রহস্য-রোমাঞ্চ কিংবা ভৌতিক— পরিচালক অভিরূপ ঘোষের প্রিয় বিষয়। প্রথম তালিকায় যদি ছায়াছবি ‘মৃগয়া’ বা সিরিজ় ‘কালীপটকা’ হয়, দ্বিতীয় তালিকায় তাঁর ছবি ‘কালরাত্রি’। ছবির শুটিং শেষ মঙ্গলবার। সোমবার পরিচালক আনন্দবাজার ডট কম-কে জানালেন, তাঁর সেটে ঘটে যাওয়া কিছু অস্বাভাবিক ঘটনার কথা। একই সঙ্গে প্রকাশ্যে ছবির প্রত্যেকটি চরিত্রের ‘লুক’।
আরও পড়ুন:
মনোজ সেনের জনপ্রিয় উপন্যাস ‘কালরাত্রি’ ছবির পটভূমিকায়। ১৯৫০ সালের একটি গ্রামীণ বর্ধিষ্ণু জমিদারবাড়ি। গ্রাম জুড়ে অশরীরীর কালো ছায়া। প্রায় প্রতি দিন গ্রামবাসী খুন হচ্ছেন। রক্তশূন্য তাঁদের দেহ। কে, কী ভাবে মেরে ফেলছে এঁদের? পর্দায় সেই রহস্য ভেদ করবেন পরিচালক। বানতলার নলবনে বিস্তৃত গ্রামের সেট। বোলপুর-সহ অন্যান্য জায়গার পাশাপাশি এখানেও শুটিং হচ্ছে। কাজের ফাঁকে শুটিংয়ের গল্প পরিচালকের মুখে। “ছোটদের গল্পের বইয়ে যে রকম ভূতের গল্প থাকে, ঠিক সেই স্বাদ পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলাম। তাই মনোজবাবুর গল্প বেছেছি।” কিন্তু শুটিং করতে গিয়ে তিনি দেখেন, একের পর এক কিছু না কিছু ঘটছেই! “হয় যন্ত্র ভাঙছে, নয় কেউ না কেউ অসুস্থ! প্রথম প্রথম অস্বস্তি হত। এখন মানিয়ে নিয়েছি। আর এর থেকে বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি এখনও।”
‘কালরাত্রি’ ছবিতে ঋত্বিক চক্রবর্তী, অনির্বাণ চক্রবর্তী। ছবি: সংগৃহীত।
রাত নামলে বানতলা নিঝুম। গা ছমছমে পরিবেশে শুটিং করে যদিও বেজায় খুশি বড়পর্দার ‘জমিদার’ গৌরব রায়চৌধুরী। গৌরব মূলত ছোটপর্দার জনপ্রিয় মুখ। বড়পর্দায় এর আগে কাজ করলেও প্রথম বড় চরিত্রে। সে প্রসঙ্গ তুলতেই অভিনেতা বললেন, “এ রকমই আরও নানা কারণে ‘কালরাত্রি’ আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এই ছবিতে দুই বাঘা অভিনেতা অনির্বাণ চক্রবর্তী, ঋত্বিক চক্রবর্তী রয়েছেন। ওঁদের সঙ্গে কাজ করা মানে অভিনয় শেখা।” অনির্বাণ আর গৌরব এক এলাকার বাসিন্দা। উভয়ের ছেলেবেলা কেটেছে বজবজে। “সে কথা জানার পর অনির্বাণদা যেন ‘বন্ধু’ হয়ে গিয়েছেন। একই কথা ঋত্বিকদার ক্ষেত্রেও। দুই দাদা মিলে আমায় খুব আগলাচ্ছেন।”
অভিরূপ ঘোষের ছবিতে বিবৃতি চট্টোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
ছবিতে অনির্বাণ এবং ঋত্বিক যথাক্রমে ‘বসন্ত’ এবং ‘চিত্তবাবু’। এঁরা শহর থেকে আসবেন ভৌতিক গ্রামে। দু’জনে মিলে ভূত তাড়াবেন? পরিচালক, অভিনেতা গৌরব এ বিষয়ে একেবারেই নীরব। চলতি বছরের দ্বিতীয় ভাগে ছবিমুক্তির ইচ্ছা অভিরূপের। গৌরবের পর্দার স্ত্রী এবং বোনের ভূমিকায় অভিনয় করছেন যথাক্রমে দেবলীনা কুমার এবং বিবৃতি চট্টোপাধ্যায়। পরিচালকের ‘মৃগয়া’ ছবিটি তারকাখচিত। এই ছবিতে তারকা অভিনেতার সংখ্যা যেন কম। ছবির বাজেট নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই পদক্ষেপ? প্রশ্ন ছিল অভিরূপের কাছে। পরিচালকের যুক্তি, “গল্প অনুযায়ী অভিনেতা বাছি। বাজেট নিয়ন্ত্রণের জন্য নয়। কারণ, ভৌতিক ছবি বানাতেও ভালই খরচ।” তাঁর মতে, গল্প অনুযায়ী অভিনেতা বাছার ধারা আগামী ছবিতেও বজায় থাকবে।