সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের সময়সীমা বাড়ল। স্ক্রুটিনির জন্য সাত দিন সময়সীমা বাড়ানোর কথা সোমবার ঘোষণা করেছে শীর্ষ আদালত। সেই সঙ্গে জানানো হয়েছে, ইআরও-রা এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। সুপ্রিম কোর্টের ওই নির্দেশের জেরে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ পিছিয়ে যাবে বলে কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে।
ইআরও এবং এইআরও-রা যাতে নথি যাচাই সম্পূর্ণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সেই কারণেই এই বাড়তি সময় দেওয়া হবে বলে জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, মাইক্রো অবজারভারদের এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া কোনও অধিকার নেই। কমিশনের একটি সূত্র জানাচ্ছে, স্ক্রুটিনির জন্য সাত দিন বাড়তি সময় দেওয়া হলে শুনানি (হিয়ারিং) শেষ হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি। তার পর সাত দিন অর্থাৎ ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখ পর্যন্ত চলবে স্ক্রুটিনি। ফলে কমিশনের আগেকার ঘোষণা অনুযায়ী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা থাকলেও তা অন্তত ২১ তারিখ পর্যন্ত পিছোচ্ছে।
শীর্ষ আদালতের নির্দেশের জেরে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ২১ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ হচ্ছে না বলে সোমবার বিকেলে কমিশনের তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তা আরও পিছিয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর। সিইও দফতর সূত্রে খবর, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ইআরও-দের সাত দিন সময় দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ১৪ তারিখের পরে আরও সাত দিন সময় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ইআরও-র কাজ শেষের পরে ডিইও মূল্যায়ন করবেন। তার পরে সিইও দফতর খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত ওই মর্মে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে। তার পরে কমিশন চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে। ফলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ২১ তারিখের পরেই প্রকাশ হবে। প্রসঙ্গত, এর আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) এনুমারেশন পর্বের জন্য সময়সীমা বাড়ানো হয়েছিল কয়েকটি রাজ্যের। কিন্তু সে সময় পশ্চিমবঙ্গের জন্য বাড়তি সময় বরাদ্দ করেনি কমিশন। প্রসঙ্গত, সোমবার দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সুপ্রিম কোর্টে চলে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলার শুনানি। সেখানে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ সব রাজ্যকে স্পষ্ট করে দেয়, এসআইআর-এর কাজে বাধা বরদাস্ত করা হবে না। একই সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে কমিশনের কাজের মিল পাওয়া যাচ্ছে না, এমন মন্তব্যও করেছে আদালত।