বলিউডে ত্রাহি রব। নেপথ্যে লরেন্স বিশ্নোই। কখনও তাঁর দল পরিচালক রোহিত শেট্টীর বাড়ির সামনে গুলি চালানোর দায় নিচ্ছে, কখনও অভিনেতা রণবীর সিংহকে পাঠানো হুমকিবার্তার। তার মধ্যেই নয়া তথ্য প্রকাশ্যে। তদন্তকারী অফিসারেরা জানতে পেরেছেন, উত্তরপ্রদেশের জেলায় জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে কুখ্যাত গ্যাংস্টারের সদস্যরা! তারাই নাকি একের পর এক অঘটন ঘটাচ্ছে।
পরিচালক রোহিত তাঁর বাড়ির সামনে গুলিবর্ষণ প্রসঙ্গে এখনও কোনও বিবৃতি দেননি। প্রশাসন নিয়মমাফিক তদন্ত চালাচ্ছে। সেখানেই উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সম্প্রতি, উত্তরপ্রদেশ এবং হরিয়ানা থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে মোট সাত জনকে। এদের জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, সাহারানপুর, মীরাট, বিজনৌর, আমরোহা, ইটাওয়া, ইটা, মোরাদাবাদ, বরেলী, আগ্রা, নয়ডা, গাজিয়াবাদ এবং আলিগড়-সহ উত্তরপ্রদেশের পশ্চিম দিকের জেলাগুলিতে লরেন্স বিশ্নোই গ্যাংয়ের তৎপরতা বেড়েছে। পুলিশ আধিকারিকদের ধারণা, জায়গাগুলো দিল্লি এবং হরিয়ানার নিকটস্থ। সম্ভবত তাই এই জায়গাগুলি বেছে নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, বিশ্নোই নাকি তাঁর গ্যাংয়ে তরুণ এবং প্রভাবশালী পুরুষদের নিয়োগ করছেন। বেকার কিন্তু উচ্চাকাঙ্খীদের পরিকল্পিত ভাবে মগজধোলাই করা হচ্ছে। কম সময়ে প্রচুর অর্থলাভের লোভ দেখিয়ে দলে টানা হচ্ছে তাঁদের। রীতিমতো প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অভিযান পরিচালনার জন্য জেলা-স্তরে ‘মডিউল’ তৈরি করা হয়েছে।
খবর, এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পরেই মুম্বই অপরাধদমন শাখা এবং উত্তরপ্রদেশ স্পেশাল টাস্ক ফোর্স তাদের যৌথ তদন্তের গতি বাড়িয়েছে। সম্ভাব্য প্রশিক্ষণের স্থানগুলি চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। বিশ্নোই গ্যাংয়ের ‘নেটওয়ার্ক’ ভেঙে ফেলার আপ্রাণ চেষ্টা তাদের। তদন্তকারী আধিকারিকেরা আগাম সতর্কতা জারি করেছেন। তাঁদের দাবি, কুখ্যাত গ্যাংয়ের কার্যকলাপ সময়মতো বন্ধ না করা গেলে, আগামী দিনে উত্তরপ্রদেশ একটি নতুন ‘মডিউল কারখানা’য় পরিণত হবে। তার ফল হবে সুদূরপ্রসারী।