হাতে কী কী কাজ?

টেলিভিশনে ‘বকুল কথা’, ‘ইরাবতীর চুপকথা’, ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’ করছি। আর সামনে আছে অরিন্দমদার (শীল) পরিচালনায় ‘মিতিন মাসি’। কোয়েল (মল্লিক) মিতিন মাসি করছে, আমি কোয়েলের বর। আপাতত এই। 

তিনটি ধারাবাহিকে তিন রকম চরিত্র...

হ্যাঁ। ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’ কমেডি। একটা ফিল-গুড ফ্যাক্টর রয়েছে। তো এখানে এমন একটা চরিত্র যে একটা সময় প্রেমে আঘাত পেয়েছিল এবং পরবর্তীকালে ব্রহ্মচর্যের আশ্রয় নেয়। চির কৌমার্যের ব্রত নেয়। মন থেকে হয়তো ইচ্ছে নেই, কিন্তু নিয়েছে... এ রকম একটি চরিত্র। ‘বকুল কথা’-য় আমি নায়কের দাদা। হাসিখুশি, খেতে ভালবাসে এবং খুবই মজাদার। আর ‘ইরাবতীর চুপকথা’-য় ইরাবতীর বড়দা। সে একটু... বলা যেতে পারে... মেরুদণ্ডহীন নয় কিন্তু ইরাবতীর ওপর ডিপেডেন্ট এবং সে খুব একটা কাজকর্ম যোগাড় করে উঠতে পারে না। বোনই তাকে ঘিরে রাখে। 

‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’-এর চরিত্রটা কি কিছুটা শবর সিরিজের নন্দর মতো?

না না, একদমই মিল নেই। দুটো একেবারে আলাদা শেড। নন্দ অবিবাহিত পুলিশ অফিসার। দুটোর কমেডিও ভিন্ন ধাঁচের। দুটো গল্পের পরিস্থিতিও আলাদা।

আরও পড়ুন, ‘কবীর সিং’-এর সাফল্যের পর কতটা পারিশ্রমিক বাড়ালেন শাহিদ?

তিন ধারাবাহিকের নায়ক-নায়িকাদের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক?

‘ইরাবতীর চুপকথা’-র হিরো সৈয়দ আরেফিন তো একেবারে নতুন। ওঁর সঙ্গে প্রথম কাজ করছি। আর মনামির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, ষোল বছর। প্রচুর কাজ করেছি একসঙ্গে... লম্বা লিস্ট... ‘সাহিত্যের সেরা সময়’ থেকে ‘বিন্নি ধানের খই’... অনে...ক, অনেক কাজ। ‘বকুল কথা’-র ঊষসী একেবারেই আমার বোন, বন্ধু। ওঁর সঙ্গে আগে ‘মিলনতিথি’-তে কাজ করেছি। খুব ভালো মেয়ে, ওঁর সঙ্গে পড়াশোনা-অভিনয় নিয়ে কথা হয়। ওখানে মন্টুকাকা (সুমন্ত মুখোপাধ্যায়) আছে। সাহিত্য, সিনেমা, অ্যাক্টিং-এ সব নিয়ে চর্চা করে সময় কেটে যায়। ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’-এর হিরো-হিরোইন একদমই নতুন। আমরা তো অফিশিয়াল আর্টিস্ট। কার সঙ্গে ১২ বছরের সম্পর্ক, কার সঙ্গে ১২ দিনের সম্পর্ক, এটা ম্যাটার করে না। যাদের সঙ্গে একদিনের সম্পর্ক তাঁদের সঙ্গেও অভিনয় করতে হয়। একটা জিনিস হতে পারে একেক জনের সঙ্গে একেক রকম কেমিস্ট্রি থাকে। কিন্তু সেটাই সব নয়। একেবারে নতুনদের সঙ্গেও প্রতিষ্ঠিত করতে হয় যে অনেকদিনের সম্পর্ক।  


ধারাবাহিকের দৃশ্যে অভিনেতা।

আগের ও এখনকার কাজের তফাৎ...

ষোল বছর কাজ করছি। তফাৎ তো হবেই। দর্শক পাল্টেছে, কনটেন্ট পাল্টেছে। এখন ফুটেজ তোলার একটা তাড়া থাকে। যারা ভাল ডিরেক্টর তাঁরা এর মধ্যেও ভাল কাজের চেষ্টা করেন। আগে এত কাজ হত না, এত চ্যানেলও ছিল না। তখন ধীরেসুস্থে কাজ করার স্কোপ ছিল। কিন্তু এখন তাড়াহুড়ো... চোদ্দ ঘণ্টার একটা বাঁধন আছে। সেটা একদিক থেকে ভাল। আমার মনে হয় না ১২ ঘণ্টার পর একজন অভিনেতার আর পারফর্ম করার ক্ষমতা থাকে। আমি তো পারি না। ১২ ঘণ্টার পরেও কাজ করতে হলে অভিনয় খুব টেকনিক্যাল হয়ে যায়। আগে যেটা হত, আমরা যাদের সঙ্গে বেড়ে উঠেছি আমাদের দাদাদের গ্রুপটা... অপুদা (শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়), রণিদা (রজতাভ দত্ত) সকলেই তো টেলিভিশনে ছিল তখন। এখন আস্তে আস্তে অনেকেই টেলিভিশন থেকে বেরিয়ে গেছে। যারা রয়েছে তাদের সঙ্গে... একেকটা হাউসের একেকটা টিম প্রায় তৈরি হয়ে যাচ্ছে, অলিখিত। একটা স্টুডিওতেই ঘোরাফেরা করছি। আগে বন্ধুদের সঙ্গে কাজ করার মজাটা অন্যরকম ছিল, দেখা হলেই উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ত। এখন নতুনরা কাজ করতে আসছে। কাজ করছি তাদের সঙ্গে। মানিয়ে নিতে হচ্ছে। কারণ চিরদিন বন্ধুরাই কাজ করব, নতুন কেউ আসবে না- এরকম তো হতে পারে না।

আরও পড়ুন, যত ক্ষণ না ক্ষমা চাইবেন বয়কট কঙ্গনাকে, জানিয়ে দিলেন সাংবাদিকরা

উষ্ণতা কমে গেছে তাহলে?

