে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের পরিচালনায় ‘সোনার পাহাড়।’ বহুদিন পরে বাংলা ছবিতে দেখা যাবে তনুজাকে। রয়েছে ছোট্ট শ্রীজাত। কেমন ছিল ‘সোনার পাহাড়’-এর জার্নি?ব্যাক স্টোরি শোনালেন পরমব্রত।

‘আস্তাবলের গন্ধ’

পরমব্রতর মা সুনেত্রা ঘটক একটি বই লিখেছিলেন, ‘আস্তাবলের গন্ধ’। ১৯৮৮-তে সে বই প্রথম প্রকাশিত হয়। যেখানে এক শিশুর চোখ দিয়ে পৃথিবীকে দেখার চেষ্টা ছিল। ‘‘মা চলে গেল। মায়ের অনুপস্থিতিতে ওই গল্প আবার নাড়া দিয়েছিল। পরে আরও কিছু গল্প নিয়ে মায়ের ওই বইটা রিপ্রিন্ট করেছিলাম। নাম দিয়েছিলাম, ‘একদিন যেও না হারিয়ে’। মায়ের লেখা কিছু গল্প খুব ইন্সপায়ারিং,’’ শেয়ার করছিলেন পরিচালক। এই সব গল্প থেকেই কোথাও ‘সোনার পাহাড়’-এর জমি তৈরি হয়েছিল।

আরও পড়ুন, লোকনাথ কে? ‘উনি ধ্যান করতেন’, উত্তর পর্দার লোকনাথের

সিনেমা তৈরিটা আইডিয়াল প্ল্যাটফর্ম

পরমব্রতর এক বন্ধু একা বয়স্কদের নিয়ে কাজ করেন। তাঁর সোশ্যাল প্রজেক্টের আওতায় শিশুরাও রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘ঠিক সেসময়েই ওই প্রজেক্টের কথাও জানতে পারি। ফলে একদিকে মায়ের গল্প পড়ে মনে হচ্ছিল কিছু একটা করতে হবে। আবার ওই প্রজেক্ট...। সে সব থেকেই মনে হল, সিনেমা তৈরিটা আইডিয়াল প্ল্যাটফর্ম হতে পারে।’’


‘সোনার পাহাড়’-এর দুই প্রধান চরিত্র। তনুজা এবং শ্রীজাত। ছবি: টুইটারের সৌজন্যে।

সত্তর আর সাত

এই ছবিতে সত্তর আর সাত বছরের দু’জন মানুষের সম্পর্ক নিয়ে গল্প বুনেছেন পরমব্রত। এক শিশু যখন এক মধ্যবিত্ত বা উচ্চমধ্যবিত্ত মহিলার বাড়িতে পৌঁছয়, কী হয় তার পর? কী ভাবে ওই মহিলার জীবন পরিবর্তন হয়ে যায়, সেটা নিয়েই গল্প।

প্রথম ভাবনায় তনুজা ছিলেন না!

তনুজা মানেই বাঙালির কাছে নস্ট্যালজিয়া। ‘তিন ভুবনের পারে’, ‘দেয়া নেয়া’, ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’, ‘প্রথম কদম ফুল’— সিনে ইতিহাসে একের পর এক মন ভাল করা ছবির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন তনুজা। দীর্ঘদিন পর ‘সোনার পাহাড়’-এর মাধ্যমে ফের বাংলা ছবিতে ফিরছেন তিনি। কিন্তু তাঁকে কাস্ট করার কথা প্রথমে ভাবেননি পরিচালক। পরমব্রত বললেন, ‘‘আমি আর পাভেল গল্পটা লিখেছিলাম। তার পর আমাদের মতো করে কিছু নাম ভেবেছিলাম। টু বি অনেস্ট, প্রথমেই কিন্তু তনুজা আন্টির কথা মাথায় আসেনি। আসলে এমন একটা মুখ খুঁজছিলাম যাঁকে আমরা অনস্ক্রিন অনেকদিন দেখিনি। এমন একটা মুখ যাতে বয়স এবং অভিজ্ঞতার ছাপ রয়েছে। যাকে মা বা মাসি হিসেবে আমরা সহজেই মেনে নিতে পারব। সত্যি বলতে কী, এত অসাধারণ সব ছবিতে যে অভিনয় করেছেন উনি তা নিয়ে কোনও মাথাব্যথা নেই। খুব যে নিজেকে মেনটেন করেন তা-ও নয়। আর আমার ঠিক এটাই দরকার ছিল।’’

আরও পড়ুন, ‘আমাকে শুনতে হয়েছিল, কীর্তন? কী হবে এটা করে?’

