এই মুহূর্তে গোটা দেশে যেন আলোড়ন ফেলে দিয়েছে ‘ধুরন্ধর’। বক্সঅফিসে লক্ষ্মীলাভ প্রায় ১৩০০ কোটির কাছাকাছি। এই সাফল্যের নেপথ্যে অনেকটা যিনি, তিনি পরিচালক আদিত্য ধর। ১৯ মার্চ আসতে চলেছে এই ছবির দ্বিতীয় খণ্ড। চারপাশে তাঁকে নিয়ে এত হইচই। কিন্তু তিনি রয়েছেন আড়ালে। তাঁর ছবির চিত্রনাট্য চুরি করে অন্য পরিচালকেরা ১০০ কোটি আয় করেছেন, দাবি আদিত্যের। তবে এই মুহূর্তে এই পরিচালকের নিজের অর্জিত অর্থের পরিমাণ নেহাত কম নয়।
১২ মার্চ ৪২-এ পা দিলেন আদিত্য। ২০০০ সাল থেকে হিন্দি সিনেমায় কাজ করছেন। যদিও প্রথম জীবনে গীতিকার হিসেবে কাজ করেন। তার পর সহকারী পরিচালক, তার পর কাহিনিকার থেকে পরিচালকে উত্তরণ হয় আদিত্যের। পারিবারিক নাম ছিল না। ফলে বহু বছর ধরে বলিউডে মাটি কামড়ে পড়ে থেকে নিজের পোক্ত জায়গা তৈরি করেছেন আদিত্য। তবে মুম্বই শহরে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা খুব সহজ ছিল না দিল্লির আদিত্যের।
পরিচালক হওয়ার আগে আদিত্য মূলত চিত্রনাট্যকার হিসেবে কাজ শুরু করেন। তার পর চিত্রনাট্য লেখার মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রিতে ক্রমশ পরিচিতি পেতে শুরু করেন। তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘আক্রোশ’ এবং ‘তেজ়’। এই সব ছবিতে কাজের অভিজ্ঞতা দিয়েই তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করেন। বিভিন্ন সময় আদিত্য দাবি করেছেন, তাঁর বহু ছবির চিত্রনাট্য চুরি হয়েছে। আদিত্যের কথায়,‘‘আমার চিত্রনাট্য বহুবার চুরি হয়েছে। ওই একই চিত্রনাট্যে সিনেমা বানিয়ে অন্য পরিচালক ১০০ কোটি রোজগার করেছে।’’ যদিও কঠিন সময়ে তাঁর পরিবার পাশে ছিল, যার কারণেই হার মানেননি তিনি।
আরও পড়ুন:
২০১৩ সাল থেকে চেষ্টা করেছেন পরিচালক হওয়ার। কিন্তু পারেননি। ২০১৬ সালে ক্যাটরিনা কইফ ও ফাওয়াদ খানকে নিয়ে ছবি তৈরি করার কথা ছিল। কিন্তু, সেই সময় ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হতেই সেই ছবি থেকে সরে দাঁড়ান প্রযোজক কর্ণ জোহর। যার ফলে সে বছরও আশাহত হন। শেষমেশ ২০১৯ সালে ‘উরি: দ্য সার্জিকাল স্ট্রাইক’ ছবির মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেন আদিত্য। প্রথম ছবি এনে দেয় জাতীয় পুরস্কার। বক্সঅফিসে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা আয় করে তাঁর ছবি। তার পরে ‘আর্টিকল ৩৭০’-এর মতো ছবি তৈরি করেছেন। তার পরই ২০২৫ সালে মুক্তি পায় তাঁর ‘ধুরন্ধর’। তার পরই বক্সঅফিসে ঝড় তোলে এই ছবি। জাতীয়তাবাদী গল্প নিয়ে তৈরি এই ছবি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে সমালোচকদের মধ্যে। অনেকেই একে রাজনৈতিক মদতপুষ্ট ছবি বলে দাগিয়ে দিয়েছেন। তবু এত কিছুর মধ্যে নীরব আদিত্য। তাঁর কেরিয়ারে তিনটে ছবি করে আয় করেছেন প্রায় ১০০ কোটি। পরিচালক হিসেবে পারিশ্রমিক নেন প্রায় ৮ থেকে ১০ কোটি। এ ছাড়াও মুম্বইয়ে তাঁর বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে, বাড়ি রয়েছে চণ্ডীগড়ে। হিমাচলেও বাড়ি রয়েছে আদিত্যের, একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি। যেগুলির এক একটির দাম প্রায় কোটির উপরে।
গত বছর এমন সাফল্যের পরেও অন্তরালে আদিত্য। এ বার ‘ধুরন্ধর ২’ মুক্তি পর বক্সঅফিসে কেমন প্রভাব ফেলে সেটা সময় বলবে।