Advertisement
E-Paper

বাংলায় এই পরিবর্তন মানুষই এনেছে, কেউ কারও সঙ্গে ‘পরামর্শ’ করে বদল আনেনি: অনুপম খের

বাংলা ছবির প্রযোজনায় ফিরে কলকাতায় এসে সিনেমা, রাজনীতি আর নিজের নতুন কাজ নিয়ে আড্ডা জমালেন অনুপম খের।

অনসূয়া বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ ০৯:০৫
‘শুরু থেকে শুরু’ অনুপম খেরের।

‘শুরু থেকে শুরু’ অনুপম খেরের। ছবি: সংগৃহীত।

বাংলা ছবির প্রযোজনা করেছিলেন ২৬ বছর আগে। ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘বাড়িওয়ালি’ ছিল তাঁর মনের খুব কাছের একটি কাজ। টালিগঞ্জ থেকে দূরে থাকলেও এখানকার শিল্পীদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিলই তাঁর। আবার যখন প্রযোজক হিসাবে ফিরলেন। ইতিমধ্যে রাজ্যে দু-দু’বার রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে গিয়েছে। কলকাতায় এসে সিনেমা, রাজনীতি আর নিজের নতুন কাজ নিয়ে আড্ডা জমালেন অভিনেতা অনুপম খের।

প্রশ্ন: ‘বাড়িওয়ালি’র সেই সাফল্যের এত বছর পরে আবার বাংলায় কাজ আপানর। এতটা সময় লাগল কেন?

অনুপম: ‘বাড়িওয়ালি’ এত ভাল এবং শক্তিশালী ছবি, ঋতুপর্ণ ঘোষের এতটাই সংবেদনশীল একটা কাজ যে পরের ছবিটা তেমনই কিছু বানাতে চেয়েছিলাম। আমি প্রথমে এক জন পেশাদার অভিনেতা, তার পর পরিচালক, একদম শেষে প্রযোজক। এ রকম কোনও গল্প চোখে পড়েনি আমার। আর সত্যি বলতে, আমি খোঁজও করিনি। আসলে হিন্দি সিনেমাই তৈরি করতে চাইছিলাম। শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমি বহু দিন কাজ করছি। তিনিই ‘শুরু থেকে শুরু’ ছবির আইডিয়া নিয়ে আসেন আমার কাছে। আমার প্রথমে খুব ভাল লেগেছিল। তখনই গল্প তৈরি করতে বলি। খসড়া করে অনেক বার শুনিয়েছেন, বেশ কয়েকবার শুনে চিত্রনাট্য পছন্দ হয়। আমি চেয়েছিলাম এই শহরের কেউ যদি আমার পার্টনার হন।

প্রশ্ন: কলকাতার সঙ্গে আপনার যোগাযোগ নিবিড়, এই শহরকে আপনি কেমন ভাবে দেখেছেন?

অনুপম: এখানকার মানুষের জবাব নেই। ভালবাসলে প্রাণ দিয়ে ভালবাসে, নইলে ভালবাসে না। আমি খুব ভাগ্যবান যে বাঙালির ভালবাসা পেয়েছি। আমার সৌভাগ্য যে একচল্লিশ বছর ধরে আমি শুধু ভালবাসাই পেয়েছি।

প্রশ্ন: আর বাঙালি খাবার, পছন্দ?

অনুপম: ঝিঙে-পোস্ত, আলু-পোস্ত, ডাল, বেগুন ভাজা, আহা! আমার কিছু বন্ধু এখানে আছেন। কলকাতায় এলেই বাঙালি খাবার খাওয়ায়।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে অনুপম খেরের সাক্ষাত।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে অনুপম খেরের সাক্ষাত। ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন: বদলের কলকাতাকে কী ভাবে দেখছেন, সম্প্রতি বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে..

অনুপম: মাসখানেক হল নতুন সরকার এসেছে। তাদের কাজ করার সময় দিতে হবে। এই পরিবর্তন মানুষ এনেছে, কেউ কারও সঙ্গে ‘পরামর্শ’ করে বদলায়নি।

প্রশ্ন: কলকাতায় এসে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ কেমন হল?

অনুপম: মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হয়েছে। তাঁর কথা শুনে মনে হল, বাংলায় অনেক বদল আসবে। তিনি যুক্তি দিয়ে এবং সোজাসাপ্টা কথা বলেন। আমাকে তিনি বললেন, ‘নিজের মতো কাজ করুন, যেখানে দরকার শুটিং করবেন। প্রশাসনিক ভাবে সবরকম সাহায্য করা হবে।’ লিডার যদি এমন হন, তাঁর অনুপ্রেরণায় বাকিরাও এমনই হবেন। প্রত্যেকের মধ্যে দক্ষতা এবং স্পষ্টতা আসে। সকলের শরীরী ভাষায় বদল চোখে পড়ছে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘বাড়িওয়ালি’  শক্তিশালী ছবি, সংবেদনশীল কাজ: অনুপম।

ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘বাড়িওয়ালি’ শক্তিশালী ছবি, সংবেদনশীল কাজ: অনুপম। ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন: ঋতুপর্ণ ঘোষকে কতটা মিস করেন?