‘ঘ্যানঘ্যান করবে না’

তনুজাকে কাস্ট করার কথা ভাবার পর তনুজাকে কনভিন্স করানো কি খুব কঠিন ছিল? ‘‘তনুজা আন্টি খুব তাড়াতাড়ি ডিসিশন নেন। প্রথম দেখাতেই বলেছিলেন, ‘‘শোনো আমার ভাল লাগবে করব। না লাগলে করব না। সেটা নিয়ে কিন্তু ঘ্যানঘ্যান করবে না।’’ হাসতে হাসতে বললেন পরমব্রত। তবে গল্পটা শুনলে ওঁর ভাল লাগবে সেই কনফিডেন্সটা প্রথম থেকেই তাঁর ছিল। গল্প শুনে নাকি তনুজা বলেছিলেন, ‘‘প্রচন্ড সেনসিটিভ গল্প ভেবেছ। চল লাঞ্চ করবে।’’ সে দিনের কথা ভেবে আজও অবাক হয়ে যান পরমব্রত। মিঠে স্মৃতিতে হাত রেখে বললেন, ‘‘তনুজা আন্টির কথা শুনে আমি তো মানে...ছবিটা করবেন কিনা বুঝতে পারছি না। আমার ওই অবস্থা দেখে বললেন, ‘‘...বলার কিছু নেই। করছি ছবিটা। শুটিংয়ের সাতদিন আগে আমাকে স্ক্রিপ্ট পাঠাবে।’’


শুটিং চলছে...।— টুইটারের সৌজন্যে।

তনুজাকে নিয়ে কাজ করাটা...

‘‘কলকাতার অনেক শিল্পীর থেকে তনুজাকে নিয়ে কাজ করাটা কম ঝামেলার’’— ঠিক এটাই বললেন পরিচালক পরমব্রত। তাঁর মতে, এত বড় মাপের একজন অভিনেত্রীকে নিয়ে কাজ করার সুবিধে-অসুবিধে দু’টোই থাকে। কিন্তু এক্ষেত্রে নাকি অসুবিধের দিকটা একেবারে অ্যাবসেন্ট ছিল। পরমব্রতর কথা: ‘‘ভাবতেই হত না যে তনুজা মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে কাজ করছি। জানেন, উনি ছোটবেলার এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে শুটিং করতে চলে এসেছিলেন। কোনও ম্যানেজার, পার্সোনাল মেকআপম্যান, হেয়ার ড্রেসার কেউ নেই।’’

আরও পড়ুন, নচিকেতার গানটা কি আপনাকে নিয়ে লেখা? রাজশ্রী বললেন...

শ্রীজাত চমকে দেবে

এই ছবির খুদে অভিনেতা শ্রীজাতকে এক নাটকের স্কুলে প্রথম দেখেছিলেন পরিচালক। সেখানে নাটক শিখতে যেত খুদে। তখনই ভাল লেগে যায়। তবে ‘সোনার পাহাড়’-এর জন্য বয়সটা তখন অনেকটাই কম ছিল। পরে ছবি শুরুর আগে ওকে ডেকেছিলেন পরমব্রত। ‘‘দেখলাম, আমার ছবির জন্য ওর বয়সটা পারফেক্ট। শ্রীজাত খুবই বুদ্ধিমান। ও কতটা শার্প ভাবা যায় না,’’ বললেন পরমব্রত।

প্রাথমিক পরিচয় অভিনেতা

নিজে পরিচালক বলেই কি ‘সোনার পাহাড়’-এ অভিনয়ও করছেন পরমব্রত? এ প্রশ্নে পরমব্রতর যুক্তি: ‘‘আসলে বাংলায় এখনও যেহেতু আমার প্রাথমিক পরিচয় অভিনেতা, তাই কোনও ছবির সঙ্গে আমার নাম জড়িয়ে থাকলে সাধারণ দর্শকের একটা এক্সপেকটেশন থাকে আমি অভিনয় করব। কখনও তাঁরা ভাবেন, আমি শুধুই অভিনয় করব। তাই সুযোগ ছিল বলে চরিত্রটা করলাম।’’