সমাজমাধ্যমের এই বিস্ফোরণের কালে বাংলা সিনেমা কি আদৌ সাহসী হয়েছে? সম্প্রতি নিজের নতুন একটি ছবি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কথাপ্রসঙ্গে অভিনেত্রী পাওলি দাম এ ব্যাপারে নিজের বক্তব্য স্পষ্ট করেছেন।
দর্শকের একাংশের মনে পড়তে পারে দেড় দশক আগে শ্রীলঙ্কার পরিচালক বিমুক্তি জয়সুন্দর পরিচালিত বাংলা ছবি ‘ছত্রাক’-এর কথা। ওই ছবিতে পাওলি-অভিনীত চরিত্রের একটি নগ্নদৃশ্য নিয়ে প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল বাংলার দর্শক মহলে। এমনকি, খোদ পাওলিকেও এ জন্য ঘরেবাইরে নানা সমালোচনার শিকার হতে হয়েছিল। তখন সমাজমাধ্যমের এতটা রমরমা ছিল না। তবু নানা কুমন্তব্য শুনতে হয়েছিল অভিনেত্রীকে।
পাওলির মনে হয়, বাঙালি দর্শক ওই দৃশ্য নেওয়ার মতো পরিণতমনস্ক ছিল না সেই সময়। ছবি: সংগৃহীত।
এই দেড় দশকে কি বাংলা সিনেমার দর্শক আধুনিক হয়েছেন? সে প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সেই দিনগুলোর কথা অনিবার্য ভাবে উঠে আসে পাওলির বক্তব্যে। অভিনেত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য, বাঙালি দর্শক ওই দৃশ্য নেওয়ার মতো পরিণতমনস্ক ছিল না সেই সময়। তাঁর কথায়, ‘‘সেই সময় আমি জানতাম, আজ না হোক কাল এই ধরনের কাজ হবেই। সেইসময় কিছুটা সাজানোও হয়েছিল। আমারও মনে হয়েছিল, আমি সময়ের থেকে এগিয়ে কিছু করছি। এটা তো হওয়ারই ছিল। আমি ওই ধরনের ছবি দেখেই বড় হয়েছি।’’
কিন্তু এখন এই ধরনের পরীক্ষানিরীক্ষামূলক কাজ হচ্ছে হামেশাই। এমনকি, সেই সব দৃশ্য বা দৃশ্যের বক্তব্য রীতিমতো ‘সেলিব্রেট’ করা হচ্ছে! অনেক ছবিতেই সেটা দেখা যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গেই পাওলির কথা, ‘‘যাঁরা এখন এই কাজ সেলিব্রেট করেন তাঁরা পরিণত হয়েছেন। আগে তাঁরা অপরিণত ছিলেন। তাঁদের মানসিকতারও পরিবর্তন হয়েছে। তাঁরা শিক্ষিত হয়েছেন।’’ এর পরেই পাওলি বললেন, ‘‘এমনিতেও সেন্সর প্রসঙ্গে আমরা বলে থাকি, বাংলা ছবিতে খোলা পিঠ আর খোলা পা ছাড়া কিছুই দেখানো যায় না। তাই শুধু সেলিব্রেট না করে যদি সাহসী দৃশ্য নিয়ে জড়তা কাটাতে পারেন সিনেমানির্মাতার, তা হলে আখেরে বাংলা ছবির ভালই হবে।’
‘ছত্রাক’ই হোক বা ছবিতে নগ্নতা, পাওলি ওই বিতর্কের মাঝেই নিজের অবস্থান এমন ভাবেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। সেইসময় তিনি জানিয়েছিলেন, যে কোনও চরিত্রই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আর সেটা ফুটিয়ে তুলতে শিল্পের প্রয়োজনে তিনি বহুদূর যেতে রাজি। চিত্রনাট্যের খাতিরে, শিল্পের প্রয়োজনে সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করার ব্যাপারে তাঁর যে কোনও ‘ট্যাবু’ নেই, সে কথাও এক সংবাদমাধ্যমের আলোচনাসভায় জানিয়েছিলেন পাওলি।
এখনকার বাংলা ছবির চিত্রনাট্য প্রসঙ্গেও নিজের মতামত দিয়েছেন পাওলি। তাঁর বক্তব্য, ‘‘পৃথিবী জুড়ে সিনেমার ভাষা বদলেছে, শুধু আমাদের ছবি বাদে। বাংলা ছবি অনেক এগিয়ে ছিল। এখন ‘ছিল’ শব্দটা বলতে খারাপই লাগে। কারণ, এই বাংলা থেকেই আমার কাজ শেখা। এখানকার দর্শকেরই ভালবাসা পাওয়া। তাঁদের ভাল কিছু দেওয়ার আমার চেষ্টা থাকে। মধ্যমেধার কিছু দিতে ইচ্ছে করে না। শুধু তো একার পরিশ্রমে কিছু হয় না। সিনেমা একটা টিমওয়ার্ক। লেখা, পরিচালনা, টেকনিক্যাল দিক— সবটাই উন্নতমানের হতে হবে, আধুনিক মনের হতে হবে। আর অভিনেতা-অভিনেত্রীরা নিজেদের কাজ করবে। তবেই সামগ্রিক সাফল্য আসবে।’’