“তুমি নরম ফুলের গান, তুমি গরম ভাতের ভাপ... আমি তোমার ছায়ায় ছায়ায় থাকি মা।” ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, দেব, জিৎ, অঙ্কুশ কিংবা মিমি চক্রবর্তী— প্রত্যেকের সমাজমাধ্যমে আজ এই গানের সুর ভেসে বেড়াচ্ছে। আজ আন্তর্জাতিক মাতৃদিবস। পর্দায় যত বড় তারকাই হোন, মাকে ছাড়া তাঁরা অচল।
ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত আর তাঁর মা। ফাইল চিত্র।
২০২৪-এ মাকে হারিয়েছেন ঋতুপর্ণা। তবু তিনি আজও মায়ের ছায়ায় বাঁচেন। সে কথা উল্লেখ করে তিনি মায়ের সঙ্গে পুরনো ছবি ভাগ করে নিয়েছেন। জানিয়েছেন পুরনো স্মৃতি। যে কোনও ভাল খবর মায়ের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া, মায়ের হাতের ভালমন্দ রান্না, স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া হলে মায়ের কাছে নালিশ, সঙ্গে সঙ্গে জামাইয়ের পক্ষ নিয়ে তাঁর মায়ের কথা বলা—সব মনে পড়েছে অভিনেত্রীর। বাস্তবে তিনিও দুই সন্তানের মা। তাদের সঙ্গে তোলা ছবিও ভাগ করে নিয়েছেন।
দেব আর তাঁর মা। ছবি: ফেসবুক।
অনুরাগীদের কাছে তিনি শুধু দেব। মায়ের কাছে ছোট্ট দীপক। যখনই বিদেশে শুটিং করতে গিয়েছেন, মাকে সঙ্গে করে নিয়েছেন অভিনেতা-প্রযোজক, যাতে কাজের ফাঁকে মায়ের বিদেশ ঘোরা হয়ে যায়। জন্মদিন থেকে বিজয়া দশমীর প্রণাম কিংবা মাতৃদিবস— দেব আজও তাঁর ‘মায়ের ছেলে’। অভিনেতা জানেন, মায়ের অকৃত্রিম ভালবাসা, স্বার্থত্যাগ আর নীরব সমর্থনের জন্যই তিনি আজ সকলের প্রিয় দেব হয়ে উঠতে পেরেছেন।
ইধিকা পালের সঙ্গে তাঁর মা। ছবি: ফেসবুক।
ইধিকা পাল। মায়ের সঙ্গে তোলা ছবি দিয়ে জানতে চেয়েছেন, মা না থাকলে তিনি আজ কোথায়? এ-ও জানাতে ভোলেননি, একমাত্র মায়ের ভালবাসা নিঃশর্ত।
মায়ের সঙ্গে অঙ্কুশ হাজরা। ছবি: ফেসবুক।
একদম ছোটবেলা থেকে বর্তমান— সব বয়সের অঙ্কুশ হাজরা হাজির তাঁর মায়ের হাত ধরে। কখনও তাঁর সমাজমাধ্যমে মা-বাবা এক ফ্রেমে। কখনও শুধুই তিনি আর তাঁর মা। তাঁর লেখায়, “ক্যাপশনে প্রচুর বড় বড় তোমাকে নিয়ে লিখি। কিন্তু সামনে থেকে একটা সামান্য কথা তোমাকে বলতে পারি না। এমন একটা কথা, যেটা আমার প্রাক্তন প্রেমিকাদের বলে সময় নষ্ট করেছি। কিন্তু যাকে রোজ সেই কথাটা বলা উচিত, তাকেই বলতে পারিনি। সেটা হল, আমি তোমাকেই ভালবাসি মা।”
মিমি চক্রবর্তী আর তাঁর মায়ের একাল, সেকাল। ছবি: ফেসবুক।
মিমি চক্রবর্তী নিজেকে তাঁর পোষ্যদের ‘মা’ বলেন। মানবী মায়ের পাশাপাশি তাই তাঁর বার্তা সারমেয় মায়েদের প্রতিও। অভিনেত্রীর মতে, এরাই পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী মা। কিন্তু যেহেতু এরা মানুষ নয়, তাই সে কথা স্বীকার করতে চায় না। পাশাপাশি, অঙ্কুশের মতো তিনিও বেছে নিয়েছেন জীবনের কিছু মুহূর্ত। সেই সব মুহূর্ত রঙিন তাঁর পাশে তাঁর মায়ের উপস্থিতিতে। কখনও সেটা দোলযাত্রা বা দুর্গাপুজোর উৎসবমুখর মুহূর্ত। কখনও ভরা শীতে বিদেশভ্রমণ।
পার্নো মিত্র আর তাঁর মায়ের ‘পাউটিং’! ছবি: ফেসবুক।
মায়ের সঙ্গে তাঁর মুহূর্তগুলো ভীষণ মিষ্টি। কখনও তিনি আর তাঁর মা ঠোঁট ফুলিয়ে ‘পাউট’ করেছেন। কখনও মাকে চাদরে মুড়িয়ে উষ্ণতায় ভরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। আবার কখনও তাঁরা অবাক হয়ে চেয়ে! পার্নো মিত্র আর তাঁর মায়ের মুহূর্তগুলো এমনই।
জিৎ ছোট থেকে বড় হয়েছেন মায়ের ছায়াতেই। ছবি: ফেসবুক।
জিৎ মদনানি। মেয়ে নবন্যাকে নিয়ে মাতৃদিবস পালনে ব্যস্ত। একটু দূরে তাঁর স্ত্রী মোহনা আর নিজের মা চুটিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন। সেই মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করে মেয়েকে নিয়ে কুর্নিশ জানিয়েছেন উভয়কেই। মায়ের সঙ্গে তোলা আগের আর এখনকার ছবিও ভাগ করে নিতে ভোলেননি জিৎ।