না না... আমি বন্ধুদের উষ্ণতার কথা বলছি। উষ্ণতা কমে যাচ্ছে মানে যারা নতুন জেনারেশন তাদের সঙ্গে তো আমার অতটা আলাপ নেই। যখন যে প্রজেক্টে দেখা হচ্ছে, আলাপ হচ্ছে। তখন উষ্ণতা বিনিময় চলছে, হৃদ্যতা গড়ে উঠছে। কিন্তু আমাদের সময়ের ব্যাচটা ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেছে- সেটাই বলতে চাইছি।

অনেকের বক্তব্য এপিসোড ছাড়ার তাড়ায় কাজের ক্ষতি হচ্ছে। আপনিও কি...

টেলিভিশন মানে ডেইলি সোপ। সোপ মানেই সাবান। ডেইলি সোপ তো এ রকম হবেই। সাবান ঘষতে ঘষতে ফেনাতে ফেনাতে যে রকম চলে সে রকমই হবে। আর এখানে টেলিভিশনে যদি ফিল্মের মতো স্কোপ থাকতো তা হলে নিশ্চয় আরও মন দিয়ে কাজ করার কথা হত। কিন্তু এখন তো দেখা যাচ্ছে ফিল্মেও শুটের দিনের সংখ্যা কমানো হচ্ছে। আমরা যেটুকু করি... ফিল্মে এক ধরনের অ্যাক্টিং করব, সিরিয়ালে আর একরকম করব, নাটক করার সময় অন্যরকম করব... এরকম তো হয় না। তিনটে মাধ্যমে তিন ধরনের অভিনয় করতে হয়। কিন্তু আমরা কখনই কম্প্রোমাইজ করি না, যখন কাজ করি হাণ্ড্রেড পারসেন্ট দিয়েই করি। হ্যাঁ, তাড়াহুড়ো তো আছে বটেই। টেলিকাস্টের চাপ থাকে, স্টোরিলাইন চ্যানেলে অ্যাপ্রুভ হওয়ার ব্যাপার থাকে। সেটা অ্যাপ্রুভ হয়ে আসার পরে আমরা পার্ট পড়ি এবং সেটা ডেলিভার করতে হয়। এটা তো এক ধরনের প্র্যাকটিস। সে জন্যই তো এটা আলাদা একটা মাধ্যম। সে জন্যই ‘ডেইলি সোপ’। 


আমার রাজনৈতিক চেতনা কী, সেগুলো আমি আমার কাজের জায়গায় প্রকাশ করব কেন?

এখনও প্রপোজাল পান?

দৌড়ে এসে, ‘আপনাকে আমি ভালবাসি’, ‘আমি পাগল হয়ে গেছি’, ‘আপনাকে ছাড়া বাঁচতে পারছি না’... এরকম অভিজ্ঞতা খুব একটা হয়নি। আমার একটু পুরোন স্কুলিং তো। সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কাটানোর থেকে বই পড়লে, অভিনয় নিয়ে চর্চা করলে, খেলাধুলো বা অন্যকিছু করলে আরও সমৃদ্ধ হব, একজন অভিনেতা হিসেবে।

আর কী করতে চান?

অনেক চরিত্র এসেছে হয়তো মন থেকে ভাবিনি করতে হবে। কিন্তু করতে হয়েছে। করে খুব ভাল লেগেছে। বিভিন্ন ধরণের শেডসওয়ালা চরিত্র করব, আরও আরও আরও... এটাই ইচ্ছে রয়েছে। আর পরিচালনা করতে চাই। অনেকদিনের ইচ্ছে। আমার পরিচিতরা অনেকেই জানে।

আরও পড়ুন, ‘আট বছর ধরে জানতে পারলাম না কে বার্থডে গিফ্ট পাঠায়’

বাংলা ইণ্ডাস্ট্রি তো দুটো শিবিরে বিভক্ত হতে চলেছে...

হ্যাঁ, সেরকমই খবর পাই। এই ব্যাপারে আমি একদমই ইন্টারেস্টেড নই। আমার কাজ তো অভিনয় করা। আমি এটাই চাই যে সকলে মিলেমিশে কাজ করুক এবং কাজটা ভালো হোক। আমার রাজনৈতিক চেতনা কী, সেগুলো আমি আমার কাজের জায়গায় প্রকাশ করব কেন? আমি ওই রাজনীতির রঙে আমার কলিগকে, আমার আশপাশের মানুষদের দেখবই বা কেন? আমার মনে হয়, যাতে আমাদের ইণ্ডাস্ট্রি আরও ফ্লারিশড হয়, আরও বাড়ে... কী কী কারণে বাড়ছে না সেই কারণগুলো বের করে যদি শুধরে নেওয়ার চেষ্টা হয়... সংগঠন বা রঙের বাইরে গিয়ে সব রং মিলেমিশে যদি কাজ করে, তাহলে শুধু ইণ্ডাস্ট্রি নয়, পুরো দেশটাই সুন্দর হয়ে উঠবে। 

(টলিউডের প্রেম, টলিউডের বক্স অফিস, বাংলা সিরিয়ালের মা-বউমার তরজা -বিনোদনের সব খবর আমাদের বিনোদন বিভাগে।) 

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের YouTube Channel - এ।