অনুপম: ঋতুপর্ণকে খুব মিস করি। যদি জানতে পারতেন আমি ফের বাংলা ছবি বানাচ্ছি, তিনি খুব খুশি হতেন। ছাব্বিশ বছর বাংলায় কাজ না করার কারণ ঋতুপর্ণের মতো কাহিনিকার এবং ছবির বিষয়ও দরকার ছিল। আর মানুষ হিসাবেও দারুণ ছিলেন। মুম্বইয়ে গেলে আমাদের বাড়িতেই উঠতেন। বলতেন, ‘হোটেলে থাকব না’। যেমন প্রতিভা তাঁর, তেমনই মানুষ ছিলেন।

প্রশ্ন: টলিউডের শিল্পীদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে? কাদের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা আছে?

অনুপম: যোগাযোগ তো বহুদিনের। বাংলার প্রতিভাদের জন্য ঋণী আমরা। হেমন্ত কুমার, কিশোর কুমার, সত্যজিৎ রায়, হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায়, বাসু চট্টোপাধ্যায়, বিমল রায়, শচীনদেব বর্মণ, রাহুলদেব বর্মণ— দীর্ঘ তালিকা। আর কলকাতা থেকে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের সঙ্গে তো মাঝেমধ্যেই দেখা হয়, কালও দেখা হয়েছে। জিতের ফোন আসে। রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা হল আজ। তিনি দারুণ অভিনেতা। দারুণ গানও গান। আরও বেশি কাজ করা উচিত। কয়েকটি ছবি তো করাই উচিত ওঁর।

প্রশ্ন: টলিউড নানা সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল, আপনি নিশ্চয় জানেন?

অনুপম: ভয়াবহ সমস্ত ঘটনা সবার কাছ থেকে শুনেছি। আমিও ব্যস্ত থাকতাম নিজের কাজ নিয়ে। তবে যা বুঝেছি, প্রতিবাদ এঁদেরই জানানো উচিত ছিল। যা-ই হোক, আবার ‘শুরু থেকে শুরু’ করা যাক! আমার সিনেমার নামও তাই। আর হ্যাঁ, সিনেমায় ‘নিষেধাজ্ঞা’ দুর্ভাগ্যজনক। কোথাও তা হওয়া উচিত নয়। তার ফল যে কী হতে পারে, তা সবাই দেখতে পাচ্ছেন। আশা করি, এ বার ভাল ছবি তৈরি হবে।

আবার ‘শুরু থেকে শুরু’ করা যাক: অনুপম।

আবার ‘শুরু থেকে শুরু’ করা যাক: অনুপম। ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন: ‘বেঙ্গল ফাইল্‌স’ এবং ‘কাশ্মীর ফাইল্‌স’ পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পায়নি। আক্ষেপ ছিল?

অনুপম: হ্যাঁ, আক্ষেপ তো ছিলই। বাংলার মানুষই উত্তর দিয়েছেন। ‘কাশ্মীর ফাইল্‌স’-এর ঘটনা ৩৬ বছর আগেকার। আর বাংলার ঘটনাও বহু দিনের। সেই কাহিনি তো গুরুত্বপূর্ণ। সত্যকে কী করে মিথ্যে বলা যায়? বড়জোর কিছু দিন চেপে রাখা যায়। মিথ্যে করে দেওয়া তো যায় না। বিবেক (অগ্নিহোত্রী) জানিয়েছে, হয়তো এ বার মুক্তি পাবে, মানুষ ইতিহাসটা জানতে পারবেন।

প্রশ্ন: সরকার বদলের পর, চলচ্চিত্রজগতে কী কী বদল আসবে বলে মনে হয়?

অনুপম: মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিলেন। সেই পরিবর্তন এসেছে। আমার বিশ্বাস, নতুন সরকার ভাল কাজ করবে। সবাইকে কাজ করতে দিতে হবে। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এই অনুষ্ঠানে এসেছিলেন ব্যক্তি হিসাবেই শুধু নয়, অর্থমন্ত্রী হিসাবেও। এতেই সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি এতে বোঝা যায়। স্বপন দাশগুপ্ত আমার বন্ধু, সেটা যদিও অন্য ব্যাপার। অর্থমন্ত্রী হিসাবে এসেছেন এটা বড় বিষয়, সরকার বদলের সঙ্গে কনটেন্টের কোনও সম্পর্ক নেই। সরকার কাজের ক্ষেত্রে সুবিধা করে দিতে পারে এবং তা করবে বলেই মনে হচ্ছে।

প্রশ্ন: আপনার অনুরাগীদের জন্য একটা শায়েরি শোনাবেন?

অনুপম: ‘গমকি অন্ধেরি রাত মে দিল কো না বেকারার কর, সুবহা জরুর আয়েগি, সুবহা কা ইন্তেজ়ার কর’।

Anupam Kher Bengali Movie West Bengal Politics WB Government New Bengali Film Rupa Ganguly Firdausul Hasan

